ফাঁদে ৭ বিয়ের ‘সিরিয়াল বধূ’: শিকার এবার খোদ বিচারক
- আপডেট সময় : ০৪:১০:৫৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৫
- / 585
যেন মোশাররফ করিম অভিনীত কোনো নাটকের চিত্রনাট্য। সরকারি চাকরিজীবীদের টার্গেট করে বিয়ে করা, কিছুদিন যেতে না যেতেই যৌতুক ও ধর্ষণ মামলা দায়ের করা—এই প্রতারণার শিকার এবার খোদ একজন বিচারক। ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে খোঁজ মিলেছে এই প্রতারণার অভিযোগ ওঠা নারী মদিনা মুনসুরের।
ভুক্তভোগী বিচারকের আইনজীবী জানান, বিয়ের মাত্র সাতদিনের মাথায় বিচারকের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা করেছেন মদিনা। পরপর ৭টি বিয়ের দালিলিক প্রমাণ রয়েছে এই নারীর।
প্রতারণার নির্দিষ্ট কৌশল
ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল সূত্র জানায়, মদিনা মুনসুরের বিরুদ্ধে তাঁর একাধিক স্বামীর করা মোট ৩টি মামলা বর্তমানে বিচারাধীন।
টার্গেট: ভুক্তভোগী বিচারকের আইনজীবী ইশরাত হাসান জানান, মদিনা মুনসুরের একটি নির্দিষ্ট কৌশল আছে। তিনি অপেক্ষাকৃত কম বয়সী এবং বিশেষ করে সরকারি চাকরিজীবীদের টার্গেট করেন।
বিয়ের তালিকা: দালিলিক প্রমাণ অনুযায়ী, মদিনা মুনসুর ২০০৬, ২০১০, ২০১৩, ২০১৫, ২০২০, ২০২২ এবং সর্বশেষ ২০২৫ সালে বিয়ে করেছেন। আইনজীবী ইশরাত হাসানের দাবি, এর বাইরেও আরও বিয়ে করে থাকতে পারেন।
ধর্ষণ ও আপস: অভিযোগ রয়েছে, প্রতিবার বিয়ের পর স্বামীর নামে যৌতুক ও ধর্ষণের মামলা দিয়ে ‘চাকরি বাঁচানোর ভয়ে’ ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে ২০-৪০ লাখ টাকা আদায় করে আপস করেন মদিনা।
সবশেষ শিকার বিচারক: ওএসডিতে থাকার করুণ দশা
মদিনা মুনসুরের সর্বশেষ স্বামী একজন বিচারক। এই মামলার কারণে বর্তমানে তিনি ওএসডি (Officer on Special Duty) হয়ে আইন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত আছেন।
ভুক্তভোগী বিচারকের আইনজীবী ইশরাত হাসান বলেন, “উনি (মদিনা) অন্তত কিছুটা হলেও ওনার কয়েকজন স্বামীকে চিনতে পেরেছেন, এ বিষয়ে আমরা খুশি।” তিনি জানান, মদিনার বিভিন্ন কাবিননামা, মামলায় আপসের প্রমাণ এবং প্রতারণার ডকুমেন্টারি প্রমাণ তাঁদের হাতে আছে।
মদিনার স্বীকারোক্তি ও আইনজীবীর সরে যাওয়া
একাধিক বিয়ের অভিযোগ স্বীকার না করলেও, বিচারককে বিয়ের কথা স্বীকার করেছেন মদিনা মুনসুর।
মদিনা মুনসুর বলেন, “আপনি কি শেখ মুহিব্বুল্লাহর কথা বলছেন। ক্রাইমটা যে ধরণের সেটা তো আমি এলিগেশন করেছি। তার জন্য তো আমি থানায় অভিযোগ দায়ের করেছি। বিষয়টা নিয়ে আমি কোনো বক্তব্য দিতে চাচ্ছি না, কারণ এটা বিচারাধীন একটি বিষয়।”
অন্যদিকে, নানা অসংলগ্ন কথাবার্তা পাওয়ায় এই মামলা থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন মদিনা মুনসুরের আইনজীবী আহসান হাবীব।
তিনি বলেন, “আপনি বলতে পারেন অর্থ আদায়ের একটি প্রক্রিয়া উনি পরিচালনা করছেন। এই প্যাটার্নটা যখন আমার চোখের সামনে আছে, উনার কথাবার্তা ও প্রস্তাবগুলো আমার ব্যক্তিগত নীতিগত ও আইন দ্বারা পরিচালিত হওয়ার সঙ্গে যায় না। সেহেতু আমি মামলা থেকে সরে দাঁড়িয়েছি।”
জানা গেছে, মামলার কারণে ওএসডিতে থাকা বিচারক এই ঘটনায় হাইকোর্টে রিট করবেন বলে জানিয়েছেন তাঁর আইনজীবী।





















