ঢাকা ০৭:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মোবাইল ফোনে আন্দোলনের ভিডিও থাকায় ৬ জনকে কুপিয়ে জখম

বরগুনা দক্ষিণ প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৬:৪৪:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অগাস্ট ২০২৪
  • / 137

বরগুনায় মোবাইল ফোনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ভিডিও থাকায় আরিফ নামের এক যুবককে মারধর করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় মামলা করায় ৬ জনকে কুপিয়ে জখম করেছে হামলাকারীরা।

মঙ্গলবার সন্ধ্যার দিকে বরগুনা সদর উপজেলার ৪ নম্বর কেওড়াবুনিয়া ইউনিয়নের ঘটবাড়িয়া নামক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

এতে আহতরা হলেন- মো. আব্দুল হক (৬০), দেলোয়ার ফরাজি (৪৫), বিপ্লব (৩৩), ইউনুস ফকির (৬০), সেলিম ফরাজি (৬৫) ও আব্দুল করিম (৫০)। এদের মধ্যে গুরুতর ৪ জনকে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দেওয়ান জগলুল হাসান।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ থেকে নানার বাড়ি বরগুনার কেওড়াবুনিয়া এলাকায় বেড়াতে আসেন আরিফ নামের এক যুবক। পরে গত রোববার আরিফ ওই এলাকার ঘটবাড়িয়া বাজারে গেলে কয়েকজন যুবক তার মোবাইল ফোনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ভিডিও দেখতে চায়। এ সময় মোবাইল ফোনে আন্দোলনের ভিডিও থাকায় তাকে মারধর করাসহ মোবাইল ফোনটি ভেঙে ফেলেন তারা।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী আরিফ মামলা করলে অভিযুক্তরা ক্ষিপ্ত হয়ে আরিফের চাচা সেলিম ফরাজিসহ মামলার পক্ষে অবস্থান নেওয়া কয়েকজনকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করে। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে গুরুতর চারজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন।

গুরুতর আহত আব্দুল হকের স্ত্রী সালেহা বেগম বলেন, আমার স্বামীর সঙ্গে কারো কোনো শত্রুতা নেই, তিনি একজন স্থানীয় ব্যবসায়ী। সন্ধ্যায় কয়েকজন যুবক অস্ত্রহাতে আসতে দেখে আমি তাকে দোকান বন্ধ করতে বলি। পরে দোকান বন্ধ করে নামার সঙ্গে সঙ্গেই তাকে কুপিয়ে জখম করা হয়। এছাড়াও দোকানে হামলা চালিয়ে সবকিছু ভেঙে ফেলেছে তারা।

ভুক্তভোগী আরিফের চাচা আহত সেলিম ফরাজি বলেন, আমার ভাতিজা আরিফ নারায়ণগঞ্জ থেকে বরগুনায় এলে আন্দোলনের বিষয়ে জানতে চান এলাকার আব্দুল্লাহ গ্রুপ নামে পরিচিত একটি গ্রুপের কয়েকজন যুবক। এ সময় আরিফ তাদের বলেন- আমি আন্দোলন করিনি, কিন্তু তারা মানতে রাজি না হয়ে তার সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোনটি নিয়ে ভেঙে ফেলেন এবং আরিফকে মারধর করেন। পরে আহত অবস্থায় আরিফকে হাসপাতালে ভর্তি করে তাদের নামে একটি মামলা করি। এরপর বিকালে আমি ঘটবাড়িয়া বাজারে গেলে সন্ধ্যার দিকে হঠাৎ অস্ত্রহাতে কয়েকজন এসে আমাকেসহ আশপাশের অনেককে কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করেছে।

এ বিষয়ে বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দেওয়ান জগলুল হাসান বলেন, গত রোববার আরিফ নামে একজনকে মারধরের ঘটনায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। গতকালের ঘটনায় ভুক্তভোগীরা সবাই চিকিৎসাধীন আছেন। এ বিষয়ে এখনো কেউ লিখিত অভিযোগ করেনি। তবে এ ঘটনায় জড়িতদের ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে পুলিশ কাজ শুরু করেছে।

