ঢাকা ০৯:৪৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরিফের বিরুদ্ধে মাদকগ্রহণ ও অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ স্ত্রীর

দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৭:৩৯:০১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬
  • / 89

যাঁদের কাঁধে দেশের আইন রক্ষা আর আমজনতার নিরাপত্তা দেওয়ার গুরুদায়িত্ব, তাঁদেরই একজন যখন ক্ষমতার দম্ভে অন্ধ হয়ে নিজের ঘরের ভেতরেই মধ্যযুগীয় বর্বরতার রাজত্ব কায়েম করেন, তখন আইনের শাসন নিয়েই প্রশ্ন ওঠে। জয়পুরহাট সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আরিফ হোসেনের বিরুদ্ধে মাদকসেবন, একাধিক নারীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক, কোটি টাকার যৌতুক দাবি ও পৈশাচিক নির্যাতনের এক নজিরবিহীন ও হাড়হিম করা অভিযোগ এনেছেন তাঁরই সহধর্মিণী শামিয়া খান এশা। এক হাতে পুলিশের ক্ষমতা আর অন্য হাতে মাদকের পেয়ালা—সরকারি কর্মকর্তার এমন দ্বৈত ও কুৎসিত রূপ প্রকাশ্যে আসতেই পুলিশ প্রশাসনের অন্দরে তীব্র তোলপাড় ও ধিক্কার শুরু হয়েছে।

আজ রোববার (২৬ জুলাই ২০২৬) বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ক্র্যাব) মিলনায়তনে এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে চোখের জল মুছে স্বামীর এই অন্ধকার জগতের মুখোশ টেনে খুলে দেন এশা। তিনি এই প্রভাবশালী কর্মকর্তার চাবুক থেকে বাঁচতে নিরপেক্ষ তদন্ত ও কঠোর আইনি ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন।

২০ লাখের আসবাবপত্র ও হীরার আংটিতেও মিটলো না লোভ: চাওয়া হলো আরও ৫০ লাখ!

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এশা জানান, ২০১৯ সালের ১৯ জুলাই জমকালো আয়োজনে মো. আরিফ হোসেনের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়েছিল। মেয়ের সুখের কথা চিন্তা করে এশার পরিবার সামর্থ্যের সর্বোচ্চ উজাড় করে ২০ লাখ টাকার আসবাবপত্র এবং স্বর্ণালংকার, মূল্যবান ঘড়ি ও হীরার আংটিসহ আরও ১৪ লাখ ৮০ হাজার টাকার উপহারসামগ্রী দিয়েছিল। ২০২০ সালের অক্টোবরে তাঁদের কোল আলো করে আসে এক কন্যাসন্তান, যার বর্তমান বয়স সাড়ে পাঁচ বছর।

কিন্তু বিয়ের মধুচন্দ্রিমা কাটতে না কাটতেই খোলস ছেড়ে বেরিয়ে আসে আরিফের আসল রূপ। এশার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ, চাকরির সুবাদে চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও জয়পুরহাটে থাকার সময় আরিফ নিয়মিত মদ্যপান ও মাদকসেবনে বুঁদ হয়ে থাকতেন। এশার অনুপস্থিতিতে সরকারি বাসভবনে বসত মদ ও নারীর আসর। কামরুন জাহান বিথী নামের এক নারীর সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে তাঁকে খোদ নিজেদের শোবার ঘরে এনে রাখতেন আরিফ! এসবের প্রতিবাদ করলেই এশার ওপর চলত বুট ও বেল্টের পৈশাচিক নির্যাতন।

লোভের এখানেই শেষ নয়; সংসার টিকিয়ে রাখার স্বার্থে এশার মা-বাবা গ্রামের জমি বিক্রি করে নগদ ও চেকের মাধ্যমে আরিফকে ৪০ লাখ টাকা যৌতুক দিতে বাধ্য হন। সেই টাকায় কেনা হয় কাগজপত্রহীন প্রিমিও গাড়ি ও পূর্বাচলের বিলাসবহুল জমি। এরপরও আরিফের নেশা ও বিলাসী জীবনের খতিয়ান মেলাতে আরও ৫০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করা হয়। গত ৯ জানুয়ারি গভীর রাতে জয়পুরহাটের ভাড়া বাসায় যৌতুকের দাবিতে এশা ও তাঁর সাড়ে পাঁচ বছরের কন্যাসন্তানকে নির্মমভাবে পিটিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়।

