ঢাকা ১২:৪২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গণধর্ষণ প্রতিবাদে উত্তাল খাগড়াছড়ি: নিহত ৩, অবরুদ্ধ পুরো জেলা

দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ১১:৩৭:৪৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • / 232

খাগড়াছড়ির গুইমারা উপজেলায় এক পাহাড়ি কিশোরীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের প্রতিবাদে সৃষ্ট বিক্ষোভ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। বিক্ষোভকারী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে পাল্টাপাল্টি সংঘর্ষে অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন। এই সংঘর্ষে সেনাবাহিনীর এক মেজরসহ ১৩ সেনাসদস্য, গুইমারা থানার ওসিসহ ৩ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে জেলা সদরসহ গুইমারায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।

নিহত ৩, আহত সেনা-পুলিশসহ অনেকে

স্থানীয় পুলিশ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তিনজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে। নিহতদের মরদেহ খাগড়াছড়ি জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে নিহতদের ‘দুষ্কৃতকারীদের হামলায় নিহত পাহাড়ি’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আহসান হাবিব পলাশ জানিয়েছেন, নিহতদের শরীরে গুলির চিহ্ন রয়েছে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, রবিবার বিকেল থেকে সন্ধ্যার মধ্যে তিনজনের মরদেহ এবং গুরুতর আহত চারজনকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়।

গণধর্ষণের প্রতিবাদে লাগাতার অবরোধ ও তাণ্ডব

‘জুম্ম ছাত্র-জনতা’র ব্যানারে গত শনিবার ভোর ৫টা থেকে চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি, খাগড়াছড়ি-রাঙামাটি সহ সব প্রধান সড়কে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ শুরু হয়। বিক্ষোভকারীরা গাছের গুঁড়ি, কাঠ ফেলে ও টায়ারে আগুন দিয়ে রাস্তাঘাট বন্ধ করে দেন।

রবিবার দুপুর থেকে এই পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে অবরোধ সমর্থনকারীদের পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার সময় স্থানীয় রামেসু বাজার ও আশপাশের বসতবাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মুখোশ পরিহিত ২০-২৫ জন লোক লুটপাট চালায় এবং কয়েকটি বসতঘর, দোকান ও মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। আগুনে অন্তত ২০টি দোকান ও বসতবাড়ি পুড়ে গেছে। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী টিয়ার গ্যাস ও রাবার বুলেট ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

সরকার ও প্রশাসনের পদক্ষেপ

১৪৪ ধারা জারি: পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শনিবার খাগড়াছড়ি এবং গুইমারায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়।

আইনশৃঙ্খলা বৈঠক: সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত কোর কমিটির বৈঠকে এ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং শহরে টহল জোরদার করা হয়েছে।

আইনি ব্যবস্থা: স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিবৃতিতে হতাহতের ঘটনায় গভীর দুঃখ প্রকাশ করে জড়িতদের বিরুদ্ধে শীঘ্রই তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছে।

তৃতীয় পক্ষের ইন্ধন দেখছেন উপদেষ্টা

পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা এই আন্দোলনের পেছনে একটি পক্ষের অর্থায়ন ও ইন্ধন থাকতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি বলেন, অল্পবয়সী যারা আন্দোলনে অংশ নিচ্ছে, তাদের পক্ষে স্বতঃস্ফূর্তভাবে এত খরচ বহন করে বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসা সম্ভব নয়। তিনি নতুন ইস্যু তৈরি করে নির্বাচন বানচালের চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলেও সতর্ক করেন।

পর্যটক উদ্ধার ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা

অবরোধের কারণে শনিবার সকাল থেকে খাগড়াছড়ি জেলা সারাদেশের সঙ্গে এক প্রকার বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। জেলা সদরের সঙ্গে ৯টি উপজেলার সড়ক যোগাযোগও বন্ধ রয়েছে। তবে শনিবার গভীর রাতে সেনাবাহিনী ও প্রশাসনের উদ্যোগে দুই হাজারের বেশি আটকে পড়া পর্যটককে নিরাপদে ঢাকায় পৌঁছে দেওয়া হয়।

