ঢাকা ০৪:৪২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্যানেল চেয়ারম্যানকে কুপিয়ে জখম: গণপিটুনিতে ‘কালু বাহিনী’র প্রধান নিহত

দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ১২:৩৪:১৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
  • / 25

বরগুনায় স্থানীয় ইউপি সদস্য ও প্যানেল চেয়ারম্যানকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করার ঘটনার জেরে গণপিটুনিতে কুখ্যাত ‘কালু বাহিনী’র প্রধান ইব্রাহিম হোসেন কালু (৩০) নিহত হয়েছেন। একই ঘটনায় গণপিটুনির শিকার হয়ে তার প্রধান সহযোগী তৌহিদ ইসলাম শুভ (২২) নামের আরেক যুবক আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গতকাল শুক্রবার (১২ জুন) বিকেল ৫টার দিকে বরগুনা সদর উপজেলার বদরখালী ইউনিয়নের ডেমা গ্রামে এই রক্তক্ষয়ী ও গণপিটুনির ঘটনা ঘটে।

নিহত বাহিনী প্রধান কালু ডেমা গ্রামের সোনা গাজীর ছেলে। পুলিশের তথ্যমতে, তার বিরুদ্ধে মাদক, ডাকাতি ও চাঁদাবাজিসহ অন্তত ১৩টি মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। এছাড়া গুরুতর আহত সহযোগী শুভ একই গ্রামের রহিমের ছেলে।

মাদক বিক্রির প্রতিবাদ করায় চেয়ারম্যানের ওপর তোপ:

পুলিশ ও স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা যায়, ইব্রাহিম হোসেন কালুর নেতৃত্বে গড়ে ওঠা ‘কালু বাহিনী’র বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে ডেমা গ্রামসহ আশপাশের এলাকায় মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি, ছিনতাই ও বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। সবশেষ গতকাল শুক্রবার বিকেলে এলাকায় প্রকাশ্য মাদক বিক্রিতে বাধা প্রদান করেন স্থানীয় ইউপি সদস্য ও প্যানেল চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে কালু ও তার সশস্ত্র সহযোগীরা ইউপি সদস্যের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় এবং তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে রক্তাক্ত ও গুরুতর জখম করে।

বিক্ষুব্ধ জনতার গণপিটুনি ও হাসপাতালে মৃত্যু:

জনপ্রিয় জনপ্রতিনিধির ওপর এমন বর্বরোচিত হামলার খবর ছড়িয়ে পড়লে মুহূর্তের মধ্যে পুরো গ্রামের শত শত বিক্ষুব্ধ মানুষ লাঠিসোঁটা নিয়ে কালু ও তার সহযোগীদের চারপাশ থেকে ঘিরে ফেলে। একপর্যায়ে ধাওয়া দিয়ে ডেমা গ্রামেই কালু ও তার প্রধান সহযোগী শুভকে ধরে গণপিটুনি দেয় জনতা। গণপিটুনিতে দুই সন্ত্রাসীই রক্তাক্ত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে।

খবর পেয়ে বরগুনা সদর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং মুমূর্ষু অবস্থায় কালু ও শুভকে উদ্ধার করে বরগুনা সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. আবুল ইসরাত জনি পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে ইব্রাহিম হোসেন কালুকে মৃত ঘোষণা করেন। অন্যদিকে, প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর আশঙ্কাজনক অবস্থায় সহযোগী শুভকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শেবাচিম) পাঠানো হয়েছে। এছাড়া সন্ত্রাসী হামলায় আহত ইউপি সদস্য গোলাম মোস্তফাকেও উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

৪ মাস জেলে থেকে জামিনে ফিরেই আবার তান্ডব:

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আলীম জানান, নিহত ইব্রাহিম হোসেন কালু এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসেও তাকে বিপুল দেশীয় অস্ত্রসহ গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। প্রায় ৪ মাস কারাভোগের পর সম্প্রতি সে জামিনে মুক্ত হয়ে এলাকায় ফেরে। কিন্তু জামিন পেয়েই সে পুনরায় মাদক ব্যবসাসহ সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণে জড়ায়। এসব অপরাধের প্রতিবাদ করায় ইউপি সদস্যের ওপর হামলার সূত্র ধরে এই ঘটনা ঘটেছে।

ওসি আরও জানান, গণপিটুনির শিকার দুজনকে পুলিশই উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসে। এই জোড়া হামলার ঘটনায় এখনও থানায় কোনো পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ বা মামলা দায়ের করা হয়নি এবং কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। পুরো ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত চলছে। এদিকে প্যানেল চেয়ারম্যানকে কোপানো ও গণপিটুনিতে নিহতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো বদরখালী ইউনিয়নে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ডেমা গ্রাম ও হাসপাতাল এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

