ঢাকা ০৯:৪৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরিদপুরে বাথরুমের নিচে বস্তাবন্দি নরককঙ্কাল উদ্ধার

দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৮:১৮:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬
  • / 218

ঘর আছে, গৃহস্থালি আছে, আছে প্রাত্যহিক জীবনের চেনা ছন্দ। কিন্তু সেই চেনা ঘরেরই কাঁচা বাথরুমের স্ল্যাবের নিচে যে ওত পেতে বসে আছে এক বিভীষিকাময় নরককঙ্কাল, তা কে জানত! ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলা পৌরসভায় ঘটে গেল এমনই এক শিউরে ওঠার মতো হাড়হিম করা ঘটনা। একটি বাড়ির বাথরুমের স্ল্যাবের নিচ থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় এক অজ্ঞাতপরিচয় নারীর কঙ্কাল উদ্ধার করেছে পুলিশ। ভোরবেলা ঘুম ভেঙে বাথরুমে পা রাখতেই পায়ের নিচে নরম ও অস্বাভাবিক কিছুর স্পর্শ, আর তাতেই যেন খুলে গেল এক পৈশাচিক রহস্যের ডালা!

আজ রবিবার (২৬ জুলাই ২০২৬) এই গা শিউরে ওঠা খবরটি জানাজানি হতেই গোটা শ্রীপুর কর্মকারপাড়া এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।

ভোরের বাথরুমে পায়ের নিচে নরক: কীভাবে এল এই কঙ্কাল?

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মধুখালী পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের শ্রীপুর কর্মকারপাড়ার বাসিন্দা, মৃত মধু মণ্ডলের ছেলে মো. আলী আকবর মণ্ডল (৮০)-এর বাড়িতেই এই ভৌতিক কাণ্ডটি ঘটেছে। রবিবার ভোর প্রায় ৫টার দিকে আলী আকবরের স্ত্রী মোছা. রওশনা বেগম (৫৫) তাঁদের ঘরের কাঁচা বাথরুমটি ব্যবহার করতে যান। স্ল্যাবের ওপর দাঁড়াতেই তাঁর পায়ের নিচে কেমন যেন অস্বাভাবিক ও সন্দেহজনক ঠেকে। ভোরবেলার আবছা আলোয় ভয় পেয়ে তিনি স্বামীকে জানালে প্রথমে আশি বছর বয়সী আলী আকবর বিষয়টি ফুঁ দিয়ে উড়িয়ে দেন।

কিন্তু বেলা বাড়ার সাথে সাথে রহস্যের গন্ধ ঘনীভূত হয়। আলী আকবর নিজে বাথরুমে গিয়ে পরীক্ষা করতেই বুঝতে পারেন, স্ল্যাবের নিচে বড়সড় একটি বস্তা লুকানো রয়েছে। পরিবারের অন্য সদস্যদের ডেকে দুপুরের দিকে বিষয়টি জানানো হয় জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’-এ। খবর পেয়েই কালক্ষেপণ না করে চাবুকের গতিতে ঘটনাস্থলে ছুটে আসে মধুখালী থানা পুলিশের একটি চৌকস দল।

বস্তা খুলতেই দীর্ঘ কালো চুল ও মাঝারি খুলি

মধুখালী থানার সাব-ইন্সপেক্টর মো. মাফিজুর রহমান সঙ্গীয় ফোর্সসহ বাথরুমের সেই অন্ধকার কোণ থেকে টেনে বের করেন রহস্যময় বস্তাটি। আর মুখ খুলতেই ছিটকে আসে বিভীষিকা! বস্তার ভেতরে ঘুমিয়ে ছিল এক নারীর কঙ্কাল। হাড়গোড়গুলো বিচ্ছিন্ন হয়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে থাকলেও মাথার মাঝারি খুলিটি ছিল অক্ষত, আর তার সঙ্গে লেপ্টে ছিল দীর্ঘ কালো চুলের কিছু অংশ। দেখলেই বোঝা যায়, কোনো এক সময় রূপসী কোনো নারী ঘুমিয়ে পড়েছিলেন এই অন্ধকূপে।

নিখোঁজের তালিকায় জট: তবে সে কে? চমকপ্রদ তথ্য হলো, পুলিশের প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে—মধুখালী উপজেলার সরকারি নথিতে বা নিখোঁজ ডায়েরিতে (জিডি) বর্তমানে কোনো নারীর নিখোঁজ থাকার তথ্য নেই। ফলে এই কঙ্কালটি এলাকার কারোর নাকি দূর থেকে এনে এখানে পুঁতে রাখা হয়েছিল, তা নিয়ে গভীর কুয়াশা তৈরি হয়েছে।

মধুখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) মো. মারুফ হাসান বলেন, “উদ্ধার হওয়া কঙ্কালটি ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। মাথার খুলি ও চুল ডিএনএ টেস্টের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কঙ্কালটির পরিচয় শনাক্ত এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে আমরা সব দিক বিবেচনা করে তদন্তের চাবুক ঘোরাচ্ছি।”

