ঢাকা ০৬:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৭ জুন ২০২৬, ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পরকীয়ার জন্য ২২ দিনের শিশুকে খুন: খাল থেকে মিলল লাশ, মা-প্রেমিক গ্রেফতার

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ১২:২৪:৪৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ মে ২০২৫
  • / 506

কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলায় পরকীয়ার জেরে নির্মমভাবে খুন হলো ২২ দিনের এক শিশু কন্যা। মিরপুরের পোড়াদহ চিথলিয়া এলাকার বাসিন্দা মিতা খাতুন ও তার পরকীয়া প্রেমিক সেরেবুল ইসলাম মিলে শিশুটিকে হত্যা করে। হত্যার পর তারা শিশুর লাশ স্থানীয় জিকে খালে ফেলে গুমের চেষ্টা করে।

ঘটনাস্থল থেকে আটক চারজন

বৃহস্পতিবার (২৯ মে) দুপুরে মিরপুর থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে এই ঘটনায় জড়িত চারজনকে আটক করে। আটককৃতরা হলেন—মিতা খাতুন (২৫), তার প্রেমিক সেরেবুল ইসলাম (২৮), সেরেবুলের বাবা সাইদুল ইসলাম (৫০) এবং চাঁদনী খাতুন (৩৫)। তারা সবাই একই গ্রামের বাসিন্দা।

দাম্পত্য কলহ ও সন্তানের পরিচয় নিয়ে বিতর্ক

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, প্রায় ৮ মাস আগে দৌলতপুর উপজেলার খলিষাকুন্ডি এলাকার রাজু নামের এক যুবকের সঙ্গে মিতার বিয়ে হয়। বিয়ের ছয় মাসের মাথায় তাদের ঘরে জন্ম নেয় এক কন্যা সন্তান। কিন্তু সন্তানের পিতৃপরিচয় নিয়ে শুরু হয় দ্বন্দ্ব। এই নিয়ে মিতা ও রাজুর মধ্যে সম্পর্ক খারাপ হতে থাকে। একপর্যায়ে মিতা শিশুকে নিয়ে বাবার বাড়ি চলে আসেন।

মায়ের বাড়িতেও শুরু হয় সন্দেহ ও জটিলতা

মায়ের বাড়ি চিথলিয়ায় এসে মিতা আবারও বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন। বাচ্চাটির আসল বাবা কে—এ নিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসে তার চাচাতো ভাই ও প্রেমিক সেরেবুল ইসলাম। একপর্যায়ে মিতা ও সেরেবুল সিদ্ধান্ত নেয় শিশুটিকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেওয়ার। ২৫ মে রাতে তারা মিলে শিশুটিকে হত্যা করে পাশের খালে ফেলে দেয়।

অপপ্রচার ও পুলিশের তৎপরতা

ঘটনা ধামাচাপা দিতে মিতা মিথ্যা অভিযোগ দেন যে, তার স্বামী রাজু বাচ্চাটিকে চুরি করে নিয়ে গেছে। তিনি ২৫ মে রাতেই মিরপুর থানায় মানবপাচার আইনে একটি মামলা করেন। তবে পুলিশ দ্রুত তদন্তে নামে এবং মিতাকে একাধিকবার জিজ্ঞাসাবাদ করে। সন্দেহ গাঢ় হতে থাকে।

স্বীকারোক্তি ও লাশ উদ্ধার

২৯ মে সকালে মিতা অবশেষে পুলিশের কাছে শিশুকে হত্যার দায় স্বীকার করেন। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী পুলিশ জিকে খাল থেকে শিশুটির লাশ উদ্ধার করে। পরবর্তীতে এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট চারজনকে আটক করা হয়।

পুলিশের বক্তব্য

মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মমিনুল ইসলাম বলেন, “পরকীয়ার জেরে নবজাতককে হত্যা করে লাশ খালে ফেলে দেওয়া হয়েছে। শিশুটির মা মিতা খাতুন নিজেই হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেছে। চারজনকে আটক করে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।”

