ঢাকা ০৮:২৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬, ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরিদপুর বাস টার্মিনালে রণক্ষেত্র: নির্বাচন ঘিরে সংঘর্ষ , আহত ৮

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ০৫:৫৪:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ জুলাই ২০২৫
  • / 810

ফরিদপুর, ২২ জুলাই ২০২৫ (মঙ্গলবার) – ফরিদপুরে জেলা মোটর ওয়ার্কার্স শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের শ্রমিকদের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষে কমপক্ষে ৮ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ায় ফরিদপুর পৌর বাস টার্মিনাল রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। খবর পেয়ে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলেও, সাধারণ শ্রমিকরা আন্তঃজেলা বাস চলাচল বন্ধ করে দিয়েছেন, যার ফলে যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।

সংঘর্ষের সূত্রপাত ও টার্মিনালের চিত্র

আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত দফায় দফায় এই সংঘর্ষ চলে। জানা গেছে, জেলা মোটর ওয়ার্কার্স শ্রমিক ইউনিয়নের (১০৫৫) প্রহসনের নির্বাচন বাতিলের দাবিতে শ্রমিকদের একাংশ সকাল ১১টার দিকে ফরিদপুর পৌর বাস টার্মিনাল এলাকায় মানববন্ধন করার জন্য সড়কের পাশে জড়ো হয়। এ সময় অপরপক্ষের শ্রমিকরা এসে মানববন্ধন থেকে ব্যানার কেড়ে নেয় এবং মাইক ভাঙচুর করে।

মুহূর্তেই দুই পক্ষ লাঠিসোটা নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে, যার ফলে পুরো বাসস্ট্যান্ড এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। সংঘর্ষে অন্তত ৮ জন শ্রমিক আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

‘প্রহসনের নির্বাচন’ ও শ্রমিকদের ক্ষোভ

প্রত্যক্ষদর্শী ও শ্রমিকদের অভিযোগ, জেলা মোটর ওয়ার্কার্স শ্রমিক ইউনিয়নের (১০৫৫) ইয়াছিন মোল্যা অনুসারীরা সংগঠনের বেশিরভাগ ভোটারকে বাদ দিয়ে নির্বাচন সম্পন্ন করেছে। শ্রমিক সংগঠনটির মোট ৭ হাজার ২০০ জন সদস্যের মধ্যে মাত্র ১ হাজার দুইজনের ভোটার তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছিল। এই একপেশে নির্বাচনে ২১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটিতে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী না থাকায় গত ১৭ জুলাই ইয়াছিন মোল্যা সভাপতি পদে এবং মেহেদী হাসান সাধারণ সম্পাদক পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।

এই নির্বাচনকে ‘প্রহসনের নির্বাচন’ দাবি করে এর বাতিল ও আয়োজনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য এক পক্ষের শ্রমিকরা বাস টার্মিনালের সামনে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে মানববন্ধনের আয়োজন করেন। মানববন্ধনের শুরুতেই অপরপক্ষের লোকজন লাঠিসোটা নিয়ে হামলা চালিয়ে তাদের ব্যানার ও মাইক ভাঙচুর করে এবং শ্রমিকদের এলোপাতাড়িভাবে পেটায়।

বাস চলাচল বন্ধ ও ভোগান্তি

এই ঘটনার প্রতিবাদে সাধারণ শ্রমিকরা উত্তেজিত হয়ে দুপুর ১২টার দিকে ফরিদপুর থেকে সকল রুটের বাস চলাচল বন্ধ করে দেন। তারা লাঠিসোটা নিয়ে বাস টার্মিনালে অবস্থান নেন। দুপুর ২টার দিকে দুই পক্ষের মধ্যে পুনরায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

মাদারীপুরের টেকেরহাট থেকে ফরিদপুরে আসা পথযাত্রী রাহাত শিকদার বলেন, “জরুরি কাজে ফরিদপুর এসেছিলাম। এখন ফিরে যাওয়ার সময় দেখি বাসস্ট্যান্ডে শ্রমিকরা লাঠিসোটা নিয়ে মারামারি করছে। বাস না চলায় যেতে পারছি না। এ বিষয়ে দ্রুত একটা সমাধান হওয়া দরকার।”

নেতা ও পুলিশের বক্তব্য

জেলা মোটর ওয়ার্কার্স শ্রমিক ইউনিয়নের সদ্য নির্বাচিত সভাপতি ইয়াছিন মোল্যা মানববন্ধনকারীদের ‘আওয়ামী লীগের দোসর’ আখ্যায়িত করে বলেন, “এই আওয়ামী লীগের দোসররা এখনও চাঁদাবাজি করছে। আমাদের সুষ্ঠু নির্বাচন হয়েছে। সকল কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে নির্বাচনের আয়োজন করেছিল কমিশনার। আজকে মানবন্ধনে আওয়ামী লীগের দোসররা একত্রিত হয়েছিল, তখন আমরা শ্রমিকরা বাধা দিয়েছি।”

ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদউজ্জামান বলেন, “শ্রমিকদের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের উত্তেজনা হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। তবে দ্রুতই বাস চলাচল স্বাভাবিক করার ব্যবস্থা করতে আলোচনা চলছে। আশা করছি এ ব্যাপারে দ্রুত সমাধান হয়ে যাবে।”