ফরিদপুরে বাথরুমের নিচে বস্তাবন্দি নরককঙ্কাল উদ্ধার

আপডেট সময় : ০৮:১৮:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

ঘর আছে, গৃহস্থালি আছে, আছে প্রাত্যহিক জীবনের চেনা ছন্দ। কিন্তু সেই চেনা ঘরেরই কাঁচা বাথরুমের স্ল্যাবের নিচে যে ওত পেতে বসে আছে এক বিভীষিকাময় নরককঙ্কাল, তা কে জানত! ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলা পৌরসভায় ঘটে গেল এমনই এক শিউরে ওঠার মতো হাড়হিম করা ঘটনা। একটি বাড়ির বাথরুমের স্ল্যাবের নিচ থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় এক অজ্ঞাতপরিচয় নারীর কঙ্কাল উদ্ধার করেছে পুলিশ। ভোরবেলা ঘুম ভেঙে বাথরুমে পা রাখতেই পায়ের নিচে নরম ও অস্বাভাবিক কিছুর স্পর্শ, আর তাতেই যেন খুলে গেল এক পৈশাচিক রহস্যের ডালা!

আজ রবিবার (২৬ জুলাই ২০২৬) এই গা শিউরে ওঠা খবরটি জানাজানি হতেই গোটা শ্রীপুর কর্মকারপাড়া এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।

ভোরের বাথরুমে পায়ের নিচে নরক: কীভাবে এল এই কঙ্কাল?

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মধুখালী পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের শ্রীপুর কর্মকারপাড়ার বাসিন্দা, মৃত মধু মণ্ডলের ছেলে মো. আলী আকবর মণ্ডল (৮০)-এর বাড়িতেই এই ভৌতিক কাণ্ডটি ঘটেছে। রবিবার ভোর প্রায় ৫টার দিকে আলী আকবরের স্ত্রী মোছা. রওশনা বেগম (৫৫) তাঁদের ঘরের কাঁচা বাথরুমটি ব্যবহার করতে যান। স্ল্যাবের ওপর দাঁড়াতেই তাঁর পায়ের নিচে কেমন যেন অস্বাভাবিক ও সন্দেহজনক ঠেকে। ভোরবেলার আবছা আলোয় ভয় পেয়ে তিনি স্বামীকে জানালে প্রথমে আশি বছর বয়সী আলী আকবর বিষয়টি ফুঁ দিয়ে উড়িয়ে দেন।

কিন্তু বেলা বাড়ার সাথে সাথে রহস্যের গন্ধ ঘনীভূত হয়। আলী আকবর নিজে বাথরুমে গিয়ে পরীক্ষা করতেই বুঝতে পারেন, স্ল্যাবের নিচে বড়সড় একটি বস্তা লুকানো রয়েছে। পরিবারের অন্য সদস্যদের ডেকে দুপুরের দিকে বিষয়টি জানানো হয় জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’-এ। খবর পেয়েই কালক্ষেপণ না করে চাবুকের গতিতে ঘটনাস্থলে ছুটে আসে মধুখালী থানা পুলিশের একটি চৌকস দল।

বস্তা খুলতেই দীর্ঘ কালো চুল ও মাঝারি খুলি

মধুখালী থানার সাব-ইন্সপেক্টর মো. মাফিজুর রহমান সঙ্গীয় ফোর্সসহ বাথরুমের সেই অন্ধকার কোণ থেকে টেনে বের করেন রহস্যময় বস্তাটি। আর মুখ খুলতেই ছিটকে আসে বিভীষিকা! বস্তার ভেতরে ঘুমিয়ে ছিল এক নারীর কঙ্কাল। হাড়গোড়গুলো বিচ্ছিন্ন হয়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে থাকলেও মাথার মাঝারি খুলিটি ছিল অক্ষত, আর তার সঙ্গে লেপ্টে ছিল দীর্ঘ কালো চুলের কিছু অংশ। দেখলেই বোঝা যায়, কোনো এক সময় রূপসী কোনো নারী ঘুমিয়ে পড়েছিলেন এই অন্ধকূপে।

নিখোঁজের তালিকায় জট: তবে সে কে? চমকপ্রদ তথ্য হলো, পুলিশের প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে—মধুখালী উপজেলার সরকারি নথিতে বা নিখোঁজ ডায়েরিতে (জিডি) বর্তমানে কোনো নারীর নিখোঁজ থাকার তথ্য নেই। ফলে এই কঙ্কালটি এলাকার কারোর নাকি দূর থেকে এনে এখানে পুঁতে রাখা হয়েছিল, তা নিয়ে গভীর কুয়াশা তৈরি হয়েছে।

মধুখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) মো. মারুফ হাসান বলেন, “উদ্ধার হওয়া কঙ্কালটি ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। মাথার খুলি ও চুল ডিএনএ টেস্টের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কঙ্কালটির পরিচয় শনাক্ত এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে আমরা সব দিক বিবেচনা করে তদন্তের চাবুক ঘোরাচ্ছি।”