ঢাকা ১০:৪৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরিদপুরে বিএনপি নেতার ‘অন্তরঙ্গ ভিডিও’ ফাঁসে তোলপাড়

দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৯:১৩:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬
  • / 3305

মফস্বল রাজনীতির অলিন্দে আচমকাই যেন এক তীব্র পারদ পতন। কোনো রাজনৈতিক মঞ্চের ভাষণ নয়, কোনো সাংগঠনিক দ্বন্দ্বের খবরও নয়—আচমকা এক ‘গোপন’ ভিডিওর ক্লিপ সোশ্যালে ছড়িয়ে পড়তেই থমকে গেছে ফরিদপুরের আলিয়াবাদ। কাঠগড়ায় খোদ ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ওবায়দুর রহমান। ১ মিনিট ২ সেকেন্ডের একটি নির্দিষ্ট ভিডিও ক্লিপ এখন স্থানীয়দের মোবাইল স্ক্রিনে স্ক্রিনে ঘুরছে, যা নিয়ে শুরু হয়েছে তুমুল রাজনৈতিক ও সামাজিক চর্চা।

ভিডিওতে দেখা যাওয়া ব্যক্তির অবয়বের সঙ্গে ওবায়দুরের মিল রয়েছে বলে দাবি করছেন স্থানীয়দের একাংশ। যদিও এই ভিডিওর সত্যতা এবং নেপথ্যের গল্প নিয়ে ইতিমধ্যেই দুই পক্ষে শুরু হয়েছে তুমুল কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি।

‘বিদেশ পাঠানোর টোপ’ বনাম রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের তত্ত্ব

সোশ্যালে ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিও ক্লিপটিতে এক নারীর সঙ্গে অত্যন্ত অন্তরঙ্গ মুহূর্তে দেখা গেছে এক ব্যক্তিকে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক বাসিন্দা অভিযোগের আঙুল তুলে জানান, ওবায়দুর রহমান আগে থেকেই বিদেশে মানুষ, বিশেষ করে নারী কর্মী পাঠানোর ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। অভিযোগ উঠছে, ওই নারীকে বিদেশে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়েই নাকি এমন ফাঁদ পাতা হয়েছিল। এর আগেও এমন আর্থিক ও ব্যক্তিগত প্রতারণার একাধিক অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে।

তবে ওবায়দুর রহমান এই পুরো ঘটনাটিকে তাঁর রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ধ্বংস করার এক সুপরিকল্পিত চক্রান্ত বলে দাবি করেছেন। নিজেকে সম্পূর্ণ নির্দোষ দাবি করে তাঁর সাফ বক্তব্য, “রাজনৈতিকভাবে আমাকে সমাজ ও দলের কাছে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য প্রযুক্তির কারসাজিতে এই ভুয়া ভিডিও ছড়ানো হচ্ছে। ১ মিনিট ২ সেকেন্ডের ওই ক্লিপের মানুষটি কোনোভাবেই আমি নই।”

পর্দার আড়ালে সালিশি, বিপাকে জেলা নেতৃত্ব

ভিডিও ফাঁসের এই নাটকে আরও এক চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন স্থানীয় এক নেতা। তাঁর দাবি, ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর গত দুদিন আগেই এই স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে ঘরোয়াভাবে একটি ‘সালিশ-মীমাংসা’র বৈঠক বসেছিল। কিন্তু সেই মীমাংসার পরেও কীভাবে এবং কারা এই গোপন ভিডিও সোশ্যালে ফাঁস করে দিল, তা নিয়ে রহস্য দানা বেঁধেছে।

দলীয় অবস্থান

আলিয়াবাদ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম অবশ্য কিছুটা দূরত্ব বজায় রেখেই জানিয়েছেন, ওবায়দুর তাদের কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক এবং তিনি অতীতে বিদেশে লোক পাঠানোর কাজ করতেন বলে তারা জানেন, তবে ভিডিওর সত্যতা নিয়ে তিনি মন্তব্য করতে নারাজ।

অন্য দিকে, দলের ভাবমূর্তি রক্ষায় কড়া অবস্থান নিয়েছে জেলা নেতৃত্ব। জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এ কে এম কিবরীয়া স্বপন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, “ব্যক্তিগত কোনো কেলেঙ্কারির দায় দল নেবে না। দলের কোনো স্তরের নেতার বিরুদ্ধে যদি এই ধরনের নৈতিক অবক্ষয় বা সুনির্দিষ্ট অভিযোগের প্রমাণ মেলে, তবে তাৎক্ষণিকভাবে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

মফস্বলের রাজনীতির এই জলঘোলা জল কতদূর গড়ায় এবং এই ১ মিনিট ২ সেকেন্ডের ভিডিও ক্লিপ ওবায়দুরের রাজনৈতিক ভাগ্য কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার।

