ঢাকা ০৯:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিশু শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের অভিযোগে মাদ্রাসা শিক্ষক আটক

দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৬:২৭:৩০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬
  • / 43

যে পবিত্র আঙিনায় বাবা-মা তাঁদের সন্তানদের পাঠান নৈতিকতা ও ধর্মীয় শিক্ষার পাঠ নিতে, সেখানেই ওত পেতে বসে আছে একশ্রেণীর বিকৃত কামনার নরপশু! পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলায় তেমনই এক হাড়হিম করা ও কলঙ্কজনক অধ্যায় উন্মোচিত হলো। এক শিশু শিক্ষার্থীকে (নাবালক) বলাৎকারের অভিযোগে মো. ইব্রাহীম নামে এক মাদ্রাসা শিক্ষককে হাতেনাতে ধরে পুলিশের খাঁচায় পুরেছে ক্ষুব্ধ জনতা। আজ সোমবার (২৭ জুলাই ২০২৬) সকালে এই নারকীয় ঘটনাটি জানাজানি হতেই গোটা এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ও গণরোষের আগুন জ্বলে উঠেছে।

অভিযুক্ত ইব্রাহীম উপজেলার মুরাদিয়া ইউনিয়নের একটি মাদ্রাসার শিক্ষক পদে কর্মরত ছিলেন। শিক্ষার আলো ছড়ানোর লেবাস গায়ে জড়ানো এই শিক্ষকের অন্ধকার রূপ প্রকাশ্যে আসতেই ধিক্কার জানাচ্ছে সর্বস্তরের মানুষ।

ভোরের আলোয় পৈশাচিকতা, অতঃপর মুখে কুলুপ আঁটার হুমকি

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আজ সোমবার সকালে ওই মাদ্রাসারই এক অবুঝ শিশু শিক্ষার্থীকে নিজের লালসার শিকার বানান শিক্ষক ইব্রাহীম। বলাৎকারের পর রক্তাক্ত ও যন্ত্রণাবিদ্ধ শিশুটি যাতে মুখ না খোলে, তার জন্য তাকে নির্মম ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দেয় ওই পাষণ্ড শিক্ষক। কিন্তু অবুঝ শিশুটি বাড়ি ফিরেই কান্নায় ভেঙে পড়ে এবং মা-বাবার কাছে শিক্ষকের এই পৈশাচিক কীর্তির আদ্যোপান্ত খুলে বলে।

সন্তানের মুখে এই নারকীয় নির্যাতনের বিবরণ শুনে স্তব্ধ হয়ে যান অভিভাবকেরা। মুহূর্তের মধ্যে খবরটি গ্রামে ছড়িয়ে পড়লে শত শত স্থানীয় বাসিন্দা লাঠিসোটা নিয়ে মাদ্রাসা ঘেরাও করেন। অভিযুক্ত শিক্ষক ইব্রাহীমকে ধরে গণধোলাই দেওয়ার পর দুমকি থানা পুলিশের হাতে সোপর্দ করা হয়।

ষড়যন্ত্রের দোহাই বনাম পুলিশের চাবুক অ্যাকশন

এদিকে, লোকলজ্জা ও আইনের চাবুক থেকে বাঁচতে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অবলীলায় অস্বীকার করেছেন শিক্ষক ইব্রাহীম। হাজতের শিকের ওপার থেকে তাঁর দাবি—তিনি নাকি এক গভীর ‘ষড়যন্ত্রের শিকার’ এবং তাঁকে পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানো হয়েছে! তবে এক অবুঝ শিশু কেন নিজের শিক্ষকের বিরুদ্ধে এমন মারাত্মক মিথ্যা অপবাদ দেবে, তার কোনো যৌক্তিক জবাব দিতে পারেননি এই অভিযুক্ত।

দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সেলিম উদ্দিন সংবাদমাধ্যমকে জানান, “নাবালক শিশুকে বলাৎকারের ঘটনাটি অত্যন্ত সংবেদনশীল। শিশুটির পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে এবং তার ভিত্তিতেই কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া দ্রুত গতিতে চলছে। অপরাধীর কোনো ছাড় নেই।”