বসিলার ফ্ল্যাটে আপত্তিকর অবস্থায় ধৃত, অতঃপর আদালতের চাবুক

সংবাদ সম্মেলনে এশা আরও একটি হাড়হিম করা ঘটনার বিবরণ দেন। গত ৩০ মে ঢাকার মোহাম্মদপুরের বসিলা এলাকায় ‘বাবু’ নামে এক বন্ধুর ফ্ল্যাটে স্বামী আরিফকে মদ্যপ অবস্থায় এক নারীর সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় হাতেনাতে ধরে ফেলেন তিনি। অপরাধ ঢাকতে আরিফ মোবাইল ফোন দিয়ে এশার মাথায় সজোরে আঘাত করেন, এতে তিনি রক্তাক্ত হয়ে সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়েন।

এই চরম লাঞ্ছনার পর গত ৭ জুন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন এশা। পরবর্তীতে রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি এবং জয়পুরহাটের পুলিশ সুপারের কাছেও লিখিত নালিশ জানানো হয়। কিন্তু প্রভাবশালী স্বামী স্বপদে বহাল থাকায় কোনো অদৃশ্য ইশারায় তদন্ত ফাইল চাপা পড়ে থাকে। নিরুপায় হয়ে গত ৫ জুলাই ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি সিআর মামলা (নং-৬৯৬/২০২৬) দায়ের করেন এশা। মামলার সাথে পেনড্রাইভে জমা দেওয়া হয়েছে আরিফের মাদকসেবনের ভিডিও, পরকীয়ার বার্তা ও নির্যাতনের অডিও রেকর্ড।

পাল্টা চাবুক হিসেবে, মামলার খবর পেয়েই ক্ষমতার অপব্যবহার করে গত ৯ জুলাই জয়পুরহাট সদর থানায় এশা ও তাঁর বৃদ্ধ মা-বাবার বিরুদ্ধে উল্টো মিথ্যা মামলা ঠুকে দিয়েছেন অতিরিক্ত এসপি আরিফ। বর্তমানে ভুক্তভোগী পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরিফের বিরুদ্ধে মাদকগ্রহণ ও অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ স্ত্রীর

আপডেট সময় : ০৭:৩৯:০১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

যাঁদের কাঁধে দেশের আইন রক্ষা আর আমজনতার নিরাপত্তা দেওয়ার গুরুদায়িত্ব, তাঁদেরই একজন যখন ক্ষমতার দম্ভে অন্ধ হয়ে নিজের ঘরের ভেতরেই মধ্যযুগীয় বর্বরতার রাজত্ব কায়েম করেন, তখন আইনের শাসন নিয়েই প্রশ্ন ওঠে। জয়পুরহাট সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আরিফ হোসেনের বিরুদ্ধে মাদকসেবন, একাধিক নারীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক, কোটি টাকার যৌতুক দাবি ও পৈশাচিক নির্যাতনের এক নজিরবিহীন ও হাড়হিম করা অভিযোগ এনেছেন তাঁরই সহধর্মিণী শামিয়া খান এশা। এক হাতে পুলিশের ক্ষমতা আর অন্য হাতে মাদকের পেয়ালা—সরকারি কর্মকর্তার এমন দ্বৈত ও কুৎসিত রূপ প্রকাশ্যে আসতেই পুলিশ প্রশাসনের অন্দরে তীব্র তোলপাড় ও ধিক্কার শুরু হয়েছে।

আজ রোববার (২৬ জুলাই ২০২৬) বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ক্র্যাব) মিলনায়তনে এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে চোখের জল মুছে স্বামীর এই অন্ধকার জগতের মুখোশ টেনে খুলে দেন এশা। তিনি এই প্রভাবশালী কর্মকর্তার চাবুক থেকে বাঁচতে নিরপেক্ষ তদন্ত ও কঠোর আইনি ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন।

২০ লাখের আসবাবপত্র ও হীরার আংটিতেও মিটলো না লোভ: চাওয়া হলো আরও ৫০ লাখ!

