ঢাকা ০৬:২০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৭ জুন ২০২৬, ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গোলাগুলির অবসান: সেনা অভিযানে নিহত ১, উদ্ধার হলো বিপুল অস্ত্র

নিজস্ব প্রতিবেদক সুনামগঞ্জ:
  • আপডেট সময় : ০৩:০৪:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ জুন ২০২৫
  • / 881

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার গাদালিয়া গ্রামে সেনাবাহিনীর সঙ্গে সন্ত্রাসীদের গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় আবু সাঈদ (৩২) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। গুলিবিনিময়ের পর ঘটনাস্থল থেকে তিনটি আগ্নেয়াস্ত্র, গোলাবারুদ ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে সেনাবাহিনী। এই ঘটনার জেরে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে।

ঘটনাটি ঘটে রোববার (২২ জুন, ২০২৫) গভীর রাতে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, কুলঞ্জ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠন যুবলীগ ও বিএনপির স্থানীয় নেতাদের মধ্যে দীর্ঘদিনের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে সেনাবাহিনীর অভিযানের সময় অস্ত্রধারীরা গুলি ছুঁড়লে সেনাবাহিনীও আত্মরক্ষার্থে পাল্টা জবাব দেয়।

আধিপত্য বিস্তার ও উত্তপ্ত পরিস্থিতি

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দিরাই উপজেলার কুলঞ্জ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও যুবলীগ নেতা একরার হোসেন এবং একই গ্রামের বিএনপি নেতা আতিকুর রহমানের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। গত শুক্রবার (২০ জুন) তাদের অনুসারীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় দু’পক্ষই প্রকাশ্যে অস্ত্র প্রদর্শন করে, যা এলাকায় এক উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। এই পরিস্থিতিতে রোববার সেনাবাহিনীর ৫৭ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের শান্তিগঞ্জ ক্যাম্প থেকে একটি দল অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেয়।

হাওরপথে পলাতক, এরপর গোলাগুলি

সেনা দলটি কুলঞ্জ ইউনিয়নের হাতিয়া গ্রামে অভিযান চালালে সন্ত্রাসীরা গা ঢাকা দেয়। তারা ইঞ্জিনচালিত ট্রলারে করে হাওরপথে পালিয়ে পার্শ্ববর্তী জগন্নাথপুর উপজেলার গাদালিয়া গ্রামে আশ্রয় নেয়। রাতেই সেনাবাহিনীর সদস্যরা ওই গ্রামে পৌঁছালে অস্ত্রধারীরা তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়। সেনা সদস্যরাও আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি ছোঁড়েন। পরে স্থানীয়রা আবু সাঈদের মরদেহ দেখতে পান।

শান্তিগঞ্জ ক্যাম্পের এক কর্মকর্তা জানান, “সন্ত্রাসীরা পালিয়ে গেলেও ঘটনাস্থল থেকে তিনটি আগ্নেয়াস্ত্র, গুলিসহ গোলাবারুদ এবং একাধিক দেশীয় অস্ত্র জব্দ করা হয়েছে।” তবে গোলাগুলির সময় আবু সাঈদ ঠিক কোন অবস্থানে ছিলেন বা তিনি কোন পক্ষের গুলিতে মারা গেছেন, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এদিকে, নিহত আবু সাঈদ কেন গাদালিয়া গ্রামে উপস্থিত ছিলেন এবং তিনি কোনো পক্ষের সঙ্গে জড়িত ছিলেন কি না—সে বিষয়েও এখন পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে কিছু জানা যায়নি। ঘটনার পর সেনাবাহিনীর অভিযান চলমান রয়েছে এবং এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতায় এলাকাবাসী নিরাপত্তা ফিরে পাওয়ার আশা করছেন।

গোলাগুলির অবসান: সেনা অভিযানে নিহত ১, উদ্ধার হলো বিপুল অস্ত্র

আপডেট সময় : ০৩:০৪:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ জুন ২০২৫

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার গাদালিয়া গ্রামে সেনাবাহিনীর সঙ্গে সন্ত্রাসীদের গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় আবু সাঈদ (৩২) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। গুলিবিনিময়ের পর ঘটনাস্থল থেকে তিনটি আগ্নেয়াস্ত্র, গোলাবারুদ ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে সেনাবাহিনী। এই ঘটনার জেরে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে।

ঘটনাটি ঘটে রোববার (২২ জুন, ২০২৫) গভীর রাতে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, কুলঞ্জ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠন যুবলীগ ও বিএনপির স্থানীয় নেতাদের মধ্যে দীর্ঘদিনের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে সেনাবাহিনীর অভিযানের সময় অস্ত্রধারীরা গুলি ছুঁড়লে সেনাবাহিনীও আত্মরক্ষার্থে পাল্টা জবাব দেয়।

আধিপত্য বিস্তার ও উত্তপ্ত পরিস্থিতি

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দিরাই উপজেলার কুলঞ্জ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও যুবলীগ নেতা একরার হোসেন এবং একই গ্রামের বিএনপি নেতা আতিকুর রহমানের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। গত শুক্রবার (২০ জুন) তাদের অনুসারীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় দু’পক্ষই প্রকাশ্যে অস্ত্র প্রদর্শন করে, যা এলাকায় এক উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। এই পরিস্থিতিতে রোববার সেনাবাহিনীর ৫৭ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের শান্তিগঞ্জ ক্যাম্প থেকে একটি দল অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেয়।

হাওরপথে পলাতক, এরপর গোলাগুলি

সেনা দলটি কুলঞ্জ ইউনিয়নের হাতিয়া গ্রামে অভিযান চালালে সন্ত্রাসীরা গা ঢাকা দেয়। তারা ইঞ্জিনচালিত ট্রলারে করে হাওরপথে পালিয়ে পার্শ্ববর্তী জগন্নাথপুর উপজেলার গাদালিয়া গ্রামে আশ্রয় নেয়। রাতেই সেনাবাহিনীর সদস্যরা ওই গ্রামে পৌঁছালে অস্ত্রধারীরা তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়। সেনা সদস্যরাও আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি ছোঁড়েন। পরে স্থানীয়রা আবু সাঈদের মরদেহ দেখতে পান।

শান্তিগঞ্জ ক্যাম্পের এক কর্মকর্তা জানান, “সন্ত্রাসীরা পালিয়ে গেলেও ঘটনাস্থল থেকে তিনটি আগ্নেয়াস্ত্র, গুলিসহ গোলাবারুদ এবং একাধিক দেশীয় অস্ত্র জব্দ করা হয়েছে।” তবে গোলাগুলির সময় আবু সাঈদ ঠিক কোন অবস্থানে ছিলেন বা তিনি কোন পক্ষের গুলিতে মারা গেছেন, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এদিকে, নিহত আবু সাঈদ কেন গাদালিয়া গ্রামে উপস্থিত ছিলেন এবং তিনি কোনো পক্ষের সঙ্গে জড়িত ছিলেন কি না—সে বিষয়েও এখন পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে কিছু জানা যায়নি। ঘটনার পর সেনাবাহিনীর অভিযান চলমান রয়েছে এবং এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতায় এলাকাবাসী নিরাপত্তা ফিরে পাওয়ার আশা করছেন।