ঢাকা ১০:৩৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরিদপুরের আলিম মুন্সীর পরিবারকে হামলা-হুমকির ও উচ্ছেদের অভিযোগ

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ১২:১৩:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ জুন ২০২৫
  • / 398

ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার দারাজউদ্দীন মোল্যার ডাঙ্গী গ্রামের আলিম মুন্সীর পরিবারকে উচ্ছেদের উদ্দেশ্যে স্থানীয় প্রভাবশালী প্রতিপক্ষরা ধারাবাহিকভাবে হামলা, মামলা ও হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। রোববার (১৫ জুন, ২০২৫) বিকেলে এক সাংবাদিক সম্মেলনে আলিম মুন্সীর স্ত্রী জাহেদা বেগম এই গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। একইসঙ্গে, পরিবারের সদস্যদের ওপর বারবার নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরে প্রতিকার চেয়ে জেলা পুলিশ প্রধানের কাছে একটি দরখাস্তও করেছেন তিনি।

সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জাহেদা বেগম দাবি করেন, গত ৩১ মে প্রতিপক্ষের সিয়াম খান ও তার মা ঝরনা বেগম তাদের আরও দুই সঙ্গী নিয়ে অতর্কিত হামলা চালিয়ে তার স্বামী আলিম মুন্সীকে মারধর করে আহত করেন। তিনি জানান, কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে তাদের বাড়ির মাটি ধুয়ে প্রতিবেশী সিয়াম খানের জমিতে যায়। সেই মাটি তুলতে গেলে সিয়াম খানের মা ঝরনা বেগম তাকে গালমন্দ করেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই তারা সংঘবদ্ধ হয়ে তার স্বামী আলিম মুন্সীর ওপর হামলা চালায়। এই ঘটনায় আলিম মুন্সী আহত হলে থানায় অভিযোগ দেওয়া হয়, কিন্তু সেটি নথিভুক্ত করা হয়নি। বাধ্য হয়ে গত ১ জুন এই ঘটনায় আদালতে অভিযোগ দায়ের করা হয়।

জাহেদা বেগম আরও অভিযোগ করেন, থানা কর্তৃপক্ষ তার মামলা রুজু না করলেও, গত ৫ জুন প্রতিপক্ষ ঝরনা বেগমের দেওয়া অভিযোগটি নথিভুক্ত করে পুলিশ। ওই অভিযোগপত্রে জাহেদা বেগম ও তার পরিবারের সদস্যসহ অজ্ঞাত কয়েকজনকে আসামি করা হয়, যা সম্পূর্ণ হয়রানিমূলক বলে তিনি দাবি করেন।

ভয়াবহ হুমকি ও ত্রাসের রাজত্ব

তিনি দাবি করেন, প্রতিবেশী সিয়াম খাঁ গংরা প্রভাবশালী হওয়ায় প্রতিনিয়ত হুমকি ও হামলার ঘটনা ঘটালেও কেউ তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষী দিতে সাহস পায় না। এতে তারা আরও বেশি বেপরোয়া হয়ে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করছে। জাহেদার দাবি, তারা মূলত নানাভাবে তার পরিবারকে উচ্ছেদের অপচেষ্টা চালাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, জমিজমা বিরোধের জেরে প্রতিবেশী সিয়াম খাঁ গংরা এর আগে কয়েকবার হুমকি প্রদানসহ হামলা-মামলার ঘটনা ঘটিয়েছে। গত ফেব্রুয়ারি/২০২৫ মাসে সিয়াম খাঁর নেতৃত্বে তার কিশোর পুত্রকে বেধড়ক মারধর করা হয়। এর প্রতিবাদ করলে সিয়াম খাঁ তার সঙ্গীদের নিয়ে বাড়ির পাশে বসে মাদক সেবনরত অবস্থায় জাহেদাকে উদ্দেশ্য করে অশ্লীল মন্তব্য ও বিভিন্ন ধরনের খারাপ ইঙ্গিত করতে থাকে। একপর্যায়ে মাদকের গন্ধ ও তাদের এমন অসৌজন্যমূলক আচরণে অতিষ্ঠ হয়ে, তাদের অন্যত্র সরে যাওয়ার কথা বলায় সিয়াম খাঁ ক্ষুব্ধ হয়ে সঙ্গীদের নিয়ে তাদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে জাহেদার শরীরের বিভিন্ন অংশে নীলা-ফুলা জখম করে এবং তার গলায় থাকা একটি স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়।

