ফরিদপুরে বিএনপি পরিবারকে কবর পর্যন্ত তাড়া : বাবার পর ছেলেও মিথ্যা মামলার শিকার
- আপডেট সময় : ১০:১৫:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ মে ২০২৫
- / 506
“আমার বাবাকে মিথ্যা মামলা দিয়ে কবর পর্যন্ত পিছু ছাড়েনি ওরা। এখন আমার পেছনেও লেগেছে। মানুষ কি শুধু রাজনীতি করার জন্যই এই দুঃখ সয়ে যাবে?” — বলছিলেন ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার রুপাপাত ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান মোল্লা। তার কণ্ঠে ছিল ক্ষোভ, বেদনা ও চরম হতাশা—যা শুধু একজন দীর্ঘদিন রাজনৈতিক নিপীড়নের শিকার পরিবারের সদস্যই বুঝতে পারেন।
বাবা আবুল হোসেন মোল্যার জীবনজুড়ে মামলা
মিজানুর রহমানের বাবা আবুল হোসেন মোল্যা ছিলেন রুপাপাত ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। দলের প্রতি নিষ্ঠাবান এই নেতাকে ও তার পরিবারকে গুণতে হয়েছে রাজনৈতিক পরিচয়ের কঠিন মূল্য। পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে একের পর এক মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা করা হয়—সংখ্যা দাঁড়ায় প্রায় ৩০-৩৫টি। গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, পুলিশি হয়রানি, রাতের বেলা ঘরবাড়ি ঘেরাও—কিছুই বাদ ছিল না।
৪০০ বিএনপি পরিবার ও মানবিক উদ্যোগ
চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান জানান, আওয়ামী লীগের ক্ষমতাকালে কদমী গ্রামে প্রায় ৪০০ বিএনপি পরিবারের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল। ঘরবাড়ি লুট, রান্নার হাঁড়ি-পাতিল, গলার চেইন এমনকি শিশুদের খেলনাও কেড়ে নেওয়া হয়। এই পরিস্থিতিতে ২০১৭ সালে তিনি সাহস করে এগিয়ে আসেন। সালিশি বৈঠকের মাধ্যমে মামলা নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেন। স্কুলের সভাপতি হয়ে শিক্ষার্থীদের দুই বছরের বেতন মওকুফ করেন। করোনাকালে ব্যবসা ফেলে গ্রামে ফিরে মানবসেবা চালিয়ে যান।
চেয়ারম্যান হয়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা
ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর শালিশ বাণিজ্য বন্ধ করে দেন মিজানুর রহমান। অপরাধী ও ভুক্তভোগীদের একত্র করে সঠিক বিচার করেন। এতে জনগণের আস্থা বাড়লেও, কিছু স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতার বিরাগভাজন হন তিনি।
বিএনপি ভেতরের বিভাজন ও নতুন হয়রানি
রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা বিএনপির ভেতরের কিছু নেতাকে অর্থের বিনিময়ে ব্যবহার করে আবারও মিথ্যা মামলার বুনন শুরু করে। সরকার পরিবর্তনের পরেও চেহারা বদলে আবার ফিরে আসে সেই পুরনো নির্যাতনের রূপ। ঢাকার রামপুরা থানায় একটি ভিত্তিহীন রাজনৈতিক মামলায় মিজানুর রহমানকে আসামি করা হয়। একইভাবে মিরপুরেও হয় মিথ্যা মামলা।
নেতাদের নীরবতা ও হুমকি
মামলার সাক্ষী মো. রাজু মোল্যার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয় সংবাদকর্মীরা। রুপাপাত ইউনিয়ন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কালাম মিয়ার মোবাইলে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
প্রতিক্রিয়া: “সরকার বদলেছে, কিন্তু নিপীড়ন বদলায়নি”
স্থানীয় বিএনপি নেতারা জানান, “ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে যেমন মিথ্যা মামলা দিয়ে শ্বাসরুদ্ধ করা হতো, এখনো তাই চলছে।”
চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বলেন, “আমি মানুষের পাশে আছি, কারও বিরুদ্ধে না। কিন্তু আজও মামলা হয়, হুমকি আসে। আমরা কি চিরদিন অন্যায় সয়ে যাবো?”
ভুক্তভোগী পরিবারের বয়ান
বিএনপি নেতা আবুল হোসেনের স্ত্রী নাছিমা বেগম বলেন, “আমার স্বামীর রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে আওয়ামী লীগ নেতা শাহজাহান আমাদের বাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাট করেছে। এখনো আমার দুই ছেলে—চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান মোল্লা ও যুবদল নেতা মুরাদ মোল্লার নামে মিথ্যা মামলা দিচ্ছে।”
নিপীড়নের স্মৃতি ও নতুন আতঙ্ক
বিএনপি সমর্থক ফায়েক মোল্লা বলেন, “আমি, সোনা মিয়া, মুরাদ মোল্লা, কালাম মিয়া—একসাথে মাঠে ঘুমিয়ে রাত কাটিয়েছি পুলিশের ভয়ে। আমাকে ডিবি পুলিশ ধরে পিটিয়ে পঙ্গু করার চেষ্টা করেছিল। আজও শান্তি নেই।”
বিএনপির উপজেলা নেতৃত্বের প্রতিক্রিয়া
উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম বলেন, “রুপাপাত বিএনপির দুর্গ ছিল। মিজানুর রহমানের পরিবার চরম দুঃসময়েও দলকে ধরে রেখেছিল। অথচ আজ বিএনপি নামধারী কিছু দালাল নেতা আওয়ামী লীগের সঙ্গে হাত মিলিয়ে তাদের নামে মিথ্যা মামলা দিচ্ছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানাই।”





















