ঢাকা ০২:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গুদামের চাবি সচিবের কাছে’, ছয় বস্তা সারের রহস্যে তোলপাড় ফরিদপুর

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ১১:২০:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৫
  • / 273

ফরিদপুর সদর উপজেলার কানাইপুর বাজারে ছয় বস্তা সার বিক্রির সময় ধরা পড়ে এক ব্যক্তি, যিনি পরে স্থানীয়দের প্রশ্নের মুখে পালিয়ে যান। ঘটনার পর স্থানীয়রা সারগুলো জব্দ করে প্রশাসনের হাতে তুলে দেন। সোমবার (১৩ এপ্রিল) সন্ধ্যা পর্যন্ত ওই সারগুলোর প্রকৃত মালিকানা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, জব্দ করা সারগুলো কানাইপুর ইউনিয়ন পরিষদের গুদাম থেকে আনা হয়েছে বলে স্থানীয়দের জানিয়েছেন ঘটনার সঙ্গে জড়িত ভ্যানচালক। বর্তমানে জব্দ করা সার ফরিদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অধীনে রাখা হয়েছে।

চেয়ারম্যানের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত ইউনুসের বিরুদ্ধে অভিযোগ

প্রত্যক্ষদর্শী বাবু সরদারসহ স্থানীয়রা জানান, সোমবার দুপুর আড়াইটার দিকে মো. ইউনুস নামের এক ব্যক্তি ভ্যানে করে তিন বস্তা ইউরিয়া ও তিন বস্তা ডিএপি সার কানাইপুর বাজারে নিয়ে আসেন। তিনি সেগুলো বিক্রি করার চেষ্টা করেন সুদীপ কুমার দত্তের মালিকানাধীন মনোরমা এন্টারপ্রাইজে।

তবে দোকানদার সন্দেহ হলে সার কিনতে অস্বীকৃতি জানান। এ সময় স্থানীয়রা ইউনুসকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা কোতোয়ালী থানা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করেন। খবর পেয়ে প্রশাসন ঘটনাস্থলে গিয়ে সারগুলো জব্দ করে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য

স্থানীয়দের ধারণা, এই সারগুলো সম্প্রতি পাটচাষীদের মাঝে বিতরণের জন্য বরাদ্দকৃত সার হতে পারে। ফরিদপুর জেলার পাট অধিদপ্তরের উপসহকারী পাট উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. রবিউল ইসলাম জানান, এবছর কানাইপুর ইউনিয়নের ২৪০ জন কৃষকের মধ্যে জনপ্রতি ১২ কেজি করে সার বরাদ্দ দেয়া হয়েছিল। গত ৬ এপ্রিল প্রায় ২০০ জন কৃষকের মাঝে বিতরণ করা হলেও বাকিরা সার নিতে না আসায় সেগুলো ইউনিয়ন পরিষদের গুদামে রাখা হয়। তবে ঘটনাস্থলে পাওয়া সার ওই বরাদ্দের অংশ কি না, তা নিশ্চিত করে বলতে পারেননি তিনি।

ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের বক্তব্য

কানাইপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহ মো. আলতাফ হুসাইন বলেন, নববর্ষের ছুটির কারণে নিশ্চিত হওয়া যায়নি যে, সেগুলো ইউনিয়ন পরিষদের গুদাম থেকে নেয়া কিনা। তিনি জানান, গুদামের চাবি ইউনিয়ন পরিষদের সচিবের কাছে থাকায় মঙ্গলবার অফিস খুললে গুদামের হিসাব মিলিয়ে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে।

চেয়ারম্যান দাবি করেন, অভিযুক্ত ইউনুস তাঁর “ঘনিষ্ঠজন” নন। তিনি শুধু এলাকার একজন ভোটার। তিনি আরও বলেন, নাম আসায় ইউনুসকে জিজ্ঞাসা করলে সে দাবি করে, সে সার বিক্রি করতে আসেনি।

উপজেলা প্রশাসনের পদক্ষেপ

ফরিদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসরাত জাহান জানান, স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে কৃষি কর্মকর্তা ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয় এবং জব্দ করা সার প্রশাসনের হেফাজতে নেয়া হয়। তদন্ত চলছে এবং মালিকানা নিশ্চিত হওয়ার পর নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

