পুলিশের সামনে মুক্তিপণ নিলো অপহরণকারীরা
- আপডেট সময় : ০৭:১২:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মার্চ ২০২৪
- / 261
ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলায় শিশু অপহরণের পর পুলিশের উপস্থিতিতে মুক্তিপণের টাকা নিয়ে নির্বিঘেœ চলে গেছে অপহরণকারী। শুধু তা-ই নয়, অপহরণকারীদের দেয়ার আগে দাবিকৃত মুক্তিপণের টাকাও গুনে দিয়েছেন পুলিশ সদস্যরাই। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর তোলপাড় শুরু হয়েছে। মুক্তিপণের টাকা গুনে দেয়ার ছবি থাকার পরেও পুলিশ এখন অস্বীকার করছে বিষয়টি। আর পুলিশের অভিযুক্ত কর্মকর্তা ও সদস্যরাও মুক্তিপণের টাকা দেয়ার সময় তাদের উপস্থিতির বিষয়টি অস্বীকার করছেন।
ঘটনাটি ঘটেছে নগরকান্দা উপজেলার তালমা ইউনিয়নের চর মানিকদি পাগলপাড়া গ্রামে। এ ঘটনার বিস্তারিত জানিয়ে সন্তানকে উদ্ধারে সব মহলের সহযোগিতা কামনা করেছে অপহৃত কিশোরের মা ও পাগলপাড়া গ্রামের সাইপ্রাস প্রবাসী আবুল হোসেন মাতুব্বরের স্ত্রী জান্নাতি বেগম। ফরিদপুর প্রেস কাবে আজ শুক্রবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানিয়ে সন্তানকে উদ্ধারের আকুতি জানান তিনি। এ সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।
লিখিত বক্তব্যে জান্নাতি বেগম বলেন, তার বড় ছেলে আলাউদ্দিন ওরফে অন্তর মাতুব্বর তালমা নাজিমউদ্দিন উচ্চবিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র। গত ৭ জুন বৃহস্পতিবার তারাবি নামাজ পড়ার জন্য রাত ৮টার কিছু আগে বাসা হতে বের হয়। এরপর সে আর বাসায় ফিরেনি। তবে তিনবার তার সাথে মোবাইলে কথা হয়। রাত ১০টার পর থেকে তার মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় ৮ জুন রাতে নগরকান্দা থানায় একটি জিডি করা হয়।
জান্নাতি বলেন, তখন রাত হয়ে গিয়েছিল। আমাকে একা যেতে বলেছিল। কিন্তু আমার ভয় করছে জানিয়ে কান্নাকাটি করলে তারা আমার সাথে দু’জন লোক নিয়ে সেখানে যাওয়ার অনুমতি দেয়। আমি নগরকান্দা থানার এসআই কবির দারোগা ও অন্য দু’জন পুলিশকে নিয়ে সেখানে যাই। পুলিশদের আড়ালে দাঁড় করিয়ে মাত্র ১৫ গজ দূরে মেশিন ঘরের মধ্যে একটি হাঁড়ির মধ্যে মুক্তিপণের ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা রেখে আসি।
‘টাকা যায় যাক, এখন ওদের ধরা যাবে না। টাকা গেলে টাকা পাওয়া যাবে কিন্তু ছেলে গেলে ফিরে আসবে না।’ পুলিশরা তাকে এ কথা বলে জান্নাতি জানান।
অন্তরের খালাতো ভাই সাইফুল ইসলাম সাব্বির জানান, ওই মামলায় পুলিশের কোনো তৎপরতা না দেখে তারা স্থানীয় এক রাজনৈতিক নেতার দ্বারস্থ হন। এরপর ওই নেতার নির্দেশে খোকনসহ আলতা মাতুব্বরের ছেলে কামাল মাতুব্বর (২৮) ও আক্তার মাতুব্বরের ছেলে সুজন (২৭) থানায় গেলে পুলিশ তাদের আটক করে।
সহকারী পুলিশ সুপার (নগরকান্দা সার্কেল) মহিউদ্দিন জানান, ৯ জুন অন্তর মোটরসাইকেলে ফরিদপুরে আসে বলে জানতে পেরেছি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। মুক্তিপণের টাকা লেনদেনের ব্যাপারে তিনি বলেন, আমি টাকা দিতে না করেছিলাম।





















