ঢাকা ১১:৪০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরিদপুরে খাল খননের নামে লাখ লাখ টাকার গাছ লোপাট

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ১২:১৭:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬
  • / 166

ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার গুনবহা ইউনিয়নে খাল খননের আড়ালে প্রায় তিন শতাধিক বিভিন্ন প্রজাতির সরকারি গাছ কেটে নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। প্রকাশ্যে খালের দুই পাড়ের সরকারি রাস্তার পাশ থেকে বিশাল আকারের গাছগুলো ইতোমধ্যেই কেটে নেওয়া হয়েছে, যার বাজারমূল্য কয়েক লাখ টাকা। এই গাছ লোপাটের ঘটনা নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে তীব্র তোলপাড় সৃষ্টি হলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন।

খাল খননের আড়ালে বৃক্ষনিধন:

স্থানীয়দের অভিযোগ, গত কয়েকদিন আগে গুনবহা ইউনিয়নের নদের চাঁদ বাজার থেকে স্লুইস গেট পর্যন্ত কয়েক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে একটি খাল খনন কাজের উদ্বোধন করা হয়। কিন্তু কাজ শুরুর কিছুদিনের মধ্যেই খালের দুই পাড়ের বিভিন্ন প্রজাতির মূল্যবান গাছ কেটে নিতে শুরু করে প্রভাবশালী একটি মহল। গাছ না কেটেও খাল খনন করা সম্ভব ছিল বলে স্থানীয়রা জানান।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, খালের পাশ দিয়ে যাওয়া নদের চাঁদ-বোয়ালমারী সড়কের পাশের বেশির ভাগ গাছই বনবিভাগের। এছাড়া খালের অপর পাড়ে সরকারি ও ব্যক্তিগত জায়গা থেকেও দেদারছে গাছ কাটা হচ্ছে। খালের পাড়ে সামাজিক বনায়ন কর্মসূচির প্রায় ৮ হাজার গাছ রয়েছে, যার মধ্যে এরই মধ্যে বেশ কিছু গাছ কেটে সাবাড় করা হয়েছে। বনবিভাগ পরবর্তীতে কিছু গাছ উদ্ধার করে তাদের হেফাজতে নিয়েছে।

বনবিভাগ ও চেয়ারম্যানের কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি:

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় কয়েকজন অভিযোগ করেন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের প্রত্যক্ষ মদদেই গত কয়েকদিন ধরে এই গাছগুলো কাটা হচ্ছে। তবে এই হরিলুটের ঘটনা জানাজানি হতেই বনবিভাগ ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান একে অপরের ওপর দায় চাপাচ্ছেন।

ফরিদপুরের সহকারী বন সংরক্ষক তাওহীদ হোসেন অভিযোগ করে বলেন, “উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও গুনবহা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আমাদের না জানিয়ে গাছগুলো কেটে নেন। আমাদের বনবিভাগের কেউ এই গাছ কাটার সঙ্গে যুক্ত নন।” তিনি আরও জানান, অল্পকিছু গাছ কাটার জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসার নির্দেশ দিলে, তারা কিছু গাছ কেটে বনবিভাগে জমা দেওয়ার কথা বলেছিলেন মাত্র।

এদিকে বন কর্মকর্তার এই বক্তব্যকে সম্পূর্ণ মিথ্যা দাবি করে গুনবহা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম জানান, “আমি কিংবা আমার দলের কেউ গাছ কাটার সঙ্গে জড়িত নই। বন কর্মকর্তা নিজেদের দোষ ঢাকতে আমাদের জড়িয়ে মিথ্যা প্রচারণা চালাচ্ছেন।”

প্রশাসনের তদন্ত কমিটি গঠন:

খাল খননের নামে প্রকাশ্যে গাছ লোপাটের বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হওয়ায় নড়েচড়ে বসেছে উপজেলা প্রশাসন।

বোয়ালমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম রকিবুল হাসান জানান, বিষয়টি নিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি হওয়ায় ইতিমধ্যেই তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ফরিদপুরে খাল খননের নামে লাখ লাখ টাকার গাছ লোপাট

