ফরিদপুর: সাবেক মন্ত্রীর এপিএস ফুয়াদের ৫.৪৪ কোটি টাকার সম্পত্তি ক্রোক
- আপডেট সময় : ০৩:৩৩:৪০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ নভেম্বর ২০২৫
- / 1070
স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন সমবায় মন্ত্রণালয়ের সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশারফ হোসেনের (এমপি) সাবেক এপিএস এএইচ এম ফুয়াদের বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পত্তি ক্রোক করেছে ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট (সিআইডি)। তাঁর প্রায় ৫ কোটি ৪৪ লাখ ৯৫ হাজার ৫৮৬ টাকা মূল্যমানের সম্পত্তি ক্রোক করার আদেশ দিয়েছেন ফরিদপুরের বিজ্ঞ সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালত।
সোমবার (২৪ নভেম্বর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সিআইডি এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। ক্রোককৃত সম্পত্তির মধ্যে রয়েছে একটি ফ্ল্যাটসহ ৩৮.৯৩৩ শতাংশ জমি।
অবৈধ সম্পদ অর্জনের পদ্ধতি
সিআইডি জানিয়েছে, মন্ত্রীর এপিএস থাকাকালীন এএইচ এম ফুয়াদ ফরিদপুরে ‘হেলমেট বাহিনী’ নামের একটি শক্তিশালী গোষ্ঠী তৈরি করে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জন করেন।
হেলমেট বাহিনী: ফরিদপুর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সাজ্জাদ হোসেন বরকত এবং তাঁর ভাই ইমতিয়াজ হোসেন রুবেল-এর নেতৃত্বে ফুয়াদ এই বাহিনী তৈরি করেন।
টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ: এই বাহিনীর সাহায্যে তিনি এলজিইডি, স্বাস্থ্য প্রকৌশলী, শিক্ষা অধিদপ্তর, গণপূর্ত বিভাগ, বিএডিসি, পাসপোর্ট অফিস, বিআরটিএ, রোডস এন্ড হাইওয়েসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের টেন্ডারগুলো নিজের নিয়ন্ত্রণে নিতেন।
কমিশন ও চাঁদাবাজি: এসব টেন্ডার থেকে কমিশন গ্রহণ এবং বিভিন্ন ব্যক্তিকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে অর্থ উপার্জন করতেন ফুয়াদ।
বেনামে বিপুল সম্পত্তির মালিক ফুয়াদ
অনুসন্ধানে সিআইডি তাঁর নিজের নামে ছাড়াও বহু আত্মীয়-স্বজনের নামে সম্পত্তি কেনার তথ্য পেয়েছে:
আত্মীয়দের নামে সম্পত্তি: ফুয়াদ তাঁর প্রথম স্ত্রী ফারজানা ফোয়াদ, দ্বিতীয় স্ত্রী তাছলিমা আক্তার বাবলী, এবং দ্বিতীয় পক্ষের শাশুড়ী নাদিরা বেগম-এর নামে-বেনামে বহু জায়গা-জমি ক্রয় করেছেন।
অন্যান্য বিনিয়োগ: তাঁর ভাই ও ভাগিনাদের হাতে এসব সম্পত্তির দখলদারিত্ব ন্যস্ত আছে। এমনকি বেনামে বিলাসবহুল বাস কিনে পরিবহনখাতেও বিনিয়োগের তথ্য পাওয়া গেছে।
মামলা ও তদন্তের অগ্রগতি
মামলা: অবৈধ সম্পদ অর্জনের এই ঘটনায় অনুসন্ধান শেষে সিআইডি বাদী হয়ে ফরিদপুর জেলার কোতোয়ালী থানায় মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন-২০১২ (সংশোধনী/২০১৫) এর অধীনে একটি মামলা (মামলা নং- ১৩) রুজু করে।
তদন্ত: বর্তমানে মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম সিআইডি’র ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট পরিচালনা করছে।
অভিযান: সিআইডি জানিয়েছে, অপরাধের পূর্ণাঙ্গ তথ্য উদঘাটন, অপরাপর সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতার করার স্বার্থে তাদের তদন্ত ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।





















