প্রবাসীর ব্যাংক একাউন্ট থেকে টাকা আত্মসাৎ: ব্যাংক কর্মকর্তা সিনিয়র অফিসার মুন্নী গ্রেফতার
- আপডেট সময় : ০১:১৮:৩৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২ মে ২০২৫
- / 295
খুলনায় প্রবাসীর ব্যাংক একাউন্ট থেকে জালিয়াতির মাধ্যমে টাকা আত্মসাতের ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় আফসানা শাহিন মুন্নী (৩৬) নামে সাউথ বাংলা ব্যাংকের এক নারী কর্মকর্তা গ্রেফতার হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১ মে) মধ্যরাতে খুলনা সদর থানা পুলিশ ঢাকার মুগদা এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে। একই দিন দুপুরে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
গ্রেফতার আফসানা শাহিন মুন্নী সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স (এসবিএসি) ব্যাংক খুলনা শাখায় সিনিয়র অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি খুলনা মহানগরীর ইস্পাহানি আবাসিক এলাকার বাসিন্দা।
মামলার পেছনের ঘটনা
মালয়েশিয়া প্রবাসী আল হাদিস বাট্রির স্ত্রী আফসানা ইয়াসমিন তৃষ্ণা গত ১৮ এপ্রিল খুলনা সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় আফসানা শাহিন মুন্নিসহ ৮-৯ জনকে আসামি করা হয়। অভিযোগে বলা হয়, তাদের পরিবারের নামে খুলনা শহরের আপার যশোর রোডে এসবিএসি ব্যাংক শাখায় একটি একাউন্ট খোলা হয় ২০২৩ সালের ১৩ নভেম্বর। পরবর্তীতে সেখানে মোট ১০ লাখ ২ হাজার টাকা জমা করেন আল হাদিস বাট্রি।
এ বছরের ১৮ মার্চ দেশে ফিরে তিনি টাকা উত্তোলনের জন্য ব্যাংকে গেলে জানা যায়, তার একাউন্টে মাত্র ৩ লাখ ২ হাজার টাকা রয়েছে। ব্যাংক স্টেটমেন্ট যাচাই করে দেখা যায়, ২০২3 সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি তার একাউন্ট থেকে আরটিজিএস (RTGS) এর মাধ্যমে আসামিদের একজনের ব্র্যাক ব্যাংক একাউন্টে ৭ লাখ টাকা ট্রান্সফার করা হয়েছে।
প্রবাসে থাকা অবস্থাতেই অর্থ ট্রান্সফার!
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, আরটিজিএস-এর মাধ্যমে অর্থ হস্তান্তরের জন্য একাউন্টধারীর সরাসরি উপস্থিতি বাধ্যতামূলক। অথচ, অর্থ স্থানান্তরের সময় আল হাদিস বাট্রি মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছিলেন। এই সুযোগে আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ভূয়া কাগজপত্র তৈরি করে জালিয়াতির মাধ্যমে টাকা আত্মসাৎ করে। ভুক্তভোগীরা বিষয়টি ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে জানান, তবে তারা কোনো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি।
আফসানা শাহিন মুন্নির বিরুদ্ধে আগেও অভিযোগ ছিল
ভুক্তভোগী গৃহবধূ তৃষ্ণা অভিযোগ করেন, তার এবং তার স্বামীর দুটি একাউন্টই আফসানা শাহিন মুন্নির মাধ্যমে খোলা হয়েছিল, যেহেতু তিনি তৎকালীন ব্যাংক কর্মকর্তা ছিলেন। ফলে তিনি তাদের সব তথ্য জানতেন। এই সুযোগে ব্যাংকের একটি চক্রের সহায়তায় তিনি অর্থ আত্মসাৎ করেন।
এছাড়াও, জানা গেছে—আফসানা শাহিন মুন্নি ইতঃপূর্বেও জালিয়াতির মাধ্যমে একাধিক গ্রাহকের টাকা আত্মসাৎ করেছেন। সম্প্রতি এক গ্রাহকের অর্থ ফেরত দিতে বাধ্য হন। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তাকে চাকরিচ্যুত করে।
আরও আত্মসাতের চেষ্টা ব্যর্থ হয়
তৃষ্ণা আরও অভিযোগ করেন, অভিযুক্তরা তার নিজের অ্যাকাউন্ট থেকেও ৭ লাখ টাকা এবং আরেক গ্রাহকের অ্যাকাউন্ট থেকে ৬ লাখ টাকা আত্মসাতের চেষ্টা করে। তবে তিনি বিষয়টি বুঝতে পেরে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যাংকে উপস্থিত হলে এই আত্মসাতের চেষ্টা ব্যর্থ হয়।
এ ঘটনায় প্রবাসীর পরিবার চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। কারণ, ব্যাংকে রক্ষিত অর্থ যদি ব্যাংক কর্মকর্তা দ্বারা আত্মসাৎ হয়, তবে সাধারণ গ্রাহকদের নিরাপত্তা কোথায়—এমন প্রশ্ন তুলেছেন তারা।
ব্যাংক কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া
এসবিএসি ব্যাংক খুলনা শাখার বর্তমান ম্যানেজার হাফিজ আহমেদ বলেন, তিনি নতুন যোগদান করায় বিষয়টি তার জানা নেই।
এদিকে খুলনা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ হাওলাদার মোহাম্মদ সানোয়ার হোসাইন মাসুম জানান, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মোল্লা জুয়েল রানার নেতৃত্বে পুলিশের একটি টিম ঢাকা থেকে আফসানা শাহিন মুন্নিকে গ্রেফতার করে। তার বিরুদ্ধে প্রবাসীর রেমিট্যান্স আত্মসাতের অভিযোগে ৫ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে।





















