ফরিদপুরে সরকারি হাসপাতালে অবৈধ ডিএনসি, জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে নারী
- আপডেট সময় : ০৫:২১:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬
- / 113
সরকারি হাসপাতাল চত্বর, অথচ সেখানেই নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে বসানো হয়েছে এক অবৈধ ও বর্বরোচিত ‘টর্চার সেল’! যে পরিদর্শিকার কাজ কেবল পরামর্শ দেওয়া, তিনিই টাকার লোভে অবতীর্ণ হলেন সার্জনের ভূমিকায়। ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এমনই এক হাড়হিম করা ও নজিরবিহীন গাফিলতির ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা জাহানারা বেগমের বিরুদ্ধে অর্থের বিনিময়ে সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে ডাইলেশন অ্যান্ড কিউরেটেজ (ডিএনসি) করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। আর এই অপেশাদার ও হাতুড়ে চিকিৎসার শিকার হয়ে এখন ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শয্যায় মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন এক অসহায় নারী।
গত বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই ২০ Rosetta/২০২৬) থেকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ভুক্তভোগী ওই নারী ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সরকারি হাসপাতালে এমন বেআইনি ও বর্বরোচিত বাণিজ্যের খবর জানাজানি হতেই গোটা জেলাজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।
আড়াই হাজার টাকার ‘প্যাকেজ’, অতঃপর পৈশাচিক গাফিলতি!
ঘটনার গভীরে চোখ রাখলে দেখা যায়, গত ১৮ জুলাই নগরকান্দা উপজেলার ওই নারী দুই মাসের গর্ভস্থ সন্তানের শারীরিক জটিলতার কারণে ভাঙ্গা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের পরিদর্শিকা জাহানারা বেগমের দ্বারস্থ হন। অভিযোগ, জাহানারা বেগম সরকারি নিয়মের চাবুক উপেক্ষা করে প্রথমে ১০ হাজার টাকা দাবি করেন। পরবর্তীতে ভুক্তভোগী পরিবারের কান্নাকাটিতে আড়াই হাজার টাকায় রফা করে হাসপাতালের একটি কক্ষেই নিজে অবৈধভাবে ডিএনসি সম্পন্ন করেন।
কিন্তু পৈশাচিক জালিয়াতি এখানেই শেষ নয়। ডিএনসি করার তিন দিন পর রোগীর রক্তক্ষরণ ও শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি হলে পরিবারটি পুনরায় জাহানারার কাছে ছোটেন। তখন নিজের ভুল ঢাকতে জাহানারা সাফ জানিয়ে দেন—“ভেতরে ভ্রূণের কিছু অংশ রয়ে গেছে, আবারও ডিএনসি করতে হবে।” এই দ্বিতীয় দফার ‘কসাইবৃত্তির’ জন্য তিনি আরও ১ হাজার টাকা দাবি করেন এবং দায় এড়াতে রোগীকে একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে ভর্তির কু-পরামর্শ দেন।
চিকিৎসকদের ক্যামেরাভীতি ও কর্তৃপক্ষের অসহায়ত্ব
অর্থনৈতিক অস্বচ্ছতার কারণে ভুক্তভোগী পরিবারটি প্রাইভেট ক্লিনিকে না গিয়ে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে ভর্তি হন। সেখানে তাঁর অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে থাকলে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা গত বৃহস্পতিবার তাঁকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর (রেফার) করেন।
এই চরম জালিয়াতির বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত জাহানারা বেগম স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমি কোনো টাকা নিইনি, ডিএনসি করার পর রোগী নিজের ইচ্ছাতেই চলে গেছেন।” অর্থাৎ, তিনি যে ডিএনসি করেছেন—তা তাঁর নিজের মুখেই স্বীকারোক্তি!
বিষয়টি নিয়ে ভাঙ্গা উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ফারুক হোসেন অত্যন্ত কড়া সুরে জানান, “সরকারি হাসপাতালে টাকা নেওয়ার কোনো বিধান তো নেই-ই, তদুপরি একজন পরিদর্শিকার ডিএনসি করার কোনো নিয়ম বা এখতিয়ার নেই। ১০ সপ্তাহ পর্যন্ত এমআর করা যায় মাত্র। ভুক্তভোগী পরিবার লিখিত অভিযোগ দিলে আমরা চাবুকের মতো আইনি ব্যবস্থা নেব।” অন্যদিকে, উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের মা ও শিশু স্বাস্থ্যবিষয়ক মেডিকেল অফিসার ডা. ইব্রাহীম খলিল পরিদর্শিকার এই কাজের তীব্র নিন্দা করলেও রহস্যজনক কারণে ভিডিও ক্যামেরার সামনে কিছু বলতে রাজি হননি।




