ফরিদপুর বাস টার্মিনালে রণক্ষেত্র: নির্বাচন ঘিরে সংঘর্ষ , আহত ৮

আপডেট সময় : ০৫:৫৪:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ জুলাই ২০২৫

ফরিদপুর, ২২ জুলাই ২০২৫ (মঙ্গলবার) – ফরিদপুরে জেলা মোটর ওয়ার্কার্স শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের শ্রমিকদের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষে কমপক্ষে ৮ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ায় ফরিদপুর পৌর বাস টার্মিনাল রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। খবর পেয়ে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলেও, সাধারণ শ্রমিকরা আন্তঃজেলা বাস চলাচল বন্ধ করে দিয়েছেন, যার ফলে যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।

সংঘর্ষের সূত্রপাত ও টার্মিনালের চিত্র

আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত দফায় দফায় এই সংঘর্ষ চলে। জানা গেছে, জেলা মোটর ওয়ার্কার্স শ্রমিক ইউনিয়নের (১০৫৫) প্রহসনের নির্বাচন বাতিলের দাবিতে শ্রমিকদের একাংশ সকাল ১১টার দিকে ফরিদপুর পৌর বাস টার্মিনাল এলাকায় মানববন্ধন করার জন্য সড়কের পাশে জড়ো হয়। এ সময় অপরপক্ষের শ্রমিকরা এসে মানববন্ধন থেকে ব্যানার কেড়ে নেয় এবং মাইক ভাঙচুর করে।

মুহূর্তেই দুই পক্ষ লাঠিসোটা নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে, যার ফলে পুরো বাসস্ট্যান্ড এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। সংঘর্ষে অন্তত ৮ জন শ্রমিক আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

‘প্রহসনের নির্বাচন’ ও শ্রমিকদের ক্ষোভ

প্রত্যক্ষদর্শী ও শ্রমিকদের অভিযোগ, জেলা মোটর ওয়ার্কার্স শ্রমিক ইউনিয়নের (১০৫৫) ইয়াছিন মোল্যা অনুসারীরা সংগঠনের বেশিরভাগ ভোটারকে বাদ দিয়ে নির্বাচন সম্পন্ন করেছে। শ্রমিক সংগঠনটির মোট ৭ হাজার ২০০ জন সদস্যের মধ্যে মাত্র ১ হাজার দুইজনের ভোটার তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছিল। এই একপেশে নির্বাচনে ২১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটিতে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী না থাকায় গত ১৭ জুলাই ইয়াছিন মোল্যা সভাপতি পদে এবং মেহেদী হাসান সাধারণ সম্পাদক পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।

এই নির্বাচনকে ‘প্রহসনের নির্বাচন’ দাবি করে এর বাতিল ও আয়োজনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য এক পক্ষের শ্রমিকরা বাস টার্মিনালের সামনে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে মানববন্ধনের আয়োজন করেন। মানববন্ধনের শুরুতেই অপরপক্ষের লোকজন লাঠিসোটা নিয়ে হামলা চালিয়ে তাদের ব্যানার ও মাইক ভাঙচুর করে এবং শ্রমিকদের এলোপাতাড়িভাবে পেটায়।

বাস চলাচল বন্ধ ও ভোগান্তি

এই ঘটনার প্রতিবাদে সাধারণ শ্রমিকরা উত্তেজিত হয়ে দুপুর ১২টার দিকে ফরিদপুর থেকে সকল রুটের বাস চলাচল বন্ধ করে দেন। তারা লাঠিসোটা নিয়ে বাস টার্মিনালে অবস্থান নেন। দুপুর ২টার দিকে দুই পক্ষের মধ্যে পুনরায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

মাদারীপুরের টেকেরহাট থেকে ফরিদপুরে আসা পথযাত্রী রাহাত শিকদার বলেন, “জরুরি কাজে ফরিদপুর এসেছিলাম। এখন ফিরে যাওয়ার সময় দেখি বাসস্ট্যান্ডে শ্রমিকরা লাঠিসোটা নিয়ে মারামারি করছে। বাস না চলায় যেতে পারছি না। এ বিষয়ে দ্রুত একটা সমাধান হওয়া দরকার।”

নেতা ও পুলিশের বক্তব্য

জেলা মোটর ওয়ার্কার্স শ্রমিক ইউনিয়নের সদ্য নির্বাচিত সভাপতি ইয়াছিন মোল্যা মানববন্ধনকারীদের ‘আওয়ামী লীগের দোসর’ আখ্যায়িত করে বলেন, “এই আওয়ামী লীগের দোসররা এখনও চাঁদাবাজি করছে। আমাদের সুষ্ঠু নির্বাচন হয়েছে। সকল কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে নির্বাচনের আয়োজন করেছিল কমিশনার। আজকে মানবন্ধনে আওয়ামী লীগের দোসররা একত্রিত হয়েছিল, তখন আমরা শ্রমিকরা বাধা দিয়েছি।”

ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদউজ্জামান বলেন, “শ্রমিকদের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের উত্তেজনা হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। তবে দ্রুতই বাস চলাচল স্বাভাবিক করার ব্যবস্থা করতে আলোচনা চলছে। আশা করছি এ ব্যাপারে দ্রুত সমাধান হয়ে যাবে।”