৬ষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকীতে বিনম্র শ্রদ্ধা
সাহসের বাতিঘর: ফরিদপুরের প্রয়াত সাংবাদিক আহমদ ফিরোজ
- আপডেট সময় : ১১:৩২:৫৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৫
- / 315
আজ অকুতোভয় সাংবাদিক, সাহসী ও মহৎ ব্যক্তিত্ব আহমদ ফিরোজের ৬ষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী (২৯ অক্টোবর)। ২০১৯ সালের এই দিনে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। ফরিদপুরের সাংবাদিকতা জগতের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র হিসেবে দলমত নির্বিশেষে সকলের হৃদয়ে আসীন শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার এই মানুষটি সকল রক্তচক্ষুর ভয় উপেক্ষা করে সাধারণ মানুষের জন্য নিজেকে উৎসর্গ করেছিলেন।
তিনি ছিলেন দুর্বিনীত অথচ স্পষ্টভাষী এক কলমযোদ্ধা, যিনি জগদ্দল পাথরের মতো চেপে বসা স্বৈরাচার ও ফ্যাসিস্টের আতঙ্ক ছিলেন এবং অনুজদের নিকট অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব হয়ে উঠেছিলেন।
দুঃসময়ের ‘সাহসের বাতিঘর’
ওয়ান-ইলেভেনের ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে যখন ফরিদপুরের জননন্দিত নেতা চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফের বিজয় ছিনিয়ে নেওয়া হয় এবং ফরিদপুরের রাজনীতিতে এক চরম ঔদ্ধত্য অপশক্তির আবির্ভাব ঘটে, সেই কঠিন দুঃসময়ে সাংবাদিক আহমদ ফিরোজ হয়ে উঠেছিলেন নির্যাতিত-নিপীড়িত মানুষের ভরসার মধ্যমনি। ভয়ে যখন সাধারণ মানুষ সত্য বলার সাহস হারিয়ে ফেলছিল, তখন তিনিই ছিলেন সাহসের বাতিঘর।
দেশ ও দশের স্বার্থে, শান্তি, সাম্য ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় তিনি আমৃত্যু আপোসহীনভাবে সাংবাদিকতার মতো মহান পেশায় নিয়োজিত ছিলেন।
সাংবাদিকতা ও রাজনৈতিক জীবন
আহমদ ফিরোজ ফরিদপুর শহরের ঝিলটুলী মহল্লার সাবেক সরকারি কর্মকর্তা মরহুম ফজলুল করিমের সেঝো সন্তান ছিলেন এবং তিনি অকৃতদার ছিলেন। পেশাগত জীবনে তিনি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন:
সাংবাদিকতা: তিনি প্রথমে দৈনিক মিল্লাত ও দৈনিক দিনকালে কাজ করেন। পরবর্তীতে অনলাইন নিউজ এজেন্সি বাংলার চোখের প্রতিনিধি ও ফরিদপুর টাইমসের প্রতিষ্ঠাতা উপদেষ্টা সম্পাদক ছিলেন।
রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা: তিনি ফরিদপুর জেলা বিএনপির একজন সম্পাদক ছিলেন। এছাড়া শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান শিশুদের জন্য জেলাভিত্তিক সংগঠন গঠন করলে তিনি তার ফরিদপুর জেলা শাখার সদস্য সচিব নিযুক্ত হন।
সাংবাদিক সংগঠন: তিনি ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সাবেক সহ-সভাপতি ও আজীবন সদস্য ছিলেন।
সমাজসেবা ও চিরস্মরণীয় অবদান
সাংবাদিকতার পাশপাশি তিনি শিল্প-সাহিত্যের প্রসার এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মেধামনন বিকাশেও গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে গেছেন। একজন বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিক হিসেবে সকল রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে সত্য উদ্ঘাটনে সাহস জুগিয়েছেন এবং ফরিদপুর সাংবাদিক সমাজের পেশাগত প্রতিকূলতা কাটিয়ে তুলতে প্রথম সারিতে থেকে বিশেষ অবদান রেখেছেন।
অকুতোভয় এই চারণ সাংবাদিক সকল দলমত ও পক্ষপাতিত্বের ঊর্ধ্বে দুর্নীতি ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে একজন আপোষহীন প্রতিবাদী চরিত্র হিসেবে চিরস্মরণীয় ও অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব হয়ে থাকবেন।
মৃত্যুর কারণ
২০১৯ সালের এই দিনে তিনি ডায়াবেটিক ফুটে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। জানা যায়, ফরিদপুর ডায়াবেটিক হাসপাতাল থেকে পায়ের ফোঁড়ার অপারেশন করানোর পরেও উন্নত চিকিৎসা পদ্ধতি অনুসরণ না করায় তিনি পুরোপুরি সেরে উঠতে পারেননি।
সাংবাদিক আহমদ ফিরোজের ৬ষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকীতে তাঁর প্রতি জানাই বিনম্র শ্রদ্ধা। দয়াময় আল্লাহ তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌসের উচ্চ মর্যাদা দান করুন।



