এই ঘটনায় মামলা করতে গেলে স্থানীয়রা সালিশের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসা করে প্রতিপক্ষ সিয়াম খাঁকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। তবে জাহেদা ওই টাকা সকলের উপস্থিতিতে ছেড়ে দেন। কিন্তু সেদিন আবারও তার বাড়িতে এসে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ায় বাধ্য হয়ে চরভদ্রাসন থানায় একটি জিডি (সাধারণ ডায়েরি) এন্ট্রি করেন। যদিও ঘটনার সত্যতা পেয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতে তা উপস্থাপন করেন। ওই মামলায় জামিন নিয়ে তারা আরও বেপরোয়া হয়ে তাদের ওপর আরও বেশি জুলুম-অত্যাচার করতে থাকে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, তার সঙ্গে এ ধরনের অন্যায়মূলক কর্মকাণ্ড চরভদ্রাসন থানা পুলিশকে মৌখিক ও লিখিতভাবে জানালেও আজ অবধি সুবিচার পাননি।

আইনি প্রতিকার ও পুলিশের বক্তব্য

জাহেদা বেগম দাবি করেন, আইনানুগভাবে তারা অপরাধের শাস্তি না পাওয়ায় আরও বেশি ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে। প্রতি মুহূর্তে নানা ধরনের খারাপ মন্তব্য ও হুমকি-ধামকি দিচ্ছে। ফলশ্রুতিতে তিনি ও পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন দাবি করে প্রতিকার চেয়ে ফরিদপুরের পুলিশ সুপার বরাবর অভিযোগ করেছেন।

তবে চরভদ্রাসন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রজিউল্লাহ খান জানান, এর আগে জাহেদা বেগম হুমকি প্রদানের অভিযোগে একটি সাধারণ ডায়েরি করেছিলেন, যার সত্যতা পাওয়ায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, গত ৩১ মে তারিখের ঘটনায় উভয় পক্ষই মারামারি করে। এ সময় ঝরনা বেগমের হাতের আঙুল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া ঝরনা বেগম সার্টিফিকেটসহ অভিযোগ দেওয়ায় তদন্ত করে মামলা নথিভুক্ত করে আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে।

ফরিদপুরের আলিম মুন্সীর পরিবারকে হামলা-হুমকির ও উচ্ছেদের অভিযোগ

আপডেট সময় : ১২:১৩:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ জুন ২০২৫

ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার দারাজউদ্দীন মোল্যার ডাঙ্গী গ্রামের আলিম মুন্সীর পরিবারকে উচ্ছেদের উদ্দেশ্যে স্থানীয় প্রভাবশালী প্রতিপক্ষরা ধারাবাহিকভাবে হামলা, মামলা ও হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। রোববার (১৫ জুন, ২০২৫) বিকেলে এক সাংবাদিক সম্মেলনে আলিম মুন্সীর স্ত্রী জাহেদা বেগম এই গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। একইসঙ্গে, পরিবারের সদস্যদের ওপর বারবার নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরে প্রতিকার চেয়ে জেলা পুলিশ প্রধানের কাছে একটি দরখাস্তও করেছেন তিনি।

সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জাহেদা বেগম দাবি করেন, গত ৩১ মে প্রতিপক্ষের সিয়াম খান ও তার মা ঝরনা বেগম তাদের আরও দুই সঙ্গী নিয়ে অতর্কিত হামলা চালিয়ে তার স্বামী আলিম মুন্সীকে মারধর করে আহত করেন। তিনি জানান, কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে তাদের বাড়ির মাটি ধুয়ে প্রতিবেশী সিয়াম খানের জমিতে যায়। সেই মাটি তুলতে গেলে সিয়াম খানের মা ঝরনা বেগম তাকে গালমন্দ করেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই তারা সংঘবদ্ধ হয়ে তার স্বামী আলিম মুন্সীর ওপর হামলা চালায়। এই ঘটনায় আলিম মুন্সী আহত হলে থানায় অভিযোগ দেওয়া হয়, কিন্তু সেটি নথিভুক্ত করা হয়নি। বাধ্য হয়ে গত ১ জুন এই ঘটনায় আদালতে অভিযোগ দায়ের করা হয়।