পরকীয়ার জন্য ২২ দিনের শিশুকে খুন: খাল থেকে মিলল লাশ, মা-প্রেমিক গ্রেফতার

আপডেট সময় : ১২:২৪:৪৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ মে ২০২৫

কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলায় পরকীয়ার জেরে নির্মমভাবে খুন হলো ২২ দিনের এক শিশু কন্যা। মিরপুরের পোড়াদহ চিথলিয়া এলাকার বাসিন্দা মিতা খাতুন ও তার পরকীয়া প্রেমিক সেরেবুল ইসলাম মিলে শিশুটিকে হত্যা করে। হত্যার পর তারা শিশুর লাশ স্থানীয় জিকে খালে ফেলে গুমের চেষ্টা করে।

ঘটনাস্থল থেকে আটক চারজন

বৃহস্পতিবার (২৯ মে) দুপুরে মিরপুর থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে এই ঘটনায় জড়িত চারজনকে আটক করে। আটককৃতরা হলেন—মিতা খাতুন (২৫), তার প্রেমিক সেরেবুল ইসলাম (২৮), সেরেবুলের বাবা সাইদুল ইসলাম (৫০) এবং চাঁদনী খাতুন (৩৫)। তারা সবাই একই গ্রামের বাসিন্দা।

দাম্পত্য কলহ ও সন্তানের পরিচয় নিয়ে বিতর্ক

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, প্রায় ৮ মাস আগে দৌলতপুর উপজেলার খলিষাকুন্ডি এলাকার রাজু নামের এক যুবকের সঙ্গে মিতার বিয়ে হয়। বিয়ের ছয় মাসের মাথায় তাদের ঘরে জন্ম নেয় এক কন্যা সন্তান। কিন্তু সন্তানের পিতৃপরিচয় নিয়ে শুরু হয় দ্বন্দ্ব। এই নিয়ে মিতা ও রাজুর মধ্যে সম্পর্ক খারাপ হতে থাকে। একপর্যায়ে মিতা শিশুকে নিয়ে বাবার বাড়ি চলে আসেন।

মায়ের বাড়িতেও শুরু হয় সন্দেহ ও জটিলতা

মায়ের বাড়ি চিথলিয়ায় এসে মিতা আবারও বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন। বাচ্চাটির আসল বাবা কে—এ নিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসে তার চাচাতো ভাই ও প্রেমিক সেরেবুল ইসলাম। একপর্যায়ে মিতা ও সেরেবুল সিদ্ধান্ত নেয় শিশুটিকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেওয়ার। ২৫ মে রাতে তারা মিলে শিশুটিকে হত্যা করে পাশের খালে ফেলে দেয়।

অপপ্রচার ও পুলিশের তৎপরতা

ঘটনা ধামাচাপা দিতে মিতা মিথ্যা অভিযোগ দেন যে, তার স্বামী রাজু বাচ্চাটিকে চুরি করে নিয়ে গেছে। তিনি ২৫ মে রাতেই মিরপুর থানায় মানবপাচার আইনে একটি মামলা করেন। তবে পুলিশ দ্রুত তদন্তে নামে এবং মিতাকে একাধিকবার জিজ্ঞাসাবাদ করে। সন্দেহ গাঢ় হতে থাকে।

স্বীকারোক্তি ও লাশ উদ্ধার

২৯ মে সকালে মিতা অবশেষে পুলিশের কাছে শিশুকে হত্যার দায় স্বীকার করেন। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী পুলিশ জিকে খাল থেকে শিশুটির লাশ উদ্ধার করে। পরবর্তীতে এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট চারজনকে আটক করা হয়।

পুলিশের বক্তব্য

মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মমিনুল ইসলাম বলেন, “পরকীয়ার জেরে নবজাতককে হত্যা করে লাশ খালে ফেলে দেওয়া হয়েছে। শিশুটির মা মিতা খাতুন নিজেই হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেছে। চারজনকে আটক করে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।”