গণধর্ষণ প্রতিবাদে উত্তাল খাগড়াছড়ি: নিহত ৩, অবরুদ্ধ পুরো জেলা

আপডেট সময় : ১১:৩৭:৪৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫

খাগড়াছড়ির গুইমারা উপজেলায় এক পাহাড়ি কিশোরীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের প্রতিবাদে সৃষ্ট বিক্ষোভ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। বিক্ষোভকারী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে পাল্টাপাল্টি সংঘর্ষে অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন। এই সংঘর্ষে সেনাবাহিনীর এক মেজরসহ ১৩ সেনাসদস্য, গুইমারা থানার ওসিসহ ৩ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে জেলা সদরসহ গুইমারায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।

নিহত ৩, আহত সেনা-পুলিশসহ অনেকে

স্থানীয় পুলিশ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তিনজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে। নিহতদের মরদেহ খাগড়াছড়ি জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে নিহতদের ‘দুষ্কৃতকারীদের হামলায় নিহত পাহাড়ি’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আহসান হাবিব পলাশ জানিয়েছেন, নিহতদের শরীরে গুলির চিহ্ন রয়েছে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, রবিবার বিকেল থেকে সন্ধ্যার মধ্যে তিনজনের মরদেহ এবং গুরুতর আহত চারজনকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়।

গণধর্ষণের প্রতিবাদে লাগাতার অবরোধ ও তাণ্ডব

‘জুম্ম ছাত্র-জনতা’র ব্যানারে গত শনিবার ভোর ৫টা থেকে চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি, খাগড়াছড়ি-রাঙামাটি সহ সব প্রধান সড়কে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ শুরু হয়। বিক্ষোভকারীরা গাছের গুঁড়ি, কাঠ ফেলে ও টায়ারে আগুন দিয়ে রাস্তাঘাট বন্ধ করে দেন।

রবিবার দুপুর থেকে এই পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে অবরোধ সমর্থনকারীদের পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার সময় স্থানীয় রামেসু বাজার ও আশপাশের বসতবাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মুখোশ পরিহিত ২০-২৫ জন লোক লুটপাট চালায় এবং কয়েকটি বসতঘর, দোকান ও মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। আগুনে অন্তত ২০টি দোকান ও বসতবাড়ি পুড়ে গেছে। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী টিয়ার গ্যাস ও রাবার বুলেট ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

সরকার ও প্রশাসনের পদক্ষেপ

১৪৪ ধারা জারি: পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শনিবার খাগড়াছড়ি এবং গুইমারায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়।

আইনশৃঙ্খলা বৈঠক: সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত কোর কমিটির বৈঠকে এ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং শহরে টহল জোরদার করা হয়েছে।

আইনি ব্যবস্থা: স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিবৃতিতে হতাহতের ঘটনায় গভীর দুঃখ প্রকাশ করে জড়িতদের বিরুদ্ধে শীঘ্রই তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছে।

তৃতীয় পক্ষের ইন্ধন দেখছেন উপদেষ্টা

পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা এই আন্দোলনের পেছনে একটি পক্ষের অর্থায়ন ও ইন্ধন থাকতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি বলেন, অল্পবয়সী যারা আন্দোলনে অংশ নিচ্ছে, তাদের পক্ষে স্বতঃস্ফূর্তভাবে এত খরচ বহন করে বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসা সম্ভব নয়। তিনি নতুন ইস্যু তৈরি করে নির্বাচন বানচালের চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলেও সতর্ক করেন।

পর্যটক উদ্ধার ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা

অবরোধের কারণে শনিবার সকাল থেকে খাগড়াছড়ি জেলা সারাদেশের সঙ্গে এক প্রকার বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। জেলা সদরের সঙ্গে ৯টি উপজেলার সড়ক যোগাযোগও বন্ধ রয়েছে। তবে শনিবার গভীর রাতে সেনাবাহিনী ও প্রশাসনের উদ্যোগে দুই হাজারের বেশি আটকে পড়া পর্যটককে নিরাপদে ঢাকায় পৌঁছে দেওয়া হয়।