জামায়াত এমপির কেচ্ছায় এবার আগুনে ঘি দিলেন ঢাবি শিক্ষিকা মুনামি
- আপডেট সময় : ০৫:১৮:৫৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬
- / 266
সাতক্ষীরা-৪ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে তৈরি হওয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ঝড় যেন কিছুতেই থামছে না। ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও আর সিসিটিভি ফুটেজ ফাঁসের পর থেকে দেশজুড়ে যে তীব্র আলোচনা ও সমালোচনার পারদ চড়ছিল, তাতে এবার যুক্ত হলো দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও বুদ্ধিজীবী মহলের কণ্ঠস্বর। এমপি সাহেবের এই ‘দ্বিতীয় স্ত্রী’র তত্ত্ব আর ভাইরালিটির আবহে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র বিস্ময় ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শেহরীন আমিন ভূঁইয়া।
বুধবার (২২ জুলাই ২০২৬) নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই বিষয়ে তাঁর ক্ষুরধার ও তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন, যা মুহূর্তের মধ্যেই নেটিজেনদের মধ্যে ভাইরাল হয়ে গেছে।
“দুইদিন আগেই বলেছিলাম, দায়িত্বশীল হতে হবে!”
সংসদ সদস্যের মতো একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদের অধিকারী ব্যক্তির এমন আচরণে কতটা আশাহত ও বিস্মিত হয়েছেন, তা স্পষ্ট শেহরীন আমিনের ফেসবুক স্ট্যাটাসে। ফেসবুকে তিনি অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত অথচ চাবুকের মতো তীক্ষ্ণ ভাষায় লেখেন:
“দুইদিন আগেই বলেছিলাম, দায়িত্বশীল হতে হবে, দুইদিন পর আজকে ফেসবুকে ঢুকে দেখি জামায়াত এমপি গাজী নজরুল ইসলাম… Why !!! Simply why !!”
এর আগে গত সোমবার (২০ জুলাই) রাতে সংসদ সদস্য নজরুল ইসলামের এক তরুণীর সঙ্গে একটি কক্ষের সিসিটিভি ফুটেজের কিছু আপত্তিকর ও ব্যক্তিগত দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি সামনে আসার পর থেকেই বিশেষ করে ধর্মীয় ও নৈতিকতার রাজনীতি করা দল জামায়াতের এই শীর্ষ নেতার ভূমিকা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন ও গুঞ্জনের ডালপালা মেলতে শুরু করে।
জিম্মি করার অভিযোগ বনাম জামায়াতের ‘দ্বিতীয় স্ত্রী’র ঢাল
ভিডিওটি দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ার পর অবশ্য তীব্র ড্যামেজ কন্ট্রোলে নামেন এমপি গাজী নজরুল ইসলাম এবং তাঁর দল। এক লিখিত বিবৃতিতে এমপি দাবি করেন, ভিডিওতে দৃশ্যমান ওই তরুণী অন্য কেউ নন, তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম বেগম। এমনকি মগবাজারে শ্বশুরের অফিসে তাঁকে জিম্মি করে এক লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে ব্ল্যাকমেইল করার উদ্দেশ্যে এই ভিডিও ছড়ানো হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
এদিকে দলটির কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরা সদস্যের এমন ব্যক্তিগত ভিডিও নিয়ে দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হওয়ায় আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিতে বাধ্য হয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীও। দলের জেলা সেক্রেটারিও নিশ্চিত করেছেন যে, প্রথম স্ত্রীর লিখিত অনুমতি নিয়েই প্রবীণ এই নেতা দ্বিতীয় বিয়ে করেছিলেন। তবে বিষয়টি আইনি নাকি নৈতিক—তা নিয়ে বিতর্ক থামছে না।





















