ঢাকা ০৫:৪৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬, ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরিদপুরে সন্দেহভাজন যুবককে ঝুলিয়ে পেটানোর পর মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দিল পুলিশ

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ১২:১২:০৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৫
  • / 497

ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে চোর সন্দেহে আহাদ সিকদার (২৯) নামে এক যুবককে অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসী তাকে একটি ঘরের আড়ার সঙ্গে হাত-পা বেঁধে ঝুলিয়ে বেধড়ক পিটিয়েছে। মঙ্গলবার রাতে এই ঘটনা ঘটলেও, নির্যাতনের ভিডিওটি বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।

কী ঘটেছিল

বোয়ালমারী উপজেলার সাতৈর ইউনিয়নের ডোবরা গ্রামের বাসিন্দা আহাদ সিকদারকে স্থানীয়রা ‘চিহ্নিত চোর’ এবং ‘মাদক সেবনকারী’ বলে দাবি করেছেন। সম্প্রতি মিল গেট এলাকায় চুরি, পাট চুরি ও মিলের তার চুরির ঘটনার সন্দেহে স্থানীয় কালাম শেখ ও রবিউল শেখের নেতৃত্বে একদল লোক আহাদকে ধরে একটি দোকান ঘরে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে ঘরের আড়ার সঙ্গে হাত-পা বেঁধে লোহার রড ও হাতুড়ি দিয়ে নির্যাতন করা হয়।

একপর্যায়ে চুরির স্বীকারোক্তি আদায়ের পর আহাদকে বোয়ালমারী থানায় সোপর্দ করা হয়। পরে তার অভিভাবকের অনুরোধে ভালো হওয়ার শর্তে মুচলেকা নিয়ে থানা থেকে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

আহাদ এবং তার স্বজনদের বক্তব্য

নির্যাতনের শিকার আহাদ সিকদার চুরি করার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “আমি একজন ইজিবাইক চালক। কালাম আর রবিউলের লোকজন আমাকে ধরে নিয়ে হাত-পা বেঁধে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে পিটিয়ে চুরির স্বীকারোক্তি আদায় করে। কালামদের সাথে দল না করায় তারা আমাকে ধরে পিটিয়েছে।”

আহাদের দাদি সালেহা বেগমও একই কথা বলেছেন। তিনি জানান, আহাদ কোনো চোর নয়, বরং ইজিবাইক চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে।

স্থানীয় যুবদল নেতা ও পুলিশের বক্তব্য

যুবদল নেতা কালাম শেখ এবং রবিউল ইসলাম জানান, আহাদ একজন পেশাদার চোর। এলাকাবাসী অতিষ্ঠ হয়ে তাকে ধরে মারধর করে। পরে তারা তাকে উদ্ধার করে থানায় দিয়ে আসেন।

বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান বলেন, “আহাদের বিরুদ্ধে এলাকাবাসী কোনো মামলা না করায় তাকে আদালতে চালান করা হয়। পরে আদালত থেকে সে জামিনে ছাড়া পায়। তাকে মারপিটের বিষয়টি আমাদের কেউ জানানাননি।”

ফরিদপুরে সন্দেহভাজন যুবককে ঝুলিয়ে পেটানোর পর মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দিল পুলিশ

আপডেট সময় : ১২:১২:০৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৫

ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে চোর সন্দেহে আহাদ সিকদার (২৯) নামে এক যুবককে অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসী তাকে একটি ঘরের আড়ার সঙ্গে হাত-পা বেঁধে ঝুলিয়ে বেধড়ক পিটিয়েছে। মঙ্গলবার রাতে এই ঘটনা ঘটলেও, নির্যাতনের ভিডিওটি বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।

কী ঘটেছিল

বোয়ালমারী উপজেলার সাতৈর ইউনিয়নের ডোবরা গ্রামের বাসিন্দা আহাদ সিকদারকে স্থানীয়রা ‘চিহ্নিত চোর’ এবং ‘মাদক সেবনকারী’ বলে দাবি করেছেন। সম্প্রতি মিল গেট এলাকায় চুরি, পাট চুরি ও মিলের তার চুরির ঘটনার সন্দেহে স্থানীয় কালাম শেখ ও রবিউল শেখের নেতৃত্বে একদল লোক আহাদকে ধরে একটি দোকান ঘরে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে ঘরের আড়ার সঙ্গে হাত-পা বেঁধে লোহার রড ও হাতুড়ি দিয়ে নির্যাতন করা হয়।

একপর্যায়ে চুরির স্বীকারোক্তি আদায়ের পর আহাদকে বোয়ালমারী থানায় সোপর্দ করা হয়। পরে তার অভিভাবকের অনুরোধে ভালো হওয়ার শর্তে মুচলেকা নিয়ে থানা থেকে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

আহাদ এবং তার স্বজনদের বক্তব্য

নির্যাতনের শিকার আহাদ সিকদার চুরি করার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “আমি একজন ইজিবাইক চালক। কালাম আর রবিউলের লোকজন আমাকে ধরে নিয়ে হাত-পা বেঁধে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে পিটিয়ে চুরির স্বীকারোক্তি আদায় করে। কালামদের সাথে দল না করায় তারা আমাকে ধরে পিটিয়েছে।”

আহাদের দাদি সালেহা বেগমও একই কথা বলেছেন। তিনি জানান, আহাদ কোনো চোর নয়, বরং ইজিবাইক চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে।

স্থানীয় যুবদল নেতা ও পুলিশের বক্তব্য

যুবদল নেতা কালাম শেখ এবং রবিউল ইসলাম জানান, আহাদ একজন পেশাদার চোর। এলাকাবাসী অতিষ্ঠ হয়ে তাকে ধরে মারধর করে। পরে তারা তাকে উদ্ধার করে থানায় দিয়ে আসেন।

বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান বলেন, “আহাদের বিরুদ্ধে এলাকাবাসী কোনো মামলা না করায় তাকে আদালতে চালান করা হয়। পরে আদালত থেকে সে জামিনে ছাড়া পায়। তাকে মারপিটের বিষয়টি আমাদের কেউ জানানাননি।”