ঢাকা ১০:০১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরিদপুরে বিএনপির দুই গ্রুপে রণক্ষেত্র: কার্যালয়ে আগুন-ভাঙচুর, আহত ২৫

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ০৮:০৫:২০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ নভেম্বর ২০২৫
  • / 727

ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে ‘বিপ্লব ও সংহতি দিবস’-এর কর্মসূচি পালনকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (৭ নভেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে উপজেলা সদরের ওয়াবদা মোড় এলাকায় এই সংঘর্ষ হয়। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন, যার মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

সংঘর্ষকালে উপজেলা বিএনপির একাংশের কার্যালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। এছাড়া ১৫টি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং আশপাশের ১০-১২টি দোকান ভাঙচুর করা হয়। সেনাবাহিনী ও পুলিশের হস্তক্ষেপে প্রায় এক ঘণ্টা পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

সংঘর্ষের নেপথ্যে: আধিপত্য ও মনোনয়ন দ্বন্দ্ব

স্থানীয় ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এই সংঘর্ষের মূলে রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তার ও দলীয় মনোনয়ন নিয়ে বিরোধ।

দুই গ্রুপ: সংঘর্ষে জড়িয়েছে সাবেক সংসদ সদস্য ও কৃষকদলের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি খন্দকার নাসিরুল ইসলাম গ্রুপ এবং উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি শামসুদ্দিন মিয়া ঝুনু গ্রুপ।

উত্তেজনার কারণ: সম্প্রতি বিএনপির মনোনয়ন ঘোষণা এবং উপজেলা বিএনপির কমিটি গঠন নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা চলছিল। ৭ নভেম্বর উপলক্ষে দুই গ্রুপ পৃথক র‍্যালি ও সমাবেশের আয়োজন করলে এই উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করে।

হামলা ও ধ্বংসযজ্ঞের বিবরণ

সরেজমিনে দেখা যায়, ঝুনু গ্রুপ ওয়াবদা মোড়ে তাদের কার্যালয়ের সামনে কর্মসূচি পালন করছিল, আর নাসিরুল ইসলাম গ্রুপ ছিল চৌরাস্তা এলাকায়। দুই পক্ষের শত শত নেতাকর্মীর আনাগোনাকে কেন্দ্র করে বিকেল থেকেই উত্তেজনা বাড়তে থাকে।

নাসির গ্রুপের হামলা: বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে খন্দকার নাসিরুল ইসলামের পক্ষের শত শত নেতাকর্মী লাঠিসোঁটা, ইট-পাটকেল ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ওয়াবদা এলাকায় ঝুনু সমর্থিত অফিসে হামলা চালায়।

ক্ষয়ক্ষতি: হামলাকারীরা বিএনপি কার্যালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। তারা আশেপাশের প্রায় ১০-১২টি দোকানে হামলা চালায় এবং ১৫টি মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে এই ধ্বংসযজ্ঞ চলে।

আহত: সংঘর্ষে উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মিনাজুর রহমান লিপন, লিয়াকত মোল্লা, রফিকুল ইসলাম, টিটু, জব্বার, ইমদাদুল হক, লাভলুসহ অন্তত ২৫ জন আহত হন।

কর্তৃপক্ষের ভূমিকা

স্বাস্থ্য পরিস্থিতি: উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার আব্দুল্লা আল মাসুম জানান, সাত জন আহত হয়ে এসেছিলেন, যার মধ্যে তিনজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাঁদের ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

নিয়ন্ত্রণ: খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস আগুন নেভাতে গেলেও বিক্ষুব্ধদের বাধার মুখে ফিরে যায়। পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৫টার দিকে সেনাবাহিনী ও পুলিশের যৌথ দল এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

প্রশাসনিক প্রতিক্রিয়া: উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানভীর হাসান চৌধুরী ঘটনাটিকে ‘দুঃখজনক’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং এমন বিশৃঙ্খলা আশা করেননি বলে জানান।

বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান জানিয়েছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে।

