ঢাকা ১২:২৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরিদপুরে ধর্ষণের শিকার প্রবাসীর স্ত্রীর সন্তান প্রসব, বিপাকে পরিবার

আরিফুল ইসলাম, সালথা (ফরিদপুর
  • আপডেট সময় : ০১:১৮:৪৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৩ মার্চ ২০২৫
  • / 2372

ফরিদপুরের সালথায় ধর্ষণের শিকার এক প্রবাসীর স্ত্রী (২২) সন্তান প্রসব করেছেন। আর সন্তান প্রসবের আগে ও পরে থেকেই বিপাকে রয়েছে ধর্ষিতার পরিবার।

 ঘটনার বিবরণ ও অভিযোগ:

২০২৪ সালের ২২ মে ধর্ষণের এই ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত তিন সন্তানের জনক মো. আবর আলী (৩৯), সে উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের ছোট বালিয়া এলাকার মৃত হাসেম শেখের পুত্র। বিষয়টি জানাজানি হলে ২০২৫ সালের ১৯ জানুয়ারি ধর্ষিতার মা বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। অভিযুক্ত ধর্ষক স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় বর্তমানে ধর্ষিতার পরিবার একঘরে অবস্থায় আছে বলে অভিযোগ করেছে তার পরিবার।

 মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগীর পরিবারের ভাষ্য:

মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগীর পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় চার/পাঁচ বছর আগে পার্শ্ববর্তী গ্রামের এক যুবকের সাথে ঐ তরুণীর বিয়ে হয়। বিয়ের এক বছর পর তরুণীর স্বামী তাকে বাবার বাড়িতে রেখে সৌদি আরবে পাড়ি জমায়। এরপর ঐ তরুণীর উপর কুনজর পরে চাচা আবর আলীর। এরপর সুযোগ বুঝে ২০২৪ সালের ২২ মে চাচা আরব আলী বাড়িতে একা পেয়ে ঐ তরুণীকে তার স্ত্রী (চাচি) ডাকছে বলে খবর দেয়। এরপর চাচার বাড়িতে গেলে তাকে ঘরে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। ঐ তরুণী ডাক চিৎকার দিলে তাকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়, ভয়ে চুপ থাকে তরুণী। তবে দিন-দিন মেয়ের শরীরের পরিবর্তন দেখে তরুণীর পরিবার তাকে এই বিষয়ে চাপ দিলে সে সব কিছু খুলে বলে। এরপর বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়ভাবে মীমাংসার কথাবার্তা হয়। কিন্তু অভিযুক্ত চাচা কোনো সালিশ বৈঠক মানে না। এরপর পরিবারসহ ঐ তরুণী চাচার বাড়িতে গেলে চাচা ঐ তরুণীর গর্ভের সন্তান নষ্ট করতে বলে এবং বিভিন্ন হুমকি দেয় এবং ঐ প্রবাসী তার স্ত্রীকে আর গ্রহণ করবেন না বলে জানায়। এরপরই তরুণীর মা বাদী হয়ে সালথা থানায় একটি মামলা করে। তবে এখনও অভিযুক্তকে আটক করতে পারেনি পুলিশ।

 বর্তমান পরিস্থিতি ও পরিবারের অসহায়ত্ব:

ধর্ষণ নিয়ে যখন সারাদেশে আন্দোলন সংগ্রাম চলছে, এরই মাঝে ভুক্তভোগী ঐ নারী একটি ফুটফুটে কন্যা সন্তানের জন্ম দেয়। এনিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। অভিযুক্ত চাচা আবর আলী স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় ভুক্তভোগী ঐ পরিবারকে একঘরে অবস্থায় রেখেছে। ভুক্তভোগীর দিনমজুর বাবাকে সবখানে কাজে নিতে নিষেধ করেছে। পরিবারটির আয়-রোজগার প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। বর্তমানে মানবেতর জীবনযাপন করছে ঐ পরিবারটি। এছাড়া চাচা আবর আলী বিভিন্নভাবে হুমকি প্রদান করছে। বর্তমানে ঐ তরুণী ও তার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে এবং বিচারের দাবিতে বিভিন্ন স্থানে ঘুরছে।

ধর্ষিতার মায়ের বক্তব্য ও অভিযুক্তের প্রতিক্রিয়া:

ধর্ষিতার মা বলেন, আমার স্বামীকে কোথাও কোনো কাজে নিচ্ছে না, আগত সন্তানকে নিয়ে বর্তমানে আমরা মানবেতর জীবনযাপন করছি। আমরা বিচারের দাবিতে অনেক জায়গায় ঘুরেও কোনো বিচার পাই নাই। উল্টো আমাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে মামলা তুলতে বলেছে। তাছাড়া আবর আলী প্রথম থেকেই আমার পরিবারকে বিভিন্নভাবে হুমকি প্রদান করছে। আবর আলী এর আগেও একাধিক নারীর সর্বনাশ করেছে। বর্তমান সরকার, দেশবাসী, মাননীয় জেলা প্রশাসক মহোদয় ও মাননীয় পুলিশ সুপার মহোদয়ের কাছে আমার মেয়ের সাথে ঘটে যাওয়া অন্যায়ের বিচার চাই এবং আমার পরিবারের নিরাপত্তা চাই।

এই বিষয়ে অভিযুক্ত চাচা মো. আবর আলী বলেন, ডিএনএ পরীক্ষা করে যদি পাওয়া যায় বাচ্চা আমার, তাহলে আমার যে বিচার হয় আমি মেনে নিব।

পুলিশের পদক্ষেপ:

