ইরানের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণ পরাজয়
- আপডেট সময় : ১১:০২:১৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬
- / 200
ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সংঘাত ও মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র এক “পূর্ণ পরাজয়ের” দিকে ধাবিত হচ্ছে বলে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রভাবশালী মার্কিন নব্য-রক্ষণশীল চিন্তাবিদ ও দীর্ঘদিনের ইসরাইলপন্থি হিসেবে পরিচিত রবার্ট কাগান। তাঁর মতে, এই সংঘাতের ফলে ওয়াশিংটনের এমন ক্ষতি হয়েছে যা আর পূরণ করা সম্ভব নয়।
কৌশলগত দুর্বলতার উন্মোচন:
যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক সামরিক প্রভাব বিস্তারের অন্যতম প্রবক্তা কাগান ‘দি আটলান্টিক’-এ প্রকাশিত এক নিবন্ধে জানান, এই সংঘাত আমেরিকাকে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত দুর্বল করে দিয়েছে। তিনি বলেন, “আগের অবস্থায় আর ফেরা যাবে না। এমন কোনো চূড়ান্ত বিজয় আসবে না যা এই ক্ষতিকে মুছে দিতে পারবে।” তিনি মনে করেন, এই যুদ্ধ আমেরিকার শক্তির বদলে তার অযোগ্যতা ও অবিশ্বস্ততাকেই বিশ্বের সামনে উন্মোচিত করেছে।
হরমুজ প্রণালীর গুরুত্ব ও ক্ষমতার ভারসাম্য:
কাগানের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে হরমুজ প্রণালীর গুরুত্ব। তিনি মনে করেন, এই প্রণালীর ওপর নিয়ন্ত্রণ ইরানকে আঞ্চলিক শক্তি থেকে বৈশ্বিক প্রভাবশালী শক্তিতে রূপান্তরিত করছে। তেহরান কোনোভাবেই এই কৌশলগত হাতিয়ার হাতছাড়া করবে না, যার ফলে ওয়াশিংটনের দরকষাকষির ক্ষমতা তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে।
ইসরাইলের জন্য বিপর্যয়:
পিবিএস-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই বিশ্লেষক সতর্ক করেছেন যে, চলমান পরিস্থিতি ইসরাইলের জন্য “অত্যন্ত বিপর্যয়কর” হতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের প্রভাব কমে গিয়ে তা ইরান ও তাদের মিত্রদের দিকে ঝুঁকে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা দেখছেন তিনি।
পুরানো নীতির প্রবক্তার ভোলবদল:
উল্লেখ্য, ১৯৯৭ সালে ‘প্রজেক্ট ফর দ্য নিউ আমেরিকান সেঞ্চুরি’-র সহ-প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে কাগানই ছিলেন ২০০৩ সালের ইরাক যুদ্ধের অন্যতম প্রবর্তক। বুশ প্রশাসনের পররাষ্ট্রনীতিতে তাঁর ও তাঁর স্ত্রী ভিক্টোরিয়া নুল্যান্ডের বিশাল প্রভাব ছিল। দীর্ঘকাল মার্কিন হস্তক্ষেপবাদের পক্ষে সোচ্চার থাকা এই চিন্তাবিদের মুখ থেকে পরাজয়ের এমন সতর্কবার্তা আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

