ফরিদপুরে বিএনপির দুই গ্রুপে রণক্ষেত্র: কার্যালয়ে আগুন-ভাঙচুর, আহত ২৫

আপডেট সময় : ০৮:০৫:২০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ নভেম্বর ২০২৫

ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে ‘বিপ্লব ও সংহতি দিবস’-এর কর্মসূচি পালনকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (৭ নভেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে উপজেলা সদরের ওয়াবদা মোড় এলাকায় এই সংঘর্ষ হয়। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন, যার মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

সংঘর্ষকালে উপজেলা বিএনপির একাংশের কার্যালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। এছাড়া ১৫টি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং আশপাশের ১০-১২টি দোকান ভাঙচুর করা হয়। সেনাবাহিনী ও পুলিশের হস্তক্ষেপে প্রায় এক ঘণ্টা পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

সংঘর্ষের নেপথ্যে: আধিপত্য ও মনোনয়ন দ্বন্দ্ব

স্থানীয় ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এই সংঘর্ষের মূলে রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তার ও দলীয় মনোনয়ন নিয়ে বিরোধ।

দুই গ্রুপ: সংঘর্ষে জড়িয়েছে সাবেক সংসদ সদস্য ও কৃষকদলের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি খন্দকার নাসিরুল ইসলাম গ্রুপ এবং উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি শামসুদ্দিন মিয়া ঝুনু গ্রুপ।

উত্তেজনার কারণ: সম্প্রতি বিএনপির মনোনয়ন ঘোষণা এবং উপজেলা বিএনপির কমিটি গঠন নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা চলছিল। ৭ নভেম্বর উপলক্ষে দুই গ্রুপ পৃথক র‍্যালি ও সমাবেশের আয়োজন করলে এই উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করে।

হামলা ও ধ্বংসযজ্ঞের বিবরণ

সরেজমিনে দেখা যায়, ঝুনু গ্রুপ ওয়াবদা মোড়ে তাদের কার্যালয়ের সামনে কর্মসূচি পালন করছিল, আর নাসিরুল ইসলাম গ্রুপ ছিল চৌরাস্তা এলাকায়। দুই পক্ষের শত শত নেতাকর্মীর আনাগোনাকে কেন্দ্র করে বিকেল থেকেই উত্তেজনা বাড়তে থাকে।

নাসির গ্রুপের হামলা: বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে খন্দকার নাসিরুল ইসলামের পক্ষের শত শত নেতাকর্মী লাঠিসোঁটা, ইট-পাটকেল ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ওয়াবদা এলাকায় ঝুনু সমর্থিত অফিসে হামলা চালায়।

ক্ষয়ক্ষতি: হামলাকারীরা বিএনপি কার্যালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। তারা আশেপাশের প্রায় ১০-১২টি দোকানে হামলা চালায় এবং ১৫টি মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে এই ধ্বংসযজ্ঞ চলে।

আহত: সংঘর্ষে উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মিনাজুর রহমান লিপন, লিয়াকত মোল্লা, রফিকুল ইসলাম, টিটু, জব্বার, ইমদাদুল হক, লাভলুসহ অন্তত ২৫ জন আহত হন।

কর্তৃপক্ষের ভূমিকা

স্বাস্থ্য পরিস্থিতি: উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার আব্দুল্লা আল মাসুম জানান, সাত জন আহত হয়ে এসেছিলেন, যার মধ্যে তিনজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাঁদের ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

নিয়ন্ত্রণ: খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস আগুন নেভাতে গেলেও বিক্ষুব্ধদের বাধার মুখে ফিরে যায়। পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৫টার দিকে সেনাবাহিনী ও পুলিশের যৌথ দল এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

প্রশাসনিক প্রতিক্রিয়া: উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানভীর হাসান চৌধুরী ঘটনাটিকে ‘দুঃখজনক’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং এমন বিশৃঙ্খলা আশা করেননি বলে জানান।

বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান জানিয়েছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে।