ঢাকা ০৯:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরিদপুরে ইয়াবাসহ আটক কারবারিকে ছাড়িয়ে নিলেন বিএনপি নেতা

দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৮:০২:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬
  • / 505

মাদকের মারণনেশার বিরুদ্ধে যখন একজোট হয়ে লড়াইয়ে নামছে স্থানীয় যুবসমাজ, তখনই সেই লড়াইয়ের পিঠে যেন এক মস্ত বড় চাবুকের আঘাত লাগল। ইয়াবাসহ হাতেনাতে ধরা পড়া দুই মাদক কারবারিকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার নাম করে গাড়িতে তুলে, পরে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়ার এক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে খোদ রাজনৈতিক নেতার বিরুদ্ধে। ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাসিবুর হাসান হাসিবের এই ‘উদারতা’ নিয়ে এখন গোটা এলাকায় বইছে ক্ষোভ ও বিস্ময়ের ঝড়।

শুক্রবার সকালে স্থানীয় যুবকেরা যখন কোমর বেঁধে থানায় খোঁজ নিতে যান, তখনই ফাঁস হয় এই চাঞ্চল্যকর তথ্য—মাদক কারবারিরা লকআপে নেই, তাঁরা এখন মুক্ত আকাশে! এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী জুমার নামাজের পর মসজিদের চত্বরে বসে সমাজপতিদের দরবারে জবাবদিহির দাবি তুলেছেন।

নওয়াপাড়ার সেই অন্ধকার রাত ও হাতেনাতে ধৃত কারবারি

ঘটনার সূত্রপাত গত বৃহস্পতিবার রাত ৮টা নাগাদ। আলফাডাঙ্গা পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের নওয়াপাড়া এলাকায় লিবাটি কেমিক্যাল ফ্যাক্টরির সামনে ওত পেতে ছিল স্থানীয় ২০ থেকে ২২ জন সচেতন যুবক। অভিযোগ, ওই এলাকারই সরোয়ার কাজীর ছেলে সোহাগ কাজী দুই পিস ইয়াবা বিক্রি করছিলেন একই গ্রামের সাইফারের ছেলে পারভেজের কাছে। ঠিক তখনই বাঘের মতো ঝাঁপিয়ে পড়ে যুবসমাজ। ইয়াবাসহ হাতেনাতে ধরে ফেলা হয় দুজনকে।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ত্রাতার ভূমিকায় হাজির হন পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাসিবুর হাসান হাসিব। উপস্থিত যুবকদের দাবি, হাসিব সাহেব তাঁদের আশ্বস্ত করে বলেন—আইন নিজের গতিতে চলবে, এদের থানায় সোপর্দ করা হচ্ছে। এরপর একটি মাইক্রোবাসে করে ওই দুই মাদক কারবারিকে তুলে নিয়ে যান তিনি। কিন্তু পরের দিন সকালে থানার দরজায় কড়া নাড়তেই যুবকদের চোখ কপালে ওঠে; জানা যায়, আসামিরা থানাতেই পৌঁছায়নি!

নেতার ‘সালিশি’ বনাম পুলিশের ‘ভার্সন’

নওয়াপাড়া গ্রামের যুবক আমীর হামজা ও শাকিল ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, “আমরা যুবসমাজ যখন এলাকাকে মাদকমুক্ত করতে জীবন বাজি রেখে এদের ধরলাম, তখন হাসিব ভাই থানায় দেওয়ার কথা বলে তাদের নিয়ে গেলেন। এভাবে আসামিদের ছেড়ে দিলে এলাকায় মাদকবিরোধী আন্দোলনের মেরুদণ্ডই তো ভেঙে যাবে!” স্থানীয় বাসিন্দা একরামুল হক ও মফিজুর রহমানও এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে সামাজিক সমাধানের দাবি তুলেছেন।

তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা এই অভিযোগের জবাবে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক নাটকের গল্প শুনিয়েছেন বিএনপি নেতা হাসিবুর হাসান হাসিব। তাঁর দাবি, “আমি ফ্যাক্টরির ভেতর থেকে চিৎকার শুনে বাইরে এসে দেখি কিছু ছেলে দুজনকে মারধর করছে। আমি মারামারি থামিয়ে ওসির সঙ্গে যোগাযোগ করি। ওসি সাহেব আমাকে বলেন, যেহেতু তাদের মারধর করা হয়েছে, আগে হাসপাতালে ভর্তি করতে অথবা এসিল্যান্ডের সঙ্গে কথা বলতে।”

নেতার দাবি, তিনি গাড়ি নিয়ে থানার সামনেও গিয়েছিলেন, কিন্তু ওসির একই নির্দেশ থাকায় এবং আসামিরা ভবিষ্যতে এমন কাজ না করার জন্য ক্ষমা চেয়ে মুচলেকা দেওয়ায়, দলের অন্যান্য নেতাদের উপস্থিতিতে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এদিকে আলফাডাঙ্গা থানার ওসি ফকির তাইজুল ইসলাম অবশ্য দায় এড়াতে চটজলদি জানিয়েছেন, “হাসিব ভাই আমাকে ফোন করেছিলেন। আমি মারধরের কথা শুনে হাসপাতালে নিতে বলি এবং সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছিলাম।” কিন্তু সেই পুলিশ কেন আসামিদের নাগাল পেল না, সেই রহস্যের জট খোলেনি।

ফরিদপুরে ইয়াবাসহ আটক কারবারিকে ছাড়িয়ে নিলেন বিএনপি নেতা

আপডেট সময় : ০৮:০২:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

মাদকের মারণনেশার বিরুদ্ধে যখন একজোট হয়ে লড়াইয়ে নামছে স্থানীয় যুবসমাজ, তখনই সেই লড়াইয়ের পিঠে যেন এক মস্ত বড় চাবুকের আঘাত লাগল। ইয়াবাসহ হাতেনাতে ধরা পড়া দুই মাদক কারবারিকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার নাম করে গাড়িতে তুলে, পরে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়ার এক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে খোদ রাজনৈতিক নেতার বিরুদ্ধে। ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাসিবুর হাসান হাসিবের এই ‘উদারতা’ নিয়ে এখন গোটা এলাকায় বইছে ক্ষোভ ও বিস্ময়ের ঝড়।

শুক্রবার সকালে স্থানীয় যুবকেরা যখন কোমর বেঁধে থানায় খোঁজ নিতে যান, তখনই ফাঁস হয় এই চাঞ্চল্যকর তথ্য—মাদক কারবারিরা লকআপে নেই, তাঁরা এখন মুক্ত আকাশে! এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী জুমার নামাজের পর মসজিদের চত্বরে বসে সমাজপতিদের দরবারে জবাবদিহির দাবি তুলেছেন।

নওয়াপাড়ার সেই অন্ধকার রাত ও হাতেনাতে ধৃত কারবারি

ঘটনার সূত্রপাত গত বৃহস্পতিবার রাত ৮টা নাগাদ। আলফাডাঙ্গা পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের নওয়াপাড়া এলাকায় লিবাটি কেমিক্যাল ফ্যাক্টরির সামনে ওত পেতে ছিল স্থানীয় ২০ থেকে ২২ জন সচেতন যুবক। অভিযোগ, ওই এলাকারই সরোয়ার কাজীর ছেলে সোহাগ কাজী দুই পিস ইয়াবা বিক্রি করছিলেন একই গ্রামের সাইফারের ছেলে পারভেজের কাছে। ঠিক তখনই বাঘের মতো ঝাঁপিয়ে পড়ে যুবসমাজ। ইয়াবাসহ হাতেনাতে ধরে ফেলা হয় দুজনকে।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ত্রাতার ভূমিকায় হাজির হন পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাসিবুর হাসান হাসিব। উপস্থিত যুবকদের দাবি, হাসিব সাহেব তাঁদের আশ্বস্ত করে বলেন—আইন নিজের গতিতে চলবে, এদের থানায় সোপর্দ করা হচ্ছে। এরপর একটি মাইক্রোবাসে করে ওই দুই মাদক কারবারিকে তুলে নিয়ে যান তিনি। কিন্তু পরের দিন সকালে থানার দরজায় কড়া নাড়তেই যুবকদের চোখ কপালে ওঠে; জানা যায়, আসামিরা থানাতেই পৌঁছায়নি!

নেতার ‘সালিশি’ বনাম পুলিশের ‘ভার্সন’

নওয়াপাড়া গ্রামের যুবক আমীর হামজা ও শাকিল ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, “আমরা যুবসমাজ যখন এলাকাকে মাদকমুক্ত করতে জীবন বাজি রেখে এদের ধরলাম, তখন হাসিব ভাই থানায় দেওয়ার কথা বলে তাদের নিয়ে গেলেন। এভাবে আসামিদের ছেড়ে দিলে এলাকায় মাদকবিরোধী আন্দোলনের মেরুদণ্ডই তো ভেঙে যাবে!” স্থানীয় বাসিন্দা একরামুল হক ও মফিজুর রহমানও এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে সামাজিক সমাধানের দাবি তুলেছেন।

তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা এই অভিযোগের জবাবে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক নাটকের গল্প শুনিয়েছেন বিএনপি নেতা হাসিবুর হাসান হাসিব। তাঁর দাবি, “আমি ফ্যাক্টরির ভেতর থেকে চিৎকার শুনে বাইরে এসে দেখি কিছু ছেলে দুজনকে মারধর করছে। আমি মারামারি থামিয়ে ওসির সঙ্গে যোগাযোগ করি। ওসি সাহেব আমাকে বলেন, যেহেতু তাদের মারধর করা হয়েছে, আগে হাসপাতালে ভর্তি করতে অথবা এসিল্যান্ডের সঙ্গে কথা বলতে।”

নেতার দাবি, তিনি গাড়ি নিয়ে থানার সামনেও গিয়েছিলেন, কিন্তু ওসির একই নির্দেশ থাকায় এবং আসামিরা ভবিষ্যতে এমন কাজ না করার জন্য ক্ষমা চেয়ে মুচলেকা দেওয়ায়, দলের অন্যান্য নেতাদের উপস্থিতিতে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এদিকে আলফাডাঙ্গা থানার ওসি ফকির তাইজুল ইসলাম অবশ্য দায় এড়াতে চটজলদি জানিয়েছেন, “হাসিব ভাই আমাকে ফোন করেছিলেন। আমি মারধরের কথা শুনে হাসপাতালে নিতে বলি এবং সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছিলাম।” কিন্তু সেই পুলিশ কেন আসামিদের নাগাল পেল না, সেই রহস্যের জট খোলেনি।