ঢাকা ০৯:৪৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরিদপুরে দিনদুপুরে ব্যবসায়ীকে কোপ! ৩ লাখ টাকা ছিনতাই

দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৮:৩৯:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬
  • / 553

আইনশৃঙ্খলার তোয়াক্কা না করে খোদ দিনদুপুরেই মহাসড়ক ও আঞ্চলিক পথগুলো কীভাবে অপরাধীদের চারণভূমি হয়ে উঠছে, তারই এক রক্তাক্ত নজির দেখল ফরিদপুর। বোয়ালমারী উপজেলায় ভরদুপুরে এক ব্যবসায়ীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে প্রায় ৩ লাখ টাকা ছিনিয়ে নিয়েছে তিন মুখোশধারী দুর্বৃত্ত। আজ বুধবার (৮ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার শেখর ইউনিয়নের ছত্রকান্দা এলাকায় এই নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটে। গুরুতর জখম ও রক্তাক্ত অবস্থায় ব্যবসায়ী সৈয়দ সোহরাব আলীকে (৪৮) উদ্ধার করে আলফাডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

সহস্ররাইল বাজারের সুপরিচিত রড ও সিমেন্ট ব্যবসায়ী সোহরাব আলী আজ সকালে ব্যবসার জমানো টাকা ব্যাংকে জমা দিতে যাচ্ছিলেন। কিন্তু কে জানত, কয়েক কিলোমিটারের এই পথেই ওত পেতে বসে আছে যমদূতেরা!

মাঝরাস্তায় গতিরোধ এবং অবাধ্য হতেই ধারালো অস্ত্রের কোপ

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, বুধবার সকালে মোটর সাইকেলে চেপে আলফাডাঙ্গার একটি ব্যাংকের উদ্দেশ্যে রওনা হন সোহরাব আলী। তাঁর সঙ্গে ব্যাগে ছিল ব্যবসার প্রায় ৩ লাখ টাকা। পথিমধ্যে ছত্রকান্দা এলাকার খালেক মাস্টারের বাড়ির সামনে পৌঁছানো মাত্রই তাঁর পথ আগলে দাঁড়ায় মোটরসাইকেলে আসা তিন মুখোশধারী ছিনতাইকারী।

কিছু বুঝে ওঠার আগেই দুর্বৃত্তরা তাঁর টাকার ব্যাগটি টেনে নেওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু নিজের কষ্টার্জিত পুঁজিকে বাঁচাতে বুক চিতিয়ে বাধা দেন সোহরাব আলী। আর তাতেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে অপরাধীরা। ধারালো রামদা ও ছরা বের করে সোহরাব আলীকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি কোপাতে শুরু করে তারা। একপর্যায়ে রক্তাক্ত ব্যবসায়ী মাটিতে লুটিয়ে পড়লে টাকার ব্যাগটি ছিনিয়ে নিয়ে চোখের পলকে চম্পট দেয় ওই মুখোশধারী চক্র।

ক্ষতবিক্ষত শরীর ও হাসপাতালে জীবনযুদ্ধ

চিৎকার শুনে স্থানীয় বাসিন্দারা ছুটে এসে ছটফট করতে থাকা রক্তাক্ত সোহরাব আলীকে উদ্ধার করে আলফাডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. মো. বাকির হোসেন জখমের ভয়াবহতা নিশ্চিত করে জানান—

“আহত সোহরাব আলীর শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের গভীর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। বিশেষ করে তাঁর বাঁ পায়ে গভীর ক্ষত হওয়ায় ছয়টি সেলাই দিতে হয়েছে। প্রচুর রক্তক্ষরণ হওয়ায় তাঁকে কড়া পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। পুরোপুরি সুস্থ হতে বেশ কিছুটা সময় লাগবে।”

পুলিশের আশ্বাস ও চেনা আতঙ্কের ছায়া

খবর পেয়ে বোয়ালমারী থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আলামত সংগ্রহ করেছে। বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান—

“ব্যবসায়ীর টাকা ছিনতাই ও হামলার খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়েছি। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। এই বিষয়ে দ্রুতই কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।”

প্রশাসনের এই চেনা আশ্বাসে কিন্তু স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মনের ক্ষোভ আর আতঙ্ক মিটছে না। হাটে-বাজারে এখন একটাই প্রশ্ন—দিনদুপুরে যদি মুখোশ পরে অস্ত্র উঁচিয়ে ব্যবসায়ীদের এভাবে কোপানো হয়, তবে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়? এই ফরহাদ-দিলুদের মতো চুনোপুঁটিরাই হোক কিংবা এই নতুন মুখোশধারী সিন্ডিকেট, এদের পেছনে থাকা গডফাদারদের ডানা এখনই ছেঁটে না দিলে মহাসড়ক আর আঞ্চলিক পথগুলো অচিরেই অপরাধের স্বর্গরাজ্য হয়ে উঠবে। ৩ লাখ টাকা হয়তো গেছে, কিন্তু বোয়ালমারীর ব্যবসায়ীদের মনে যে নিরাপত্তাহীনতার গভীর ক্ষত তৈরি হলো, তার সেলাই করবে কে?

