ঢাকা ০৮:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৭ জুন ২০২৬, ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বউকে নিয়ে পালাল প্রেমিক: প্রেমিকের বউকেই বিয়ে করলেন স্বামী

দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৭:১২:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ জুন ২০২৬
  • / 33

পরকীয়া প্রেমে জড়িয়ে প্রেমিককে নিয়ে ঘর ছেড়েছেন স্ত্রী। তবে এই ঘটনায় দমে না গিয়ে এক অভিনব ও নজিরবিহীন প্রতিশোধের পথ বেছে নিয়েছেন ভুক্তভোগী স্বামী। নিজের স্ত্রীকে ভাগিয়ে নেওয়ার মোক্ষম জবাব দিতে তিনি সরাসরি বিয়ে করেছেন সেই প্রেমিকেরই স্ত্রীকে! চাঞ্চল্যকর ও নাটকীয় এই ঘটনাটি ঘটেছে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার বাঁশতৈল ইউনিয়নের পেকুয়া গ্রামে।

আজ রবিবার (৭ জুন) বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন স্থানীয় বাঁশতৈল ইউনিয়ন পরিষদের ৪ নং ওয়ার্ডের মেম্বার শাজাহান সিরাজ।

যেভাবে শুরু পরকীয়া ও পলায়ন:

পারিবারিক ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, মির্জাপুরের পেকুয়া গ্রামের সাইজুদ্দীন মিয়ার ছেলে হাসান মিয়ার সাথে প্রায় ১৫ বছর আগে পারিবারিকভাবে জহুরা আক্তারের বিয়ে হয়। দাম্পত্য জীবনে তাদের ঘরে এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। এরই মধ্যে হাসান মিয়ার বাড়ির পাশে একটি এনজিওতে বাবুর্চির (রাঁধুনি) কাজ নেন সাতক্ষীরার বাসিন্দা রাজু মিয়া। কর্মস্থল পাশাপাশি হওয়ায় হাসান মিয়ার স্ত্রী জহুরার সঙ্গে রাজু মিয়ার পরিচয় ও গভীর সখ্যতা গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে তা পরকীয়া প্রেমে রূপ নেয়। গত ৭ মে (বৃহস্পতিবার) হাসান মিয়ার অনুপস্থিতিতে তাকে ও সন্তানদের ফেলে প্রেমিক রাজু মিয়ার হাত ধরে ঘর ছাড়েন জহুরা।

প্রতিশোধের আগুনে জ্বলন্ত স্বামী:

স্ত্রীর এমন বিশ্বাসহীনতায় ভেঙে না পড়ে চরম ক্ষোভে ও অপমানে মোক্ষম প্রতিশোধের ছক কষেন হাসান মিয়া। তিনি সরাসরি যোগাযোগ করেন সাতক্ষীরায় অবস্থানরত রাজু মিয়ার প্রথম স্ত্রীর সাথে। রাজুর স্ত্রীও স্বামীর এমন পরকীয়া ও পলায়নের খবর শুনে ক্ষুব্ধ হয়ে হাসানের প্রস্তাবে রাজী হন।

পরবর্তীতে গত ৪ জুন (বৃহস্পতিবার) সাতক্ষীরা থেকে রাজু মিয়ার প্রথম স্ত্রীকে তাঁর ৩ বছরের সন্তানসহ মির্জাপুরের পেকুয়া গ্রামে নিয়ে আসেন হাসান। এরপর পারিবারিকভাবে এবং আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়।

‘ওর বউ নিয়ে এসেছি’:

এই অভিনব বিয়ে প্রসঙ্গে স্বামী হাসান মিয়া খোলাখুলিভাবে জানান, “ও (রাজু) আমার ঘর ভেঙেছে, আমার বউকে নিয়ে চলে গেছে। তাই আমি ওর বউকে নিজের ঘরে নিয়ে এসেছি। মূলত পরকীয়া প্রেমের চরম শাস্তি দিতে এবং প্রতিশোধ নিতেই আমি এই কাজ করেছি।”

এদিকে ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত বাবুর্চি রাজু মিয়ার ব্যক্তিগত মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। যার ফলে এই বিষয়ে তাঁর কোনো বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে এই নাটকীয় পাল্টা বিয়ের ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো মির্জাপুর উপজেলাজুড়ে সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক তোলপাড় ও কৌতূহলের সৃষ্টি হয়েছে।

বউকে নিয়ে পালাল প্রেমিক: প্রেমিকের বউকেই বিয়ে করলেন স্বামী

আপডেট সময় : ০৭:১২:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ জুন ২০২৬

পরকীয়া প্রেমে জড়িয়ে প্রেমিককে নিয়ে ঘর ছেড়েছেন স্ত্রী। তবে এই ঘটনায় দমে না গিয়ে এক অভিনব ও নজিরবিহীন প্রতিশোধের পথ বেছে নিয়েছেন ভুক্তভোগী স্বামী। নিজের স্ত্রীকে ভাগিয়ে নেওয়ার মোক্ষম জবাব দিতে তিনি সরাসরি বিয়ে করেছেন সেই প্রেমিকেরই স্ত্রীকে! চাঞ্চল্যকর ও নাটকীয় এই ঘটনাটি ঘটেছে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার বাঁশতৈল ইউনিয়নের পেকুয়া গ্রামে।

আজ রবিবার (৭ জুন) বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন স্থানীয় বাঁশতৈল ইউনিয়ন পরিষদের ৪ নং ওয়ার্ডের মেম্বার শাজাহান সিরাজ।

যেভাবে শুরু পরকীয়া ও পলায়ন:

পারিবারিক ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, মির্জাপুরের পেকুয়া গ্রামের সাইজুদ্দীন মিয়ার ছেলে হাসান মিয়ার সাথে প্রায় ১৫ বছর আগে পারিবারিকভাবে জহুরা আক্তারের বিয়ে হয়। দাম্পত্য জীবনে তাদের ঘরে এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। এরই মধ্যে হাসান মিয়ার বাড়ির পাশে একটি এনজিওতে বাবুর্চির (রাঁধুনি) কাজ নেন সাতক্ষীরার বাসিন্দা রাজু মিয়া। কর্মস্থল পাশাপাশি হওয়ায় হাসান মিয়ার স্ত্রী জহুরার সঙ্গে রাজু মিয়ার পরিচয় ও গভীর সখ্যতা গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে তা পরকীয়া প্রেমে রূপ নেয়। গত ৭ মে (বৃহস্পতিবার) হাসান মিয়ার অনুপস্থিতিতে তাকে ও সন্তানদের ফেলে প্রেমিক রাজু মিয়ার হাত ধরে ঘর ছাড়েন জহুরা।

প্রতিশোধের আগুনে জ্বলন্ত স্বামী:

স্ত্রীর এমন বিশ্বাসহীনতায় ভেঙে না পড়ে চরম ক্ষোভে ও অপমানে মোক্ষম প্রতিশোধের ছক কষেন হাসান মিয়া। তিনি সরাসরি যোগাযোগ করেন সাতক্ষীরায় অবস্থানরত রাজু মিয়ার প্রথম স্ত্রীর সাথে। রাজুর স্ত্রীও স্বামীর এমন পরকীয়া ও পলায়নের খবর শুনে ক্ষুব্ধ হয়ে হাসানের প্রস্তাবে রাজী হন।

পরবর্তীতে গত ৪ জুন (বৃহস্পতিবার) সাতক্ষীরা থেকে রাজু মিয়ার প্রথম স্ত্রীকে তাঁর ৩ বছরের সন্তানসহ মির্জাপুরের পেকুয়া গ্রামে নিয়ে আসেন হাসান। এরপর পারিবারিকভাবে এবং আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়।

‘ওর বউ নিয়ে এসেছি’:

এই অভিনব বিয়ে প্রসঙ্গে স্বামী হাসান মিয়া খোলাখুলিভাবে জানান, “ও (রাজু) আমার ঘর ভেঙেছে, আমার বউকে নিয়ে চলে গেছে। তাই আমি ওর বউকে নিজের ঘরে নিয়ে এসেছি। মূলত পরকীয়া প্রেমের চরম শাস্তি দিতে এবং প্রতিশোধ নিতেই আমি এই কাজ করেছি।”

এদিকে ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত বাবুর্চি রাজু মিয়ার ব্যক্তিগত মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। যার ফলে এই বিষয়ে তাঁর কোনো বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে এই নাটকীয় পাল্টা বিয়ের ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো মির্জাপুর উপজেলাজুড়ে সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক তোলপাড় ও কৌতূহলের সৃষ্টি হয়েছে।