ফরিদপুরে বিএনপি নেতার ‘অন্তরঙ্গ ভিডিও’ ফাঁসে তোলপাড়

আপডেট সময় : ০৯:১৩:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬

মফস্বল রাজনীতির অলিন্দে আচমকাই যেন এক তীব্র পারদ পতন। কোনো রাজনৈতিক মঞ্চের ভাষণ নয়, কোনো সাংগঠনিক দ্বন্দ্বের খবরও নয়—আচমকা এক ‘গোপন’ ভিডিওর ক্লিপ সোশ্যালে ছড়িয়ে পড়তেই থমকে গেছে ফরিদপুরের আলিয়াবাদ। কাঠগড়ায় খোদ ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ওবায়দুর রহমান। ১ মিনিট ২ সেকেন্ডের একটি নির্দিষ্ট ভিডিও ক্লিপ এখন স্থানীয়দের মোবাইল স্ক্রিনে স্ক্রিনে ঘুরছে, যা নিয়ে শুরু হয়েছে তুমুল রাজনৈতিক ও সামাজিক চর্চা।

ভিডিওতে দেখা যাওয়া ব্যক্তির অবয়বের সঙ্গে ওবায়দুরের মিল রয়েছে বলে দাবি করছেন স্থানীয়দের একাংশ। যদিও এই ভিডিওর সত্যতা এবং নেপথ্যের গল্প নিয়ে ইতিমধ্যেই দুই পক্ষে শুরু হয়েছে তুমুল কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি।

‘বিদেশ পাঠানোর টোপ’ বনাম রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের তত্ত্ব

সোশ্যালে ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিও ক্লিপটিতে এক নারীর সঙ্গে অত্যন্ত অন্তরঙ্গ মুহূর্তে দেখা গেছে এক ব্যক্তিকে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক বাসিন্দা অভিযোগের আঙুল তুলে জানান, ওবায়দুর রহমান আগে থেকেই বিদেশে মানুষ, বিশেষ করে নারী কর্মী পাঠানোর ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। অভিযোগ উঠছে, ওই নারীকে বিদেশে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়েই নাকি এমন ফাঁদ পাতা হয়েছিল। এর আগেও এমন আর্থিক ও ব্যক্তিগত প্রতারণার একাধিক অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে।

তবে ওবায়দুর রহমান এই পুরো ঘটনাটিকে তাঁর রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ধ্বংস করার এক সুপরিকল্পিত চক্রান্ত বলে দাবি করেছেন। নিজেকে সম্পূর্ণ নির্দোষ দাবি করে তাঁর সাফ বক্তব্য, “রাজনৈতিকভাবে আমাকে সমাজ ও দলের কাছে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য প্রযুক্তির কারসাজিতে এই ভুয়া ভিডিও ছড়ানো হচ্ছে। ১ মিনিট ২ সেকেন্ডের ওই ক্লিপের মানুষটি কোনোভাবেই আমি নই।”

পর্দার আড়ালে সালিশি, বিপাকে জেলা নেতৃত্ব

ভিডিও ফাঁসের এই নাটকে আরও এক চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন স্থানীয় এক নেতা। তাঁর দাবি, ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর গত দুদিন আগেই এই স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে ঘরোয়াভাবে একটি ‘সালিশ-মীমাংসা’র বৈঠক বসেছিল। কিন্তু সেই মীমাংসার পরেও কীভাবে এবং কারা এই গোপন ভিডিও সোশ্যালে ফাঁস করে দিল, তা নিয়ে রহস্য দানা বেঁধেছে।

দলীয় অবস্থান

আলিয়াবাদ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম অবশ্য কিছুটা দূরত্ব বজায় রেখেই জানিয়েছেন, ওবায়দুর তাদের কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক এবং তিনি অতীতে বিদেশে লোক পাঠানোর কাজ করতেন বলে তারা জানেন, তবে ভিডিওর সত্যতা নিয়ে তিনি মন্তব্য করতে নারাজ।

অন্য দিকে, দলের ভাবমূর্তি রক্ষায় কড়া অবস্থান নিয়েছে জেলা নেতৃত্ব। জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এ কে এম কিবরীয়া স্বপন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, “ব্যক্তিগত কোনো কেলেঙ্কারির দায় দল নেবে না। দলের কোনো স্তরের নেতার বিরুদ্ধে যদি এই ধরনের নৈতিক অবক্ষয় বা সুনির্দিষ্ট অভিযোগের প্রমাণ মেলে, তবে তাৎক্ষণিকভাবে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

মফস্বলের রাজনীতির এই জলঘোলা জল কতদূর গড়ায় এবং এই ১ মিনিট ২ সেকেন্ডের ভিডিও ক্লিপ ওবায়দুরের রাজনৈতিক ভাগ্য কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার।