ঢাকা ০৯:০০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরিদপুরে গণধর্ষণের শিকার স্কুল ছাত্রী

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ০৫:১৫:০১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • / 998

ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলায় টিকটকারের মাধ্যমে প্রলোভন দেখিয়ে এক স্কুলছাত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ঘটনাটি ঘটলে শনিবার রাতে মামলা হয়। দ্রুত অভিযান চালিয়ে পুলিশ মূল অভিযুক্ত টিকটকারসহ দুই ধর্ষককে গ্রেপ্তার করেছে এবং আদালতের মাধ্যমে তাদের জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

টিকটকের মাধ্যমে ফাঁদ পাতা

ভুক্তভোগী ওই ছাত্রী সালথা উপজেলার একটি উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী। থানা সূত্রে জানা যায়, টিকটকের মাধ্যমে বোয়ালমারীর দুর্গাপুর গ্রামের দাউদ বিশ্বাসের (২৩) সঙ্গে তার পরিচয় হয়।

ঘটনার সূত্রপাত: দাউদ বিশ্বাস মেয়েটিকে তেলজুড়ি নৌকা বাইচের মেলা দেখার আমন্ত্রণ জানায়। মেয়েটি গত বৃহস্পতিবার বিকেলে মেলায় আসে।

নৃশংসতা: মেলায় ঘোরাঘুরি শেষে সন্ধ্যার পর কিশোৱীটিকে পরমেশ্বরদী গ্রামের একটি মেহগনি বাগানে নিয়ে যায় দাউদ। সেখানে অজ্ঞাত আরও দুইজনসহ মোট তিনজন মিলে তাকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করে।

মামলা, উদ্ধার ও দুই ধর্ষক গ্রেপ্তার

মেয়েটির বাড়ি থেকে খোঁজাখুঁজি শুরু হলে তারা দাউদের মোবাইল নম্বর জোগাড় করেন। দাউদকে ফোন করলে প্রথমে সে কেটে দেয়, পরে জানায়, আধা ঘণ্টার মধ্যে মেয়েটিকে তারা পেয়ে যাবেন।

পরিবারের লোকজন তেলজুড়ি আসার পথে একটি ভ্যানে মেয়েটিকে পেয়ে দ্রুত বোয়ালমারী থানায় চলে যান।

আইনি পদক্ষেপ: এ ঘটনায় মেয়েটির দাদা বাদি হয়ে দাউদের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা ২ জনসহ মোট তিনজনকে আসামি করে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলাটি রেকর্ড করা হয়।

গ্রেপ্তার: মামলা হওয়ার দুই ঘণ্টা পরেই পুলিশ দাউদ বিশ্বাসকে গ্রেপ্তার করে। তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী অপর আসামি দুর্গাপুর গ্রামের মো. আতর আলী শেখকে (২৩) গ্রেপ্তার করা হয়। রবিবার তাদের আদালতে চালান করা হয়।

পুলিশের বক্তব্য ও অভিযান

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা, পরিদর্শক (তদন্ত) মােহাম্মদ আল আমিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শেষে মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। ভিকটিম ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) চিকিৎসা নিয়েছে এবং বর্তমানে বাড়িতে বিশ্রামে আছে।

তিনি আরও বলেন, গ্রেপ্তারকৃত দুই আসামিকে আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং পলাতক অপর আসামিকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

ফরিদপুরে গণধর্ষণের শিকার স্কুল ছাত্রী

আপডেট সময় : ০৫:১৫:০১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫

ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলায় টিকটকারের মাধ্যমে প্রলোভন দেখিয়ে এক স্কুলছাত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ঘটনাটি ঘটলে শনিবার রাতে মামলা হয়। দ্রুত অভিযান চালিয়ে পুলিশ মূল অভিযুক্ত টিকটকারসহ দুই ধর্ষককে গ্রেপ্তার করেছে এবং আদালতের মাধ্যমে তাদের জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

টিকটকের মাধ্যমে ফাঁদ পাতা

ভুক্তভোগী ওই ছাত্রী সালথা উপজেলার একটি উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী। থানা সূত্রে জানা যায়, টিকটকের মাধ্যমে বোয়ালমারীর দুর্গাপুর গ্রামের দাউদ বিশ্বাসের (২৩) সঙ্গে তার পরিচয় হয়।

ঘটনার সূত্রপাত: দাউদ বিশ্বাস মেয়েটিকে তেলজুড়ি নৌকা বাইচের মেলা দেখার আমন্ত্রণ জানায়। মেয়েটি গত বৃহস্পতিবার বিকেলে মেলায় আসে।

নৃশংসতা: মেলায় ঘোরাঘুরি শেষে সন্ধ্যার পর কিশোৱীটিকে পরমেশ্বরদী গ্রামের একটি মেহগনি বাগানে নিয়ে যায় দাউদ। সেখানে অজ্ঞাত আরও দুইজনসহ মোট তিনজন মিলে তাকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করে।

মামলা, উদ্ধার ও দুই ধর্ষক গ্রেপ্তার

মেয়েটির বাড়ি থেকে খোঁজাখুঁজি শুরু হলে তারা দাউদের মোবাইল নম্বর জোগাড় করেন। দাউদকে ফোন করলে প্রথমে সে কেটে দেয়, পরে জানায়, আধা ঘণ্টার মধ্যে মেয়েটিকে তারা পেয়ে যাবেন।

পরিবারের লোকজন তেলজুড়ি আসার পথে একটি ভ্যানে মেয়েটিকে পেয়ে দ্রুত বোয়ালমারী থানায় চলে যান।

আইনি পদক্ষেপ: এ ঘটনায় মেয়েটির দাদা বাদি হয়ে দাউদের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা ২ জনসহ মোট তিনজনকে আসামি করে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলাটি রেকর্ড করা হয়।

গ্রেপ্তার: মামলা হওয়ার দুই ঘণ্টা পরেই পুলিশ দাউদ বিশ্বাসকে গ্রেপ্তার করে। তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী অপর আসামি দুর্গাপুর গ্রামের মো. আতর আলী শেখকে (২৩) গ্রেপ্তার করা হয়। রবিবার তাদের আদালতে চালান করা হয়।

পুলিশের বক্তব্য ও অভিযান

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা, পরিদর্শক (তদন্ত) মােহাম্মদ আল আমিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শেষে মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। ভিকটিম ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) চিকিৎসা নিয়েছে এবং বর্তমানে বাড়িতে বিশ্রামে আছে।

তিনি আরও বলেন, গ্রেপ্তারকৃত দুই আসামিকে আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং পলাতক অপর আসামিকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।