আপডেট সময় : ১২:১৭:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬

ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার গুনবহা ইউনিয়নে খাল খননের আড়ালে প্রায় তিন শতাধিক বিভিন্ন প্রজাতির সরকারি গাছ কেটে নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। প্রকাশ্যে খালের দুই পাড়ের সরকারি রাস্তার পাশ থেকে বিশাল আকারের গাছগুলো ইতোমধ্যেই কেটে নেওয়া হয়েছে, যার বাজারমূল্য কয়েক লাখ টাকা। এই গাছ লোপাটের ঘটনা নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে তীব্র তোলপাড় সৃষ্টি হলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন।

খাল খননের আড়ালে বৃক্ষনিধন:

স্থানীয়দের অভিযোগ, গত কয়েকদিন আগে গুনবহা ইউনিয়নের নদের চাঁদ বাজার থেকে স্লুইস গেট পর্যন্ত কয়েক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে একটি খাল খনন কাজের উদ্বোধন করা হয়। কিন্তু কাজ শুরুর কিছুদিনের মধ্যেই খালের দুই পাড়ের বিভিন্ন প্রজাতির মূল্যবান গাছ কেটে নিতে শুরু করে প্রভাবশালী একটি মহল। গাছ না কেটেও খাল খনন করা সম্ভব ছিল বলে স্থানীয়রা জানান।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, খালের পাশ দিয়ে যাওয়া নদের চাঁদ-বোয়ালমারী সড়কের পাশের বেশির ভাগ গাছই বনবিভাগের। এছাড়া খালের অপর পাড়ে সরকারি ও ব্যক্তিগত জায়গা থেকেও দেদারছে গাছ কাটা হচ্ছে। খালের পাড়ে সামাজিক বনায়ন কর্মসূচির প্রায় ৮ হাজার গাছ রয়েছে, যার মধ্যে এরই মধ্যে বেশ কিছু গাছ কেটে সাবাড় করা হয়েছে। বনবিভাগ পরবর্তীতে কিছু গাছ উদ্ধার করে তাদের হেফাজতে নিয়েছে।

বনবিভাগ ও চেয়ারম্যানের কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি:

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় কয়েকজন অভিযোগ করেন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের প্রত্যক্ষ মদদেই গত কয়েকদিন ধরে এই গাছগুলো কাটা হচ্ছে। তবে এই হরিলুটের ঘটনা জানাজানি হতেই বনবিভাগ ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান একে অপরের ওপর দায় চাপাচ্ছেন।

ফরিদপুরের সহকারী বন সংরক্ষক তাওহীদ হোসেন অভিযোগ করে বলেন, “উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও গুনবহা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আমাদের না জানিয়ে গাছগুলো কেটে নেন। আমাদের বনবিভাগের কেউ এই গাছ কাটার সঙ্গে যুক্ত নন।” তিনি আরও জানান, অল্পকিছু গাছ কাটার জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসার নির্দেশ দিলে, তারা কিছু গাছ কেটে বনবিভাগে জমা দেওয়ার কথা বলেছিলেন মাত্র।

এদিকে বন কর্মকর্তার এই বক্তব্যকে সম্পূর্ণ মিথ্যা দাবি করে গুনবহা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম জানান, “আমি কিংবা আমার দলের কেউ গাছ কাটার সঙ্গে জড়িত নই। বন কর্মকর্তা নিজেদের দোষ ঢাকতে আমাদের জড়িয়ে মিথ্যা প্রচারণা চালাচ্ছেন।”

প্রশাসনের তদন্ত কমিটি গঠন:

খাল খননের নামে প্রকাশ্যে গাছ লোপাটের বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হওয়ায় নড়েচড়ে বসেছে উপজেলা প্রশাসন।

বোয়ালমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম রকিবুল হাসান জানান, বিষয়টি নিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি হওয়ায় ইতিমধ্যেই তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।