ফরিদপুরে দিনদুপুরে ব্যবসায়ীকে কোপ! ৩ লাখ টাকা ছিনতাই

আপডেট সময় : ০৮:৩৯:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬

আইনশৃঙ্খলার তোয়াক্কা না করে খোদ দিনদুপুরেই মহাসড়ক ও আঞ্চলিক পথগুলো কীভাবে অপরাধীদের চারণভূমি হয়ে উঠছে, তারই এক রক্তাক্ত নজির দেখল ফরিদপুর। বোয়ালমারী উপজেলায় ভরদুপুরে এক ব্যবসায়ীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে প্রায় ৩ লাখ টাকা ছিনিয়ে নিয়েছে তিন মুখোশধারী দুর্বৃত্ত। আজ বুধবার (৮ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার শেখর ইউনিয়নের ছত্রকান্দা এলাকায় এই নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটে। গুরুতর জখম ও রক্তাক্ত অবস্থায় ব্যবসায়ী সৈয়দ সোহরাব আলীকে (৪৮) উদ্ধার করে আলফাডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

সহস্ররাইল বাজারের সুপরিচিত রড ও সিমেন্ট ব্যবসায়ী সোহরাব আলী আজ সকালে ব্যবসার জমানো টাকা ব্যাংকে জমা দিতে যাচ্ছিলেন। কিন্তু কে জানত, কয়েক কিলোমিটারের এই পথেই ওত পেতে বসে আছে যমদূতেরা!

মাঝরাস্তায় গতিরোধ এবং অবাধ্য হতেই ধারালো অস্ত্রের কোপ

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, বুধবার সকালে মোটর সাইকেলে চেপে আলফাডাঙ্গার একটি ব্যাংকের উদ্দেশ্যে রওনা হন সোহরাব আলী। তাঁর সঙ্গে ব্যাগে ছিল ব্যবসার প্রায় ৩ লাখ টাকা। পথিমধ্যে ছত্রকান্দা এলাকার খালেক মাস্টারের বাড়ির সামনে পৌঁছানো মাত্রই তাঁর পথ আগলে দাঁড়ায় মোটরসাইকেলে আসা তিন মুখোশধারী ছিনতাইকারী।

কিছু বুঝে ওঠার আগেই দুর্বৃত্তরা তাঁর টাকার ব্যাগটি টেনে নেওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু নিজের কষ্টার্জিত পুঁজিকে বাঁচাতে বুক চিতিয়ে বাধা দেন সোহরাব আলী। আর তাতেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে অপরাধীরা। ধারালো রামদা ও ছরা বের করে সোহরাব আলীকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি কোপাতে শুরু করে তারা। একপর্যায়ে রক্তাক্ত ব্যবসায়ী মাটিতে লুটিয়ে পড়লে টাকার ব্যাগটি ছিনিয়ে নিয়ে চোখের পলকে চম্পট দেয় ওই মুখোশধারী চক্র।

ক্ষতবিক্ষত শরীর ও হাসপাতালে জীবনযুদ্ধ

চিৎকার শুনে স্থানীয় বাসিন্দারা ছুটে এসে ছটফট করতে থাকা রক্তাক্ত সোহরাব আলীকে উদ্ধার করে আলফাডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. মো. বাকির হোসেন জখমের ভয়াবহতা নিশ্চিত করে জানান—

“আহত সোহরাব আলীর শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের গভীর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। বিশেষ করে তাঁর বাঁ পায়ে গভীর ক্ষত হওয়ায় ছয়টি সেলাই দিতে হয়েছে। প্রচুর রক্তক্ষরণ হওয়ায় তাঁকে কড়া পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। পুরোপুরি সুস্থ হতে বেশ কিছুটা সময় লাগবে।”

পুলিশের আশ্বাস ও চেনা আতঙ্কের ছায়া

খবর পেয়ে বোয়ালমারী থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আলামত সংগ্রহ করেছে। বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান—

“ব্যবসায়ীর টাকা ছিনতাই ও হামলার খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়েছি। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। এই বিষয়ে দ্রুতই কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।”

প্রশাসনের এই চেনা আশ্বাসে কিন্তু স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মনের ক্ষোভ আর আতঙ্ক মিটছে না। হাটে-বাজারে এখন একটাই প্রশ্ন—দিনদুপুরে যদি মুখোশ পরে অস্ত্র উঁচিয়ে ব্যবসায়ীদের এভাবে কোপানো হয়, তবে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়? এই ফরহাদ-দিলুদের মতো চুনোপুঁটিরাই হোক কিংবা এই নতুন মুখোশধারী সিন্ডিকেট, এদের পেছনে থাকা গডফাদারদের ডানা এখনই ছেঁটে না দিলে মহাসড়ক আর আঞ্চলিক পথগুলো অচিরেই অপরাধের স্বর্গরাজ্য হয়ে উঠবে। ৩ লাখ টাকা হয়তো গেছে, কিন্তু বোয়ালমারীর ব্যবসায়ীদের মনে যে নিরাপত্তাহীনতার গভীর ক্ষত তৈরি হলো, তার সেলাই করবে কে?