আ’লীগ নেত্রী ও ইউপি সদস্য শিলার আত্মহত্যা
- আপডেট সময় : ১০:৪০:২০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬
- / 148
বাইরে তিনি জনপ্রতিনিধি, এলাকার মানুষের সুখ-দুঃখের কাণ্ডারি। কিন্তু ঘরের চারদেয়ালের ভেতরে তিনিই আবার এক পৈশাচিক ও বর্বরোচিত নির্যাতনের শিকার! অবশেষে স্বামীর সেই ধারাবাহিক ও অমানুষিক নির্যাতনের বিষাক্ত ছোবল সইতে না পেরে নিজের জীবনপ্রদীপ নিজেই নিভিয়ে দিলেন বরিশালের আগৈলঝাড়ার নারী ইউপি সদস্য শিলা ইসলাম (৩৫)। শুক্রবার (২৪ জুলাই ২০২৬) দিবাগত রাতে মুমূর্ষু অবস্থায় বরিশাল শেরেবাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতালে নিয়ে আসা হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। দুই কন্যাসন্তানের মায়ের এই করুণ পরিণতিতে গোটা এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও কান্নার রোল উঠেছে।
নিহত শিলা ইসলাম কার্যক্রম নিষিদ্ধ বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগের আগৈলঝাড়া উপজেলা শাখার শ্রমবিষয়ক সম্পাদক এবং গৈলা ইউনিয়নের ৭, ৮ ও ৯ নম্বর সংরক্ষিত ওয়ার্ডের বর্তমান ইউপি সদস্য ছিলেন।
সুখের আড়ালে বিষাক্ত সংসার: কাঠগড়ায় ইউপি সদস্য স্বামী
ঘটনাস্থল থেকে প্রাপ্ত তথ্যের গভীরে চোখ রাখলে এক হাড়হিম করা পারিবারিক সহিংসতার চিত্র উঠে আসে। নিহত শিলার স্বামী শফিকুল ইসলাম মারুফ সেরনিয়াবাত খোদ একই ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য। শিলা ছিলেন মারুফ সেরনিয়াবাতের দ্বিতীয় স্ত্রী। জনপ্রতিনিধি এই দম্পতির সাজানো সংসারের আড়ালে যে প্রতিদিন টর্চার সেল চলত, তা ফাঁশ করেছেন খোদ শিলার বাবা আব্দুস সালাম হাওলাদার।
অত্যন্ত ভাঙা গলায় ও ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি জানান, “কারণে-অকারণে শিলার স্বামী মারুফ প্রায়ই আমার মেয়েকে পশুর মতো মারধর করত। শুক্রবার বিকেল ৩টার দিকে সেরাল গ্রামের ভাড়া বাসায় বসে মারুফ আমার মেয়ে শিলার ওপর অমানুষিক ও বর্বরোচিত নির্যাতন চালায়। সেই তীব্র শারীরিক ও মানসিক যন্ত্রণা সইতে না পেরে ঘরের দরজা বন্ধ করে শিলা গলায় ফাঁস দেয়।”
পরবর্তীতে প্রতিবেশীরা ঘরের দরজা ভেঙে শিলাকে ঝুলন্ত অবস্থা থেকে উদ্ধার করে প্রথমে আগৈলঝাড়া উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে অবস্থার চরম অবনতি হলে আশঙ্কাজনক অবস্থায় বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। কিন্তু শেষ রক্ষা আর হয়নি; রাতের অন্ধকারেই চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
পুলিশি তৎপরতা ও পলাতক স্বামী: উত্তাল আগৈলঝাড়া
একই সাথে দুই জনপ্রতিনিধির এমন পারিবারিক দ্বন্দ্ব এবং একজনের আত্মহত্যার ঘটনায় নড়েচড়ে বসেছে স্থানীয় প্রশাসন। ঘটনার সত্যতা শতভাগ নিশ্চিত করে বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আল মামুন উল ইসলাম জানান, “খবর পাওয়া মাত্রই হাসপাতালে তাৎক্ষণিক পুলিশ পাঠানো হয়েছে এবং মরদেহের সুরতহাল করা হয়েছে। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার পেছনে মূল কারণ খতিয়ে দেখে দ্রুত পরবর্তী কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।” ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত স্বামী মারুফ সেরনিয়াবাত এলাকা ছেড়ে গা ঢাকা দিয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।





