ট্যাগস :

মোবাইল ফোনে আন্দোলনের ভিডিও থাকায় ৬ জনকে কুপিয়ে জখম

আপডেট সময় : ০৬:৪৪:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অগাস্ট ২০২৪

বরগুনায় মোবাইল ফোনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ভিডিও থাকায় আরিফ নামের এক যুবককে মারধর করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় মামলা করায় ৬ জনকে কুপিয়ে জখম করেছে হামলাকারীরা।

মঙ্গলবার সন্ধ্যার দিকে বরগুনা সদর উপজেলার ৪ নম্বর কেওড়াবুনিয়া ইউনিয়নের ঘটবাড়িয়া নামক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

এতে আহতরা হলেন- মো. আব্দুল হক (৬০), দেলোয়ার ফরাজি (৪৫), বিপ্লব (৩৩), ইউনুস ফকির (৬০), সেলিম ফরাজি (৬৫) ও আব্দুল করিম (৫০)। এদের মধ্যে গুরুতর ৪ জনকে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দেওয়ান জগলুল হাসান।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ থেকে নানার বাড়ি বরগুনার কেওড়াবুনিয়া এলাকায় বেড়াতে আসেন আরিফ নামের এক যুবক। পরে গত রোববার আরিফ ওই এলাকার ঘটবাড়িয়া বাজারে গেলে কয়েকজন যুবক তার মোবাইল ফোনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ভিডিও দেখতে চায়। এ সময় মোবাইল ফোনে আন্দোলনের ভিডিও থাকায় তাকে মারধর করাসহ মোবাইল ফোনটি ভেঙে ফেলেন তারা।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী আরিফ মামলা করলে অভিযুক্তরা ক্ষিপ্ত হয়ে আরিফের চাচা সেলিম ফরাজিসহ মামলার পক্ষে অবস্থান নেওয়া কয়েকজনকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করে। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে গুরুতর চারজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন।

গুরুতর আহত আব্দুল হকের স্ত্রী সালেহা বেগম বলেন, আমার স্বামীর সঙ্গে কারো কোনো শত্রুতা নেই, তিনি একজন স্থানীয় ব্যবসায়ী। সন্ধ্যায় কয়েকজন যুবক অস্ত্রহাতে আসতে দেখে আমি তাকে দোকান বন্ধ করতে বলি। পরে দোকান বন্ধ করে নামার সঙ্গে সঙ্গেই তাকে কুপিয়ে জখম করা হয়। এছাড়াও দোকানে হামলা চালিয়ে সবকিছু ভেঙে ফেলেছে তারা।

ভুক্তভোগী আরিফের চাচা আহত সেলিম ফরাজি বলেন, আমার ভাতিজা আরিফ নারায়ণগঞ্জ থেকে বরগুনায় এলে আন্দোলনের বিষয়ে জানতে চান এলাকার আব্দুল্লাহ গ্রুপ নামে পরিচিত একটি গ্রুপের কয়েকজন যুবক। এ সময় আরিফ তাদের বলেন- আমি আন্দোলন করিনি, কিন্তু তারা মানতে রাজি না হয়ে তার সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোনটি নিয়ে ভেঙে ফেলেন এবং আরিফকে মারধর করেন। পরে আহত অবস্থায় আরিফকে হাসপাতালে ভর্তি করে তাদের নামে একটি মামলা করি। এরপর বিকালে আমি ঘটবাড়িয়া বাজারে গেলে সন্ধ্যার দিকে হঠাৎ অস্ত্রহাতে কয়েকজন এসে আমাকেসহ আশপাশের অনেককে কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করেছে।

এ বিষয়ে বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দেওয়ান জগলুল হাসান বলেন, গত রোববার আরিফ নামে একজনকে মারধরের ঘটনায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। গতকালের ঘটনায় ভুক্তভোগীরা সবাই চিকিৎসাধীন আছেন। এ বিষয়ে এখনো কেউ লিখিত অভিযোগ করেনি। তবে এ ঘটনায় জড়িতদের ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে পুলিশ কাজ শুরু করেছে।