ঢাকা ০২:১৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরিদপুরে অন্তর্বর্তীকালীন বিরোধী মিছিলে বিএনপি নেতার ছেলে সহ ৮ জন আটক

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ১১:১৩:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ এপ্রিল ২০২৫
  • / 920

ফরিদপুরে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের ব্যানারে বিক্ষোভ মিছিলের চেষ্টাকালে আটজনকে আটক করা হয়েছে বলে দাবি করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় আটক ব্যক্তিসহ ৩০ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৬০-৭০ জনকে আসামি করে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

আজ সোমবার সন্ধ্যায় কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদউজ্জামান এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

রোববার রাতে আটক, পরিচয় প্রকাশ

এর আগে রোববার দিবাগত গভীর রাতে জেলা সদরের ঢাকা-ফরিদপুর মহাসড়কের মাচ্চর ইউনিয়নের চন্ডীপুর এলাকা থেকে ওই আটজনকে আটক করা হয়। আটককৃতরা হলেন:

  1. ফাহিম মাতুব্বর (১৯), পিতা ফারুক মাতুব্বর, খলিশাডুবি গ্রাম, সালথা

  2. হাসিবুল (১৯), পিতা সোলাইমান মাতুব্বর

  3. আকাশ (১৯), পিতা ঝন্টু

  4. বিল্লাল হোসেন (১৯), পিতা দাউদ শেখ

  5. রবিউল ইসলাম (২০), পিতা নয়া মাতুব্বর, গুড়দিয়া গ্রাম

  6. বিমল কুমার সরকার (৪৬), চন্ডীপুর গ্রাম

  7. বাবু মোল্যা (১৯), পিতা আসাদুজ্জামান মোল্যা, দয়ারামপুর, মধুখালী

  8. সোয়াদ (১৯), পিতা মুকুল হোসেন, গন্দাখালী গ্রাম

পরিবারের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা

আটকদের মধ্যে ফাহিম মাতব্বরের বাবা ফারুক মাতব্বর সালথা উপজেলা মৎস্যজীবী দলের সভাপতি এবং রামকান্তপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি। তার চাচা লাবলু মাতব্বর স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। আটক রবিউল ইসলামের বাবাও বিএনপির সমর্থক হিসেবে পরিচিত।

অন্যদিকে, আটক বিমল কুমার সরকার মাচ্চর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের বর্তমান সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

ব্যানার ও অভিযোগের বিবরণ

সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে আটকদের সাংবাদিকদের সামনে হাজির করে পুলিশ। এসময় ‘ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগ’ লেখা সম্বলিত একটি ব্যানার প্রদর্শন করা হয়। ব্যানারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি সম্বলিত বার্তায় লেখা ছিল: “অবৈধ দখলদারি স্বৈরাচার ইউনুস সরকারের আইসিটি আদালতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা ও অন্যান্যদের চার্জশিট প্রদান কার্যক্রম প্রত্যাখ্যান করে, ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী অঙ্গ সংগঠনের বিক্ষোভ।”

ওসির বক্তব্য

ওসি আসাদউজ্জামান জানান, “বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে এবং জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করার লক্ষ্যে তারা আওয়ামী লীগের ব্যানার ব্যবহার করে বিক্ষোভ মিছিল করার চেষ্টা করছিল। রেললাইন এবং মহাসড়কে মিছিলের প্রস্তুতি নিচ্ছিল তারা। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে রাতেই আটকদের গ্রেপ্তার করা হয়।”

তিনি আরও বলেন, “তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে এবং আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে।”

ফরিদপুরে অন্তর্বর্তীকালীন বিরোধী মিছিলে বিএনপি নেতার ছেলে সহ ৮ জন আটক

আপডেট সময় : ১১:১৩:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ এপ্রিল ২০২৫

ফরিদপুরে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের ব্যানারে বিক্ষোভ মিছিলের চেষ্টাকালে আটজনকে আটক করা হয়েছে বলে দাবি করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় আটক ব্যক্তিসহ ৩০ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৬০-৭০ জনকে আসামি করে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

আজ সোমবার সন্ধ্যায় কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদউজ্জামান এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

রোববার রাতে আটক, পরিচয় প্রকাশ

এর আগে রোববার দিবাগত গভীর রাতে জেলা সদরের ঢাকা-ফরিদপুর মহাসড়কের মাচ্চর ইউনিয়নের চন্ডীপুর এলাকা থেকে ওই আটজনকে আটক করা হয়। আটককৃতরা হলেন:

  1. ফাহিম মাতুব্বর (১৯), পিতা ফারুক মাতুব্বর, খলিশাডুবি গ্রাম, সালথা

  2. হাসিবুল (১৯), পিতা সোলাইমান মাতুব্বর

  3. আকাশ (১৯), পিতা ঝন্টু

  4. বিল্লাল হোসেন (১৯), পিতা দাউদ শেখ

  5. রবিউল ইসলাম (২০), পিতা নয়া মাতুব্বর, গুড়দিয়া গ্রাম

  6. বিমল কুমার সরকার (৪৬), চন্ডীপুর গ্রাম

  7. বাবু মোল্যা (১৯), পিতা আসাদুজ্জামান মোল্যা, দয়ারামপুর, মধুখালী

  8. সোয়াদ (১৯), পিতা মুকুল হোসেন, গন্দাখালী গ্রাম

পরিবারের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা

আটকদের মধ্যে ফাহিম মাতব্বরের বাবা ফারুক মাতব্বর সালথা উপজেলা মৎস্যজীবী দলের সভাপতি এবং রামকান্তপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি। তার চাচা লাবলু মাতব্বর স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। আটক রবিউল ইসলামের বাবাও বিএনপির সমর্থক হিসেবে পরিচিত।

অন্যদিকে, আটক বিমল কুমার সরকার মাচ্চর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের বর্তমান সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

ব্যানার ও অভিযোগের বিবরণ

সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে আটকদের সাংবাদিকদের সামনে হাজির করে পুলিশ। এসময় ‘ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগ’ লেখা সম্বলিত একটি ব্যানার প্রদর্শন করা হয়। ব্যানারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি সম্বলিত বার্তায় লেখা ছিল: “অবৈধ দখলদারি স্বৈরাচার ইউনুস সরকারের আইসিটি আদালতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা ও অন্যান্যদের চার্জশিট প্রদান কার্যক্রম প্রত্যাখ্যান করে, ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী অঙ্গ সংগঠনের বিক্ষোভ।”

ওসির বক্তব্য

ওসি আসাদউজ্জামান জানান, “বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে এবং জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করার লক্ষ্যে তারা আওয়ামী লীগের ব্যানার ব্যবহার করে বিক্ষোভ মিছিল করার চেষ্টা করছিল। রেললাইন এবং মহাসড়কে মিছিলের প্রস্তুতি নিচ্ছিল তারা। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে রাতেই আটকদের গ্রেপ্তার করা হয়।”

তিনি আরও বলেন, “তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে এবং আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে।”