বান্দরবান জেলা যুবদলের সদ্য ঘোষিত কমিটি নিয়ে জেলাজুড়ে তীব্র সমালোচনা ও বিতর্ক শুরু হয়েছে। তৃণমূলের নেতাকর্মীরা অভিযোগ করেছেন, দীর্ঘদিন ধরে লড়াই-সংগ্রাম করা ত্যাগী কর্মীদের বাদ দিয়ে কোটি টাকার বাণিজ্যের মাধ্যমে কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো বিক্রি করা হয়েছে। এই কমিটি স্বজনপ্রীতি, মাদক ব্যবসায়ী, আওয়ামী লীগের সহযোগী ও দাগি আসামিদের দিয়ে গঠিত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
কোটি টাকার বাণিজ্যে বাদ পরীক্ষিত নেতারা
গত ১ সেপ্টেম্বর যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটি ১০১ সদস্যবিশিষ্ট বান্দরবান জেলা কমিটির অনুমোদন দেয়, যেখানে সভাপতি করা হয় জহির উদ্দীন মাসুমকে এবং সাধারণ সম্পাদক হন আরিফুল ইসলাম চৌধুরী। স্থানীয় বিএনপি নেতারা অভিযোগ করেন, কমিটি গঠনের নামে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বিপুল অঙ্কের অর্থ বাণিজ্য করেছেন। যার ফলে যারা অর্থ দিয়েছেন, তারাই পদ পেয়েছেন। অথচ বছরের পর বছর জেল-জুলুম সহ্য করে আসা পরীক্ষিত নেতারা কমিটিতে ঠাঁই পাননি।
পদে পদে স্বজনপ্রীতি ও বিতর্কিতদের আনাগোনা
অভিযোগ অনুযায়ী, কমিটিতে একাধিক বিতর্কিত ব্যক্তি স্থান পেয়েছেন:
স্বজনপ্রীতি: সভাপতি জহির উদ্দীন মাসুমের খালাতো ভাই সাইদুল ইসলাম শুক্কুর এবং ছোট ভাই জমির উদ্দীন চৌধুরীকে গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়া হয়েছে। একইভাবে, সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম চৌধুরীর ভাতিজা ইমাম হোসেন চৌধুরী এবং তার বড় ভাইয়ের মেয়ের জামাই সাখাওয়াত হোসেন রিয়াদও কমিটিতে স্থান পেয়েছেন।
আওয়ামী লীগের সহযোগী: আব্দুল মান্নান, আব্দুস সবুর এবং ওসমান গণি অতীতে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও এই কমিটিতে পদ পেয়েছেন।
দাগি আসামি ও মাদক কারবারি: ইয়াবা মামলার তালিকাভুক্ত আসামি মো. আলী মোহাব্বতকে গ্রাম সরকার সম্পাদক এবং পাহাড়ি মেয়ে ধর্ষণ ও অপহরণ মামলার আসামি মো. মোজাম্মেলকে সহ-মৎস্য ও পশুপালন সম্পাদক করা হয়েছে।
অন্যান্য বিতর্কিত ব্যক্তি: আওয়ামী লীগ নেতা বিপ্লব বড়ুয়ার ঘনিষ্ঠ সহযোগী লোকমান (যিনি যুবলীগের নেতা) স্বাস্থ্য সম্পাদক হয়েছেন। এছাড়াও, পাহাড় কাটার অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত নাজিম উদ্দীনও কমিটির সদস্য হয়েছেন।
সভাপতি ও সম্পাদকের বিরুদ্ধেও গুরুতর অভিযোগ
জেলা যুবদল সভাপতি জহির উদ্দীন মাসুমের বিরুদ্ধে জিপ, মাইক্রোবাস স্ট্যান্ড দখল করে চাঁদাবাজি ও ঠিকাদারি ব্যবসায় সরকারি অর্থ লোপাটের অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে, সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম চৌধুরীর বিরুদ্ধেও জোরপূর্বক টোল আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সভাপতি জহির উদ্দীন মাসুম সাংবাদিককে কোনো সদুত্তর না দিয়ে উল্টো দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়ে ফোন কেটে দেন। সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম চৌধুরীর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তৃণমূলে ক্ষোভ, কেন্দ্রীয় কমিটির তদন্তের আশ্বাস
এই বিতর্কিত কমিটি নিয়ে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং অবিলম্বে কমিটি বাতিল করে নতুন কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছেন।
তবে, এ বিষয়ে জাতীয়তাবাদী যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়ন জানিয়েছেন, যদি বান্দরবান জেলা যুবদলের কমিটিতে আওয়ামী লীগ দোসর, মাদক কারবারি, বা অর্থের বিনিময়ে পদ দেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তবে তারা তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।