শিশু শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের অভিযোগে মাদ্রাসা শিক্ষক আটক

আপডেট সময় : ০৬:২৭:৩০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬

যে পবিত্র আঙিনায় বাবা-মা তাঁদের সন্তানদের পাঠান নৈতিকতা ও ধর্মীয় শিক্ষার পাঠ নিতে, সেখানেই ওত পেতে বসে আছে একশ্রেণীর বিকৃত কামনার নরপশু! পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলায় তেমনই এক হাড়হিম করা ও কলঙ্কজনক অধ্যায় উন্মোচিত হলো। এক শিশু শিক্ষার্থীকে (নাবালক) বলাৎকারের অভিযোগে মো. ইব্রাহীম নামে এক মাদ্রাসা শিক্ষককে হাতেনাতে ধরে পুলিশের খাঁচায় পুরেছে ক্ষুব্ধ জনতা। আজ সোমবার (২৭ জুলাই ২০২৬) সকালে এই নারকীয় ঘটনাটি জানাজানি হতেই গোটা এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ও গণরোষের আগুন জ্বলে উঠেছে।

অভিযুক্ত ইব্রাহীম উপজেলার মুরাদিয়া ইউনিয়নের একটি মাদ্রাসার শিক্ষক পদে কর্মরত ছিলেন। শিক্ষার আলো ছড়ানোর লেবাস গায়ে জড়ানো এই শিক্ষকের অন্ধকার রূপ প্রকাশ্যে আসতেই ধিক্কার জানাচ্ছে সর্বস্তরের মানুষ।

ভোরের আলোয় পৈশাচিকতা, অতঃপর মুখে কুলুপ আঁটার হুমকি

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আজ সোমবার সকালে ওই মাদ্রাসারই এক অবুঝ শিশু শিক্ষার্থীকে নিজের লালসার শিকার বানান শিক্ষক ইব্রাহীম। বলাৎকারের পর রক্তাক্ত ও যন্ত্রণাবিদ্ধ শিশুটি যাতে মুখ না খোলে, তার জন্য তাকে নির্মম ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দেয় ওই পাষণ্ড শিক্ষক। কিন্তু অবুঝ শিশুটি বাড়ি ফিরেই কান্নায় ভেঙে পড়ে এবং মা-বাবার কাছে শিক্ষকের এই পৈশাচিক কীর্তির আদ্যোপান্ত খুলে বলে।

সন্তানের মুখে এই নারকীয় নির্যাতনের বিবরণ শুনে স্তব্ধ হয়ে যান অভিভাবকেরা। মুহূর্তের মধ্যে খবরটি গ্রামে ছড়িয়ে পড়লে শত শত স্থানীয় বাসিন্দা লাঠিসোটা নিয়ে মাদ্রাসা ঘেরাও করেন। অভিযুক্ত শিক্ষক ইব্রাহীমকে ধরে গণধোলাই দেওয়ার পর দুমকি থানা পুলিশের হাতে সোপর্দ করা হয়।

ষড়যন্ত্রের দোহাই বনাম পুলিশের চাবুক অ্যাকশন

এদিকে, লোকলজ্জা ও আইনের চাবুক থেকে বাঁচতে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অবলীলায় অস্বীকার করেছেন শিক্ষক ইব্রাহীম। হাজতের শিকের ওপার থেকে তাঁর দাবি—তিনি নাকি এক গভীর ‘ষড়যন্ত্রের শিকার’ এবং তাঁকে পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানো হয়েছে! তবে এক অবুঝ শিশু কেন নিজের শিক্ষকের বিরুদ্ধে এমন মারাত্মক মিথ্যা অপবাদ দেবে, তার কোনো যৌক্তিক জবাব দিতে পারেননি এই অভিযুক্ত।

দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সেলিম উদ্দিন সংবাদমাধ্যমকে জানান, “নাবালক শিশুকে বলাৎকারের ঘটনাটি অত্যন্ত সংবেদনশীল। শিশুটির পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে এবং তার ভিত্তিতেই কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া দ্রুত গতিতে চলছে। অপরাধীর কোনো ছাড় নেই।”