ফরিদপুরে ছাত্রদলের সদ্যঘোষিত কমিটিতে শীর্ষ ৪ নেতাই বিবাহিত, রয়েছে সন্তানও
- আপডেট সময় : ০৯:২৮:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬
- / 652
ছাত্ররাজনীতির আঙিনায় পা রাখলে যেখানে খাতা-কলম আর রাজপথের স্লোগানে মুখরিত হওয়ার কথা, সেখানে ফরিদপুরের সালথায় ছাত্রদলের নতুন কমিটি যেন এক একটি আস্ত ‘সংসার’-এর খতিয়ান! ‘ছাত্র’ রাজনীতির তকমা গায়ে জড়িয়ে দিব্যি সংসারধর্ম পালন করা, এমনকি কোলে সন্তান নিয়ে দিব্বি সংগঠনের শীর্ষ পদ বাগিয়ে নেওয়ার এক নজিরবিহীন ও রসালো চিত্র উঠে এসেছে সালথা উপজেলা ছাত্রদলে। সদ্যঘোষিত ১৫ সদস্যের আংশিক কমিটির সভাপতি বাদ দিলেও বাকি প্রায় সব শীর্ষ পদেই আলো করে বসে আছেন বিবাহিত ‘ছাত্র’ নেতারা! যাদের মধ্যে আবার দুই নেতার ঘরে রয়েছে ফুটফুটে সন্তানও।
গত ২২ জুন ফরিদপুর জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সৈয়দ আদনান হোসেন অনু ও সাধারণ সম্পাদক তানজিমুল হাসান কায়েস স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই কমিটি ঘোষণার পর থেকেই ফরিদপুরের রাজনৈতিক মহলে হাসির রোল এবং ক্ষোভের আগুন—দুটোই একসাথে জ্বলছে।
কার সংসারে কী খবর: খাতা খুলে দিল অনুসন্ধান
কমিটিতে রেজাউল ইসলামকে (রাজ) সভাপতি ও সোহেল মাতুব্বরকে সাধারণ সম্পাদক করা হলেও গোল বেঁধেছে কমিটির বাকি স্তম্ভগুলোকে নিয়ে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, নতুন কমিটির সাধারণ সম্পাদক সোহেল মাতুব্বর, সিনিয়র সহ-সভাপতি সাব্বির আহমেদ রাকিব, সহ-সভাপতি রাজীব হোসেন ও সাংগঠনিক সম্পাদক তানভীর হোসেন—এই চার হেভিওয়েট নেতাই বিবাহিত এবং সংসারী।
সাধারণ সম্পাদক সোহেল মাতুব্বর: ২০২১ সালের ডিসেম্বরে মধুখালীর সুরাইয়া সুলতানাকে ভালোবেসে বিয়ে করেছিলেন। পরে দেনমোহর আর ভরণপোষণের মামলার জেরে সেই বিয়ে ভেঙে গেলেও বর্তমানে তিনি দ্বিতীয় বিয়ে করে জমিয়ে সংসার করছেন।
সিনিয়র সহ-সভাপতি সাব্বির আহমেদ রাকিব: চার বছর আগেই সামাজিকভাবে মুরাটিয়া গ্রামের এক কন্যাকে ঘরে তুলেছেন। তাদের দাম্পত্য আলো করে রয়েছে একটি কন্যাসন্তান।
সহ-সভাপতি রাজীব হোসেন: গট্টি ইউনিয়নের লক্ষণদিয়া গ্রামের মেয়েকে সামাজিকভাবে বিয়ে করে দিব্যি ঘর-সংসার সামলাচ্ছেন।
সাংগঠনিক সম্পাদক তানভীর হোসেন: ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে পারিবারিকভাবে সদর উপজেলার আবিদাকে বিয়ে করেন। তাঁর ঘরে রয়েছে এক শিশুপুত্র।
‘বিবাহিতদের বাধা নেই’ বনাম ‘ফোনেই হুমকি’র নাটক!
বিয়ে ও সন্তান থাকার এই অকাট্য প্রমাণের মুখে নেতাদের প্রতিক্রিয়াও বেশ চমৎকার ও বৈচিত্র্যময়। সাধারণ সম্পাদক সোহেল মাতুব্বর বেশ আত্মবিশ্বাসের সুরেই দাবি করলেন, “বিবাহিতদের নিয়ে কমিটি গঠনে এখন আর কোনো ক্রাইটেরিয়া বা বাধা নেই। আমাদের এই কমিটির কথা কেন্দ্রের বড় ভাইয়েরাও জানেন।”
তবে সিনিয়র সহ-সভাপতি সাব্বির আহমেদ রাকিব সাংবাদিকের পরিচয় পেয়েই মেজাজ হারিয়ে সরাসরি হুমকির সুরে বললেন, “ফোনে বক্তব্য দেব না, পারলে সরাসরি দেখা করেন!” অন্যদিকে সহ-সভাপতি রাজীব হোসেন আবার এক অদ্ভুত ব্যাখ্যা দাঁড় করালেন, “বিয়ে ঠিকঠাক হয়ে আছে, কিন্তু কমিটির পদের কারণে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কনেকে বাড়ি তুলে আনতে পারিনি!”
সবচেয়ে মজার কাণ্ড ঘটিয়েছেন সাংগঠনিক সম্পাদক তানভীর হোসেন। তাঁর মোবাইলে কল দেওয়া হলে ফোন ধরেন তাঁর মা আফরোজা বেগম। মায়ের সরল স্বীকারোক্তি, “হ্যাঁ, তানভীর বিবাহিত। ওর একটা ছেলে আছে এবং ওরা আমাদের একসাথেই থাকে।”
ছেলের ‘লুকানো’ ছাত্ররাজনীতির জারিজুরি মায়ের এক ফোনেই শেষ! এই স্পর্শকাতর বিষয়ে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে একাধিকবার ফোন করা হলেও তারা এড়িয়ে গেছেন।
তবে সালথা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান তালুকদার তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “কমিটি করার আগে আমাদের জানানো তো দূর, যোগ্যদের বাদ দিয়ে একঝাঁক অচেনা ছেলেকে আনা হয়েছে। ৪ জন বিবাহিত এবং ২ জনের সন্তান আছে—এটা ছাত্রদলের নিজস্ব গঠনতন্ত্রের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।”




















