ফরিদপুরে স্কুলের জায়গা দখল করে রাস্তা নির্মাণ, মুখোমুখি শিক্ষা প্রশাসন ও প্রভাবশালী মহল
- আপডেট সময় : ১২:৪২:৫১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬
- / 79
যেখানে শিশুদের কলকাকলিতে মুখরিত হওয়ার কথা বিদ্যার প্রাঙ্গণ, সেখানেই এখন আধিপত্য আর পেশিশক্তির আস্ফালন! ফরিদপুরের নগরকান্দায় এক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জমি গ্রাস করে জোরপূর্বক রাস্তা নির্মাণের এক নজিরবিহীন ও ধৃষ্টতাপূর্ণ অভিযোগ সামনে এসেছে। উপজেলার ১৪ নম্বর বাউতিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দক্ষিণ পাশের সরকারি জমি দখল করে এই মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছেন শাহিন মিয়া নামের এক স্থানীয় বাসিন্দা। শিক্ষার আলো ছড়ানো সরকারি প্রতিষ্ঠানকে এভাবে কোণঠাসা করার চক্রান্ত ফাঁস হতেই গোটা এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
সরকারি সম্পত্তি রক্ষা ও কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে ইতিমধ্যেই বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে চাবুক মারতে শুরু করেছে। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে জমা পড়েছে লিখিত নালিশ।
জোরপূর্বক দখলের মরিয়া চেষ্টা বনাম ‘উন্নয়ন প্রকল্পে’র ধোঁয়াশা
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ, শাহিন মিয়া বেশ কিছুদিন ধরেই দলবল ও বহিরাগত লোকজন নিয়ে স্কুলের ভেতরে হানা দিচ্ছেন এবং জোরপূর্বক রাস্তা বের করার চেষ্টা চালাচ্ছেন। এর ফলে শুধু যে রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি বেদখল হবে তা-ই নয়, ভবিষ্যতে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ যেমন ভেস্তে যাবে, ঠিক তেমনই স্কুলের ভেতর দিয়ে যানবাহন চলাচল করলে খুদে শিক্ষার্থীদের জীবনও চরম ঝুঁকির মুখে পড়বে।
অবশ্য এই গুরুতর অভিযোগের মুখে সুর নরম করেও এক অভিনব সাফাই গেয়েছেন অভিযুক্ত শাহিন মিয়া। নিজের ডানা বাঁচাতে তিনি বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। শুনেছি আমার বাড়ির জন্য এডিপির আওতায় ২০০ ফুটের একটি রাস্তা অনুমোদন হয়েছে。 তবে বর্তমানে বর্ষার পানি থাকায় কাজ শুরু করা সম্ভব নয়। পানি কমলে যাচাই-বাছাই করে স্কুলের জায়গা বাদ দিয়েই রাস্তা করা হবে।” এখানেই শেষ নয়, পাল্টা চাবুক মেরে তিনি আরও যোগ করেন, “স্কুলের উত্তর পাশেও তো অনেকেই জায়গা দখল করে ঘর তুলেছেন, প্রশাসন আগে সেগুলো ভাঙুক!”
প্রশাসনের ফাইল চালাচালি ও প্রকৌশলীর রহস্যজনক নীরবতা
বিদ্যালয়ের স্বার্থে কোনো আপস করা হবে না জানিয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আমেনা খানম অত্যন্ত কড়া সুরে বলেন, “বিদ্যালয়ের ভেতর দিয়ে রাস্তা নির্মাণ করতে দেওয়া মানে সরকারি সম্পত্তি ডাকাতদের হাতে তুলে দেওয়া। এতে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হবে। আমরা শিক্ষা প্রশাসনকে লিখিতভাবে জানিয়েছি এবং আইনি লড়াই জারি রাখব।”
এদিকে সরকারি দপ্তরের চিরাচরিত ফাইল চালাচালি শুরু হয়েছে। নগরকান্দা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. চুন্নু ফকির লিখিত অভিযোগ পাওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) লিখিতভাবে অবহিত করা হয়েছে। তবে এই অনুমোদনহীন রাস্তার নেপথ্য কারিগর নগরকান্দা উপজেলা প্রকৌশলী খন্দকার রাহাত ফেরদৌসের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর রহস্যজনক নীরবতা ভাঙা সম্ভব হয়নি।
প্রশাসনের শীর্ষ স্তরে কড়া নাড়তেই নড়েচড়ে বসেছেন নগরকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজওয়ানা আফরিন। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, “ওই স্থানে এডিপির আওতায় একটি প্রকল্প ছিল ঠিকই, তবে আপাতত কাজ সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয়েছে। অভিযোগটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে বিদ্যালয়ের স্বার্থে প্রয়োজনীয় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”




















