‘আমার সব শেষ ভাই!’ ফরিদপুরে বিষ দিয়ে ৬০ লাখ টাকার মাছ নিধন
- আপডেট সময় : ০৭:২৮:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ মে ২০২৬
- / 96
দীর্ঘ ১০ বছর ধরে হাড়ভাঙা খাটুনি আর পুকুর লিজ নিয়ে মাছ চাষ করে আসছিলেন অনিমেষ সরকার। কিন্তু এক রাতের ব্যবধানে দুর্বৃত্তদের নিষ্ঠুরতায় তাঁর স্বপ্ন এখন পুকুরের পানিতে ভাসছে। ফরিদপুর সদর উপজেলার কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের নরসিংহদিয়া গ্রামে অনিমেষ সরকারের চারটি পুকুরে বিষ দিয়ে সব মাছ মেরে ফেলেছে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা। শুক্রবার (২৯ মে) সকালে বিষাক্ত মরা মাছগুলো পুকুরের পানিতে ভেসে উঠলে পুরো এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। এই হৃদয়বিদারক দৃশ্য দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন ক্ষতিগ্রস্ত চাষী। আকাশ-বাতাস ভারী করে তিনি বিলাপ করতে থাকেন— “কিচ্ছু নাই ভাই, আমার সব শেষ হয়ে গেছে!”
ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্যচাষী জানান, নরসিংহদিয়া গ্রামের বিষক্রিয়ায় ধ্বংস হওয়া চারটি পুকুরের মাছের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৬০ লাখ টাকা। চলতি বছর ফরিদপুর সদর ও মধুখালী উপজেলার মোট ১০টি পুকুরে মাছ চাষ করছেন তিনি। এর মধ্যে নরসিংহদিয়া গ্রামের এই ৪টি পুকুরে বিষাক্ত গ্যাস ট্যাবলেট প্রয়োগ করে শত্রুতা মেটানো হয়েছে। এই ঘটনায় ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী অনিমেষ সরকার।
ঋণের টাকায় বোনা স্বপ্ন নিমিষেই শেষ:
কান্নাজড়িত কণ্ঠে অনিমেষ সরকার জানান, বিভিন্ন জায়গা থেকে ধার-দেনা ও ঋণ করে প্রথমবারের মতো রুই, কাতল, টেংরাসহ বিভিন্ন দেশীয় জাতের মাছ বড় করছিলেন তিনি। গত দুই বছর ধরে এই ৪টি পুকুরের মাছের পেছনে তাঁর প্রায় ৪০ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। আসন্ন ঈদুল আজহার পরপরই এই মাছগুলো বাজারে চড়া দামে বিক্রি করার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন ছিল। কিন্তু লোভী ও হিংসুটে চক্রের কারণে এক রাতেই সব শেষ হয়ে গেল।
এলাকাবাসীর ক্ষোভ ও ওসির বক্তব্য:
ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা মো. নাসির উদ্দিন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সমাজে কিছু লোক আছে যারা অন্যের ভালো দেখতে পারে না। মনে হয় এমন খারাপ মানুষের হিংসার কারণেই এই হৃদয়বিদারক ঘটনার শিকার হলো অনিমেষ। কতো কষ্ট করে সে এই মাছগুলো বড় করেছিল! এর সঠিক তদন্ত হওয়া উচিত। প্রশাসন যদি এর বিচার না করে, তবে তরুণরা আর উদ্যোক্তা হওয়ার সাহস পাবে না।”
এদিকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, “পুকুরে বিষ দিয়ে মাছ মেরে ফেলার বিষয়ে আমরা একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগ পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”



