জাহেদা বেগম আরও অভিযোগ করেন, থানা কর্তৃপক্ষ তার মামলা রুজু না করলেও, গত ৫ জুন প্রতিপক্ষ ঝরনা বেগমের দেওয়া অভিযোগটি নথিভুক্ত করে পুলিশ। ওই অভিযোগপত্রে জাহেদা বেগম ও তার পরিবারের সদস্যসহ অজ্ঞাত কয়েকজনকে আসামি করা হয়, যা সম্পূর্ণ হয়রানিমূলক বলে তিনি দাবি করেন।

ভয়াবহ হুমকি ও ত্রাসের রাজত্ব

তিনি দাবি করেন, প্রতিবেশী সিয়াম খাঁ গংরা প্রভাবশালী হওয়ায় প্রতিনিয়ত হুমকি ও হামলার ঘটনা ঘটালেও কেউ তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষী দিতে সাহস পায় না। এতে তারা আরও বেশি বেপরোয়া হয়ে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করছে। জাহেদার দাবি, তারা মূলত নানাভাবে তার পরিবারকে উচ্ছেদের অপচেষ্টা চালাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, জমিজমা বিরোধের জেরে প্রতিবেশী সিয়াম খাঁ গংরা এর আগে কয়েকবার হুমকি প্রদানসহ হামলা-মামলার ঘটনা ঘটিয়েছে। গত ফেব্রুয়ারি/২০২৫ মাসে সিয়াম খাঁর নেতৃত্বে তার কিশোর পুত্রকে বেধড়ক মারধর করা হয়। এর প্রতিবাদ করলে সিয়াম খাঁ তার সঙ্গীদের নিয়ে বাড়ির পাশে বসে মাদক সেবনরত অবস্থায় জাহেদাকে উদ্দেশ্য করে অশ্লীল মন্তব্য ও বিভিন্ন ধরনের খারাপ ইঙ্গিত করতে থাকে। একপর্যায়ে মাদকের গন্ধ ও তাদের এমন অসৌজন্যমূলক আচরণে অতিষ্ঠ হয়ে, তাদের অন্যত্র সরে যাওয়ার কথা বলায় সিয়াম খাঁ ক্ষুব্ধ হয়ে সঙ্গীদের নিয়ে তাদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে জাহেদার শরীরের বিভিন্ন অংশে নীলা-ফুলা জখম করে এবং তার গলায় থাকা একটি স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়।

এই ঘটনায় মামলা করতে গেলে স্থানীয়রা সালিশের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসা করে প্রতিপক্ষ সিয়াম খাঁকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। তবে জাহেদা ওই টাকা সকলের উপস্থিতিতে ছেড়ে দেন। কিন্তু সেদিন আবারও তার বাড়িতে এসে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ায় বাধ্য হয়ে চরভদ্রাসন থানায় একটি জিডি (সাধারণ ডায়েরি) এন্ট্রি করেন। যদিও ঘটনার সত্যতা পেয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতে তা উপস্থাপন করেন। ওই মামলায় জামিন নিয়ে তারা আরও বেপরোয়া হয়ে তাদের ওপর আরও বেশি জুলুম-অত্যাচার করতে থাকে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, তার সঙ্গে এ ধরনের অন্যায়মূলক কর্মকাণ্ড চরভদ্রাসন থানা পুলিশকে মৌখিক ও লিখিতভাবে জানালেও আজ অবধি সুবিচার পাননি।

আইনি প্রতিকার ও পুলিশের বক্তব্য

জাহেদা বেগম দাবি করেন, আইনানুগভাবে তারা অপরাধের শাস্তি না পাওয়ায় আরও বেশি ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে। প্রতি মুহূর্তে নানা ধরনের খারাপ মন্তব্য ও হুমকি-ধামকি দিচ্ছে। ফলশ্রুতিতে তিনি ও পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন দাবি করে প্রতিকার চেয়ে ফরিদপুরের পুলিশ সুপার বরাবর অভিযোগ করেছেন।

তবে চরভদ্রাসন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রজিউল্লাহ খান জানান, এর আগে জাহেদা বেগম হুমকি প্রদানের অভিযোগে একটি সাধারণ ডায়েরি করেছিলেন, যার সত্যতা পাওয়ায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, গত ৩১ মে তারিখের ঘটনায় উভয় পক্ষই মারামারি করে। এ সময় ঝরনা বেগমের হাতের আঙুল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া ঝরনা বেগম সার্টিফিকেটসহ অভিযোগ দেওয়ায় তদন্ত করে মামলা নথিভুক্ত করে আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে।