নিত্যপণ্যে ফের অস্থিরতা, নিয়ন্ত্রণ কার হাতে?
- আপডেট সময় : ০২:২১:০৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬
- / 46
উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ স্বাভাবিক থাকার পরও অসাধু চক্রের কারসাজিতে দেশের বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে ফের অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। আলু, পেঁয়াজ, চাল, ডাল, মাংস ও ডিমসহ প্রায় প্রতিটি পণ্যের দাম সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিপ্রতি আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে চড়া বাজারের এই আগুনে পুড়ছেন সাধারণ নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষ। বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়াই কৃত্রিম সংকট তৈরি করে ভোক্তাদের পকেট কাটছে একদল মধ্যস্বত্বভোগী ব্যবসায়ী।
সবজির বাজারে আগুন:
রাজধানীর খিলক্ষেত, কাওরান বাজার, রামপুরা ও নয়াবাজারসহ বেশ কয়েকটি কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা যায়, বাজারে শীতকালীন ও বারোমাসি সবজির পর্যাপ্ত জোগান থাকলেও দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। বর্তমানে ঢেঁড়শ, পটল, ঝিঙা, করলা ও চিচিঙা প্রতিকেজি ৬০ থেকে ৮০ টাকা, বরবটি ৭০ থেকে ৮০ টাকা এবং কাঁচকলা প্রতি হালি ৩৫ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া কাঁচা পেঁপে ৩০ থেকে ৪০ টাকা, গাজর ১০০ থেকে ১২০ টাকা, কচুর লতি ৭০ টাকা এবং প্রতিকেজি শিম ১৩০ টাকা চড়া দামে বিক্রি হতে দেখা গেছে। খুচরা বিক্রেতাদের দাবি, পাইকারি বাজারে দাম না কমায় খুচরা পর্যায়ে কম দামে বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না।
সপ্তাহের ব্যবধানে পেঁয়াজ ও আলুর দাম ঊর্ধ্বমুখী:
সবচেয়ে বেশি কারসাজি লক্ষ্য করা গেছে নিত্যদিনের অতিপ্রয়োজনীয় পণ্য পেঁয়াজ ও আলুর বাজারে। গত সপ্তাহের তুলনায় এই দুটি পণ্যের দাম কেজিতে ৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বাজারে প্রতিকেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪০-৫০ টাকায়, যা কিছুদিন আগেই ৩৫-৪৫ টাকা ছিল। একইভাবে ৪ দিন আগে ২০-২৫ টাকায় বিক্রি হওয়া আলু এখন প্রতিকেজি ২৫ থেকে ৩০ টাকায় ঠেকেছে। কাওরান বাজারে আসা সাধারণ ক্রেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, প্রতিবছর এই সময়ে সংকটের অজুহাত তুলে অসাধু ব্যবসায়ীরা আলু-পেঁয়াজের দাম নিয়ে কারসাজি শুরু করে, এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি।
মাংস ও চাল-ডালের দামে নাভিশ্বাস:
আমিষের বাজারেও ক্রেতাদের স্বস্তি নেই। খুচরা বাজারে প্রতিকেজি গরুর মাংস ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকা এবং খাসির মাংস ১২০০ টাকা কেজিদরে বিক্রি হচ্ছে। ব্রয়লার মুরগি প্রতিকেজি ১৮৫ টাকা এবং দেশি মুরগি ৭৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হতে দেখা গেছে। এছাড়া প্রতি হালি ফার্মের ডিম কিনতে ক্রেতাদের গুনতে হচ্ছে ৫০ টাকা।
অন্যদিকে, চালের দাম সপ্তাহের ব্যবধানে সামান্য কমলেও মাসের ব্যবধানে কেজিতে সর্বোচ্চ ৪ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বাজারে মানভেদে প্রতিকেজি মিনিকেট চাল ৭৫-৮৫ টাকা, বিআর-২৮ ও পাইজাম চাল ৫৬-৬৮ টাকা এবং মোটা স্বর্ণা জাতের চাল ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাশাপাশি মসুর ডালের দামও আকাশছোঁয়া; খুচরা বাজারে সরু দানার মসুর ডাল প্রতিকেজি সর্বোচ্চ ১৬০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।
যা বলছেন ক্যাব প্রতিনিধি:
কনজুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন এই বাজার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “উৎপাদন ও সরবরাহে কোনো ঘাটতি নেই। মূলত বাজার ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা, মধ্যস্বত্বভোগীদের একচেটিয়া আধিপত্য এবং কৃত্রিম সংকট তৈরি করে অতিরিক্ত মুনাফা লোটার প্রবণতাই এই মূল্যবৃদ্ধির মূল কারণ। সাধারণ ভোক্তার স্বার্থ রক্ষায় সরকারকে অবিলম্বে কঠোরভাবে বাজার তদারকি (মনিটরিং) করতে হবে এবং কোনো পণ্যের দাম কেন বাড়ছে, তা খতিয়ে দেখে অসাধু চক্রকে শাস্তির আওতায় আনতে হবে।”