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এশা জানান, ২০১৯ সালের ১৯ জুলাই জমকালো আয়োজনে মো. আরিফ হোসেনের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়েছিল। মেয়ের সুখের কথা চিন্তা করে এশার পরিবার সামর্থ্যের সর্বোচ্চ উজাড় করে ২০ লাখ টাকার আসবাবপত্র এবং স্বর্ণালংকার, মূল্যবান ঘড়ি ও হীরার আংটিসহ আরও ১৪ লাখ ৮০ হাজার টাকার উপহারসামগ্রী দিয়েছিল। ২০২০ সালের অক্টোবরে তাঁদের কোল আলো করে আসে এক কন্যাসন্তান, যার বর্তমান বয়স সাড়ে পাঁচ বছর।

কিন্তু বিয়ের মধুচন্দ্রিমা কাটতে না কাটতেই খোলস ছেড়ে বেরিয়ে আসে আরিফের আসল রূপ। এশার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ, চাকরির সুবাদে চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও জয়পুরহাটে থাকার সময় আরিফ নিয়মিত মদ্যপান ও মাদকসেবনে বুঁদ হয়ে থাকতেন। এশার অনুপস্থিতিতে সরকারি বাসভবনে বসত মদ ও নারীর আসর। কামরুন জাহান বিথী নামের এক নারীর সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে তাঁকে খোদ নিজেদের শোবার ঘরে এনে রাখতেন আরিফ! এসবের প্রতিবাদ করলেই এশার ওপর চলত বুট ও বেল্টের পৈশাচিক নির্যাতন।

লোভের এখানেই শেষ নয়; সংসার টিকিয়ে রাখার স্বার্থে এশার মা-বাবা গ্রামের জমি বিক্রি করে নগদ ও চেকের মাধ্যমে আরিফকে ৪০ লাখ টাকা যৌতুক দিতে বাধ্য হন। সেই টাকায় কেনা হয় কাগজপত্রহীন প্রিমিও গাড়ি ও পূর্বাচলের বিলাসবহুল জমি। এরপরও আরিফের নেশা ও বিলাসী জীবনের খতিয়ান মেলাতে আরও ৫০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করা হয়। গত ৯ জানুয়ারি গভীর রাতে জয়পুরহাটের ভাড়া বাসায় যৌতুকের দাবিতে এশা ও তাঁর সাড়ে পাঁচ বছরের কন্যাসন্তানকে নির্মমভাবে পিটিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়।

বসিলার ফ্ল্যাটে আপত্তিকর অবস্থায় ধৃত, অতঃপর আদালতের চাবুক

সংবাদ সম্মেলনে এশা আরও একটি হাড়হিম করা ঘটনার বিবরণ দেন। গত ৩০ মে ঢাকার মোহাম্মদপুরের বসিলা এলাকায় ‘বাবু’ নামে এক বন্ধুর ফ্ল্যাটে স্বামী আরিফকে মদ্যপ অবস্থায় এক নারীর সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় হাতেনাতে ধরে ফেলেন তিনি। অপরাধ ঢাকতে আরিফ মোবাইল ফোন দিয়ে এশার মাথায় সজোরে আঘাত করেন, এতে তিনি রক্তাক্ত হয়ে সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়েন।

এই চরম লাঞ্ছনার পর গত ৭ জুন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন এশা। পরবর্তীতে রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি এবং জয়পুরহাটের পুলিশ সুপারের কাছেও লিখিত নালিশ জানানো হয়। কিন্তু প্রভাবশালী স্বামী স্বপদে বহাল থাকায় কোনো অদৃশ্য ইশারায় তদন্ত ফাইল চাপা পড়ে থাকে। নিরুপায় হয়ে গত ৫ জুলাই ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি সিআর মামলা (নং-৬৯৬/২০২৬) দায়ের করেন এশা। মামলার সাথে পেনড্রাইভে জমা দেওয়া হয়েছে আরিফের মাদকসেবনের ভিডিও, পরকীয়ার বার্তা ও নির্যাতনের অডিও রেকর্ড।

পাল্টা চাবুক হিসেবে, মামলার খবর পেয়েই ক্ষমতার অপব্যবহার করে গত ৯ জুলাই জয়পুরহাট সদর থানায় এশা ও তাঁর বৃদ্ধ মা-বাবার বিরুদ্ধে উল্টো মিথ্যা মামলা ঠুকে দিয়েছেন অতিরিক্ত এসপি আরিফ। বর্তমানে ভুক্তভোগী পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।