সালথা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মো. আতাউর রহমান বলেন, এই বিষয়ে একটি মামলা রজু করা হয়েছে। মেয়েটি সন্তান প্রসব করেছে বলে জানতে পেরেছি। আসামি গ্রেফতারের জন্য আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ফরিদপুরে ধর্ষণের শিকার প্রবাসীর স্ত্রীর সন্তান প্রসব, বিপাকে পরিবার

আপডেট সময় : ০১:১৮:৪৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৩ মার্চ ২০২৫

ফরিদপুরের সালথায় ধর্ষণের শিকার এক প্রবাসীর স্ত্রী (২২) সন্তান প্রসব করেছেন। আর সন্তান প্রসবের আগে ও পরে থেকেই বিপাকে রয়েছে ধর্ষিতার পরিবার।

 ঘটনার বিবরণ ও অভিযোগ:

২০২৪ সালের ২২ মে ধর্ষণের এই ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত তিন সন্তানের জনক মো. আবর আলী (৩৯), সে উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের ছোট বালিয়া এলাকার মৃত হাসেম শেখের পুত্র। বিষয়টি জানাজানি হলে ২০২৫ সালের ১৯ জানুয়ারি ধর্ষিতার মা বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। অভিযুক্ত ধর্ষক স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় বর্তমানে ধর্ষিতার পরিবার একঘরে অবস্থায় আছে বলে অভিযোগ করেছে তার পরিবার।

 মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগীর পরিবারের ভাষ্য:

মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগীর পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় চার/পাঁচ বছর আগে পার্শ্ববর্তী গ্রামের এক যুবকের সাথে ঐ তরুণীর বিয়ে হয়। বিয়ের এক বছর পর তরুণীর স্বামী তাকে বাবার বাড়িতে রেখে সৌদি আরবে পাড়ি জমায়। এরপর ঐ তরুণীর উপর কুনজর পরে চাচা আবর আলীর। এরপর সুযোগ বুঝে ২০২৪ সালের ২২ মে চাচা আরব আলী বাড়িতে একা পেয়ে ঐ তরুণীকে তার স্ত্রী (চাচি) ডাকছে বলে খবর দেয়। এরপর চাচার বাড়িতে গেলে তাকে ঘরে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। ঐ তরুণী ডাক চিৎকার দিলে তাকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়, ভয়ে চুপ থাকে তরুণী। তবে দিন-দিন মেয়ের শরীরের পরিবর্তন দেখে তরুণীর পরিবার তাকে এই বিষয়ে চাপ দিলে সে সব কিছু খুলে বলে। এরপর বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়ভাবে মীমাংসার কথাবার্তা হয়। কিন্তু অভিযুক্ত চাচা কোনো সালিশ বৈঠক মানে না। এরপর পরিবারসহ ঐ তরুণী চাচার বাড়িতে গেলে চাচা ঐ তরুণীর গর্ভের সন্তান নষ্ট করতে বলে এবং বিভিন্ন হুমকি দেয় এবং ঐ প্রবাসী তার স্ত্রীকে আর গ্রহণ করবেন না বলে জানায়। এরপরই তরুণীর মা বাদী হয়ে সালথা থানায় একটি মামলা করে। তবে এখনও অভিযুক্তকে আটক করতে পারেনি পুলিশ।

 বর্তমান পরিস্থিতি ও পরিবারের অসহায়ত্ব:

ধর্ষণ নিয়ে যখন সারাদেশে আন্দোলন সংগ্রাম চলছে, এরই মাঝে ভুক্তভোগী ঐ নারী একটি ফুটফুটে কন্যা সন্তানের জন্ম দেয়। এনিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। অভিযুক্ত চাচা আবর আলী স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় ভুক্তভোগী ঐ পরিবারকে একঘরে অবস্থায় রেখেছে। ভুক্তভোগীর দিনমজুর বাবাকে সবখানে কাজে নিতে নিষেধ করেছে। পরিবারটির আয়-রোজগার প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। বর্তমানে মানবেতর জীবনযাপন করছে ঐ পরিবারটি। এছাড়া চাচা আবর আলী বিভিন্নভাবে হুমকি প্রদান করছে। বর্তমানে ঐ তরুণী ও তার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে এবং বিচারের দাবিতে বিভিন্ন স্থানে ঘুরছে।

ধর্ষিতার মায়ের বক্তব্য ও অভিযুক্তের প্রতিক্রিয়া:

ধর্ষিতার মা বলেন, আমার স্বামীকে কোথাও কোনো কাজে নিচ্ছে না, আগত সন্তানকে নিয়ে বর্তমানে আমরা মানবেতর জীবনযাপন করছি। আমরা বিচারের দাবিতে অনেক জায়গায় ঘুরেও কোনো বিচার পাই নাই। উল্টো আমাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে মামলা তুলতে বলেছে। তাছাড়া আবর আলী প্রথম থেকেই আমার পরিবারকে বিভিন্নভাবে হুমকি প্রদান করছে। আবর আলী এর আগেও একাধিক নারীর সর্বনাশ করেছে। বর্তমান সরকার, দেশবাসী, মাননীয় জেলা প্রশাসক মহোদয় ও মাননীয় পুলিশ সুপার মহোদয়ের কাছে আমার মেয়ের সাথে ঘটে যাওয়া অন্যায়ের বিচার চাই এবং আমার পরিবারের নিরাপত্তা চাই।

এই বিষয়ে অভিযুক্ত চাচা মো. আবর আলী বলেন, ডিএনএ পরীক্ষা করে যদি পাওয়া যায় বাচ্চা আমার, তাহলে আমার যে বিচার হয় আমি মেনে নিব।

পুলিশের পদক্ষেপ:

সালথা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মো. আতাউর রহমান বলেন, এই বিষয়ে একটি মামলা রজু করা হয়েছে। মেয়েটি সন্তান প্রসব করেছে বলে জানতে পেরেছি। আসামি গ্রেফতারের জন্য আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।