প্যানেল চেয়ারম্যানকে কুপিয়ে জখম: গণপিটুনিতে ‘কালু বাহিনী’র প্রধান নিহত

আপডেট সময় : ১২:৩৪:১৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

বরগুনায় স্থানীয় ইউপি সদস্য ও প্যানেল চেয়ারম্যানকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করার ঘটনার জেরে গণপিটুনিতে কুখ্যাত ‘কালু বাহিনী’র প্রধান ইব্রাহিম হোসেন কালু (৩০) নিহত হয়েছেন। একই ঘটনায় গণপিটুনির শিকার হয়ে তার প্রধান সহযোগী তৌহিদ ইসলাম শুভ (২২) নামের আরেক যুবক আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গতকাল শুক্রবার (১২ জুন) বিকেল ৫টার দিকে বরগুনা সদর উপজেলার বদরখালী ইউনিয়নের ডেমা গ্রামে এই রক্তক্ষয়ী ও গণপিটুনির ঘটনা ঘটে।

নিহত বাহিনী প্রধান কালু ডেমা গ্রামের সোনা গাজীর ছেলে। পুলিশের তথ্যমতে, তার বিরুদ্ধে মাদক, ডাকাতি ও চাঁদাবাজিসহ অন্তত ১৩টি মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। এছাড়া গুরুতর আহত সহযোগী শুভ একই গ্রামের রহিমের ছেলে।

মাদক বিক্রির প্রতিবাদ করায় চেয়ারম্যানের ওপর তোপ:

পুলিশ ও স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা যায়, ইব্রাহিম হোসেন কালুর নেতৃত্বে গড়ে ওঠা ‘কালু বাহিনী’র বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে ডেমা গ্রামসহ আশপাশের এলাকায় মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি, ছিনতাই ও বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। সবশেষ গতকাল শুক্রবার বিকেলে এলাকায় প্রকাশ্য মাদক বিক্রিতে বাধা প্রদান করেন স্থানীয় ইউপি সদস্য ও প্যানেল চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে কালু ও তার সশস্ত্র সহযোগীরা ইউপি সদস্যের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় এবং তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে রক্তাক্ত ও গুরুতর জখম করে।

বিক্ষুব্ধ জনতার গণপিটুনি ও হাসপাতালে মৃত্যু:

জনপ্রিয় জনপ্রতিনিধির ওপর এমন বর্বরোচিত হামলার খবর ছড়িয়ে পড়লে মুহূর্তের মধ্যে পুরো গ্রামের শত শত বিক্ষুব্ধ মানুষ লাঠিসোঁটা নিয়ে কালু ও তার সহযোগীদের চারপাশ থেকে ঘিরে ফেলে। একপর্যায়ে ধাওয়া দিয়ে ডেমা গ্রামেই কালু ও তার প্রধান সহযোগী শুভকে ধরে গণপিটুনি দেয় জনতা। গণপিটুনিতে দুই সন্ত্রাসীই রক্তাক্ত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে।

খবর পেয়ে বরগুনা সদর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং মুমূর্ষু অবস্থায় কালু ও শুভকে উদ্ধার করে বরগুনা সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. আবুল ইসরাত জনি পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে ইব্রাহিম হোসেন কালুকে মৃত ঘোষণা করেন। অন্যদিকে, প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর আশঙ্কাজনক অবস্থায় সহযোগী শুভকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শেবাচিম) পাঠানো হয়েছে। এছাড়া সন্ত্রাসী হামলায় আহত ইউপি সদস্য গোলাম মোস্তফাকেও উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

৪ মাস জেলে থেকে জামিনে ফিরেই আবার তান্ডব:

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আলীম জানান, নিহত ইব্রাহিম হোসেন কালু এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসেও তাকে বিপুল দেশীয় অস্ত্রসহ গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। প্রায় ৪ মাস কারাভোগের পর সম্প্রতি সে জামিনে মুক্ত হয়ে এলাকায় ফেরে। কিন্তু জামিন পেয়েই সে পুনরায় মাদক ব্যবসাসহ সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণে জড়ায়। এসব অপরাধের প্রতিবাদ করায় ইউপি সদস্যের ওপর হামলার সূত্র ধরে এই ঘটনা ঘটেছে।

ওসি আরও জানান, গণপিটুনির শিকার দুজনকে পুলিশই উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসে। এই জোড়া হামলার ঘটনায় এখনও থানায় কোনো পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ বা মামলা দায়ের করা হয়নি এবং কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। পুরো ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত চলছে। এদিকে প্যানেল চেয়ারম্যানকে কোপানো ও গণপিটুনিতে নিহতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো বদরখালী ইউনিয়নে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ডেমা গ্রাম ও হাসপাতাল এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।