ফরিদপুর মেডিক্যালে ফের দালাল হেলেনা, দম্ভোক্তি: ‘জেলখানা শ্বশুরবাড়ি, থানা বাপের বাড়ি’
- আপডেট সময় : ০৪:৫৩:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ মে ২০২৫
- / 484
ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ (ফমেক) হাসপাতালের পরিচিত মুখ হেলেনা বেগম (২৭) আবারো আলোচনায়। রোগীদের সরকারি সেবা থেকে বঞ্চিত করে কমিশনের বিনিময়ে প্রাইভেট সেন্টারে নেওয়ার অভিযোগে আটক হয়েছিলেন এই নারী দালাল। জেল থেকে মুক্তি পাওয়ার পর তিনি বলেন, ‘জেলখানা আমার শ্বশুরবাড়ি, থানা আমার বাপের বাড়ি, ধইর্যা নিয়ে যাক সমস্যা নাই।’
ফেসবুকে ভাইরাল বাচনভঙ্গি
মাত্র ২৭ বছর বয়সী হেলেনার বেপরোয়া আচরণ ও কড়া ভাষার ভিডিও ইতোমধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল। ফরিদপুর শহর থেকে শুরু করে আশপাশের জেলাগুলোর মানুষ তাকে নিয়ে আলোচনা করছে আতঙ্ক আর বিস্ময়ের মিশেলে।
ভুয়া পরিচয়ে প্রতারণা, জনগণের হাতে আটক
গত ২০ এপ্রিল ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ‘এ’ ব্লকের সামনে হেলেনাকে আটক করে স্থানীয় জনতা। তার কাছ থেকে স্বেচ্ছাসেবকের ভুয়া আইডি কার্ড পাওয়া যায়। পরে তাকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়।
পুরনো অভিযোগ, নতুন চেহারায় ফিরে আসা
ফমেক হাসপাতালের ওয়ার্ড মাস্টার সাদ্দাম হোসেন কোতোয়ালি থানায় দায়েরকৃত অভিযোগে উল্লেখ করেন, হেলেনা দীর্ঘদিন ধরে রোগী ও স্বজনদের প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণা করছিলেন। বহুবার বাধা দেওয়ার পরও থামেননি।
সিন্ডিকেটের ছত্রছায়ায় বারবার মুক্তি
হেলেনার বিরুদ্ধে বহুবার ব্যবস্থা নেওয়া হলেও, অভিযোগ রয়েছে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট তাকে রক্ষা করে চলেছে। বারবার জেলে গিয়েও খুব দ্রুতই বেরিয়ে আসেন তিনি, আবারও একই কৌশলে ফিরে আসেন।
ভুয়া স্বেচ্ছাসেবক পরিচয়ে নতুন চাল
সদর হাসপাতালের পর হেলেনা এবার ফমেক হাসপাতালে সক্রিয় হন ভুয়া স্বেচ্ছাসেবক পরিচয়ে। নিজের নামে তৈরি করেন নকল পরিচয়পত্র। এই পরিচয়ের আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণা করে চলেছেন রোগীদের সঙ্গে।
প্রাইভেট সেন্টারের ‘পুরস্কারপ্রাপ্ত’ দালাল
জানা গেছে, হেলেনা ফরিদপুর শহরের হাড়োকান্দি এলাকার চুন্নু শেখের মেয়ে। দরিদ্র পরিবার থেকে উঠে এলেও দালালির পেশায় তিনি এখন স্বচ্ছল। কমিশনের টাকায় জমি কিনেছেন, বাড়ি করেছেন। এমনকি প্রাইভেট সেন্টারগুলো তাকে পুরস্কারস্বরূপ বড় এলইডি টিভিও উপহার দিয়েছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নীরবতা
হেলেনা আবারও ফমেক হাসপাতালে ঘোরাঘুরি করছেন—এমন ছবি বৃহস্পতিবার সকালে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। তবে এ বিষয়ে ফমেক হাসপাতালের পরিচালক ডা. হুমায়ুন কবির ও উপপরিচালক ড. দীপক কুমারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও সাড়া পাওয়া যায়নি।
সারসংক্ষেপ:
ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ঘিরে দালাল চক্রের যে জাল বিস্তৃত, হেলেনা বেগম তারই প্রতীক। বারবার ধরা পড়লেও তার ফিরে আসা প্রমাণ করে—এই চক্র কতটা শক্তিশালী। জনসচেতনতা ও কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ ছাড়া এই চক্র ভাঙা অসম্ভব।




