গুদামের চাবি সচিবের কাছে’, ছয় বস্তা সারের রহস্যে তোলপাড় ফরিদপুর

আপডেট সময় : ১১:২০:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৫

ফরিদপুর সদর উপজেলার কানাইপুর বাজারে ছয় বস্তা সার বিক্রির সময় ধরা পড়ে এক ব্যক্তি, যিনি পরে স্থানীয়দের প্রশ্নের মুখে পালিয়ে যান। ঘটনার পর স্থানীয়রা সারগুলো জব্দ করে প্রশাসনের হাতে তুলে দেন। সোমবার (১৩ এপ্রিল) সন্ধ্যা পর্যন্ত ওই সারগুলোর প্রকৃত মালিকানা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, জব্দ করা সারগুলো কানাইপুর ইউনিয়ন পরিষদের গুদাম থেকে আনা হয়েছে বলে স্থানীয়দের জানিয়েছেন ঘটনার সঙ্গে জড়িত ভ্যানচালক। বর্তমানে জব্দ করা সার ফরিদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অধীনে রাখা হয়েছে।

চেয়ারম্যানের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত ইউনুসের বিরুদ্ধে অভিযোগ

প্রত্যক্ষদর্শী বাবু সরদারসহ স্থানীয়রা জানান, সোমবার দুপুর আড়াইটার দিকে মো. ইউনুস নামের এক ব্যক্তি ভ্যানে করে তিন বস্তা ইউরিয়া ও তিন বস্তা ডিএপি সার কানাইপুর বাজারে নিয়ে আসেন। তিনি সেগুলো বিক্রি করার চেষ্টা করেন সুদীপ কুমার দত্তের মালিকানাধীন মনোরমা এন্টারপ্রাইজে।

তবে দোকানদার সন্দেহ হলে সার কিনতে অস্বীকৃতি জানান। এ সময় স্থানীয়রা ইউনুসকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা কোতোয়ালী থানা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করেন। খবর পেয়ে প্রশাসন ঘটনাস্থলে গিয়ে সারগুলো জব্দ করে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য

স্থানীয়দের ধারণা, এই সারগুলো সম্প্রতি পাটচাষীদের মাঝে বিতরণের জন্য বরাদ্দকৃত সার হতে পারে। ফরিদপুর জেলার পাট অধিদপ্তরের উপসহকারী পাট উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. রবিউল ইসলাম জানান, এবছর কানাইপুর ইউনিয়নের ২৪০ জন কৃষকের মধ্যে জনপ্রতি ১২ কেজি করে সার বরাদ্দ দেয়া হয়েছিল। গত ৬ এপ্রিল প্রায় ২০০ জন কৃষকের মাঝে বিতরণ করা হলেও বাকিরা সার নিতে না আসায় সেগুলো ইউনিয়ন পরিষদের গুদামে রাখা হয়। তবে ঘটনাস্থলে পাওয়া সার ওই বরাদ্দের অংশ কি না, তা নিশ্চিত করে বলতে পারেননি তিনি।

ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের বক্তব্য

কানাইপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহ মো. আলতাফ হুসাইন বলেন, নববর্ষের ছুটির কারণে নিশ্চিত হওয়া যায়নি যে, সেগুলো ইউনিয়ন পরিষদের গুদাম থেকে নেয়া কিনা। তিনি জানান, গুদামের চাবি ইউনিয়ন পরিষদের সচিবের কাছে থাকায় মঙ্গলবার অফিস খুললে গুদামের হিসাব মিলিয়ে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে।

চেয়ারম্যান দাবি করেন, অভিযুক্ত ইউনুস তাঁর “ঘনিষ্ঠজন” নন। তিনি শুধু এলাকার একজন ভোটার। তিনি আরও বলেন, নাম আসায় ইউনুসকে জিজ্ঞাসা করলে সে দাবি করে, সে সার বিক্রি করতে আসেনি।

উপজেলা প্রশাসনের পদক্ষেপ

ফরিদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসরাত জাহান জানান, স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে কৃষি কর্মকর্তা ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয় এবং জব্দ করা সার প্রশাসনের হেফাজতে নেয়া হয়। তদন্ত চলছে এবং মালিকানা নিশ্চিত হওয়ার পর নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।