ফরিদপুরে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী নারী ৬ মাসের অন্তঃসত্ত্বা, পিতৃত্ব নিয়ে ধোঁয়াশা
- আপডেট সময় : ১০:১২:২৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬
- / 85
তিনি অনাথ, স্বামী পরিত্যক্তা। তদুপরি প্রকৃতির নির্মম পরিহাসে শারীরিক ও আংশিক বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী। ঘরের চারদেয়ালের নিরাপত্তা নেই, মাথার ওপর নেই মা-বাবার ছায়া। বেঁচে থাকার তাগিদে মানুষের দুয়ারে দুয়ারে গৃহস্থালির কাজ করাই ছিল যাঁর নিয়তি। আর এই চরম অসহায়তার সুযোগ নিয়ে কার বা কাদের লালসার শিকার হতে হলো এই নিস্পাপ নারীকে? ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার শেখর গ্রামে এক বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী নারী ৬ মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ার ঘটনায় গোটা এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। তবে অনাগত সন্তানের পিতৃত্ব কার—তা নিয়ে একের পর এক পাল্টা-পাল্টি অভিযোগ ও নাটকীয় মোড় আসায় গোটা ঘটনাটি এখন গভীর কুয়াশায় ঢাকা পড়েছে।
তুচ্ছ লালসা আর ভীতি প্রদর্শনের এই কুৎসিত চিত্র প্রকাশ্যে আসতেই স্থানীয় প্রশাসনের টনক নড়েছে। পুলিশ এখন ঘটনার সত্যতা উদঘাটনে মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
ভয়ভীতির দেওয়াল বনাম পাল্টা অভিযোগ: নেপথ্যে কারা?
ভুক্তভোগী ওই নারীর সরল অথচ করুণ বয়ান অনুযায়ী, দুই বছর আগে চুয়াডাঙ্গার বাবলু শেখ নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে তাঁর বিয়ে হলেও দীর্ঘদিন ধরে স্বামী কোনো খোঁজ নেন না। মায়ের মৃত্যুর পর জীবিকার তাগিদে তিনি প্রতিবেশী অহিদ শেখের বাড়িতে কাজ শুরু করেন। ভুক্তভোগীর দাবি, এই সুবাদেই অহিদ শেখের ছেলে মেহেদী হাসান শেখের সঙ্গে তাঁর শারীরিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। কিন্তু গর্ভধারণের পর থেকেই মেহেদীর পরিবার থেকে তাঁকে লাগাতার প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
তবে এই চাবুক-মার্কা অভিযোগের বিপরীতে সুর চড়িয়েছেন অভিযুক্ত মেহেদী হাসানের বাবা অহিদ শেখ। তিনি সাফ জানান—“আমার ছেলের বিরুদ্ধে আনা এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অপ্রমাণিত। আমরা চাই ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে সত্য উদঘাটন করা হোক। তদন্তে আমার ছেলে দোষী প্রমাণিত হলে দেশের আইন অনুযায়ী যে শাস্তি হবে, আমরা মাথা পেতে নেব।”
ঘটনায় নাটকীয়তা আরও বাড়ে যখন খোদ অভিযুক্ত মেহেদী হাসান মুঠোফোনে দাবি করেন—“ওই নারী আমাদের বাড়িতে আসতেন তা সত্য। কিন্তু গ্রামের তারা শেখ ও সায়েম শেখ নামের ব্যক্তিরা তাঁর সঙ্গে অনৈতিক কাজ করেছেন, যা অনেকেই জানে। এখন রাজনৈতিক প্রলোভন ও ভয় দেখিয়ে আমার নাম বলানো হচ্ছে। ডিএনএ টেস্টই এর একমাত্র সমাধান।” অন্যদিকে, অভিযুক্ত তারা শেখও তাঁর বিরুদ্ধে আনা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে একে সম্পূর্ণ ‘ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।
ভিন্ন ভিন্ন নাম ও প্রশাসনের তদন্তের আশ্বাস
গ্রামের সাধারণ বাসিন্দারা জানিয়েছেন, ভুক্তভোগী নারী আংশিক বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী হওয়ায় বিভিন্ন সময় জিজ্ঞাসাবাদের মুখে তিনি ভিন্ন ভিন্ন ব্যক্তির নাম উল্লেখ করেছেন। ফলে অনাগত সন্তানের আসল পিতা কে, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে এক চরম ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।
এই স্পর্শকাতর বিষয়ে শেখর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য (মেম্বার) রিজাউল বলেন, “বিষয়টি লোকমুখে শুনেছি। একজন অসহায় নারীর সঙ্গে এমন অন্যায় মেনে নেওয়া যায় না। সত্যতা নিশ্চিত করতে দ্রুত মেডিকেল পরীক্ষা ও প্রশাসনের কড়া তদন্ত হওয়া উচিত।”
আইনের চাবুক কতখানি প্রস্তুত, জানতে চাওয়া হলে বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “বিষয়টি ইতঃপূর্বে আমাদের জানা ছিল না এবং থানায় কোনো লিখিত অভিযোগও আসেনি। তবে গণমাধ্যমের মারফত খবর পেয়েই আমরা নড়েচড়ে বসেছি। অত্যন্ত দ্রুততার সাথে একজন অফিসার পাঠিয়ে খবরের সত্যতা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”




















