ঢাকা ১১:২০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরিদপুরে ছোট ছেলেকে অপহরণের ভয় দেখিয়ে বিয়ে, ফেঁসেছেন সরকারি কর্মচারী

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ১১:৪৭:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ জুলাই ২০২৫
  • / 662

ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে এক প্রবাসীর স্ত্রীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে বিয়ে ও নগদ অর্থসহ স্বর্ণালংকার আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন ভূমি অফিসের এক কর্মচারীর বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত ওই কর্মচারীর নাম হারিচুর রহমান ওরফে হাফিজ, যিনি গুনবহা ইউনিয়ন ভূমি অফিসে অফিস সহায়ক পদে কর্মরত। বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই, ২০২৫) ভুক্তভোগী নারীর দুলাভাই সাহাবুদ্দিন সিকদার বোয়ালমারী থানায় এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগের বিস্তারিত

অভিযোগে বলা হয়েছে, ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ করতে গিয়ে ওই নারী হারিচুর রহমানের সঙ্গে পরিচিত হন। এরপর নানা অজুহাতে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। এক পর্যায়ে হারিচুর ওই নারীকে তার ছোট ছেলেকে অপহরণের ভয় দেখিয়ে গত ১০ জুন নিজের বাড়িতে নিয়ে যান। এসময় ভুক্তভোগী নারীর কাছ থেকে নগদ সাড়ে ৭ লাখ টাকা এবং প্রায় ৮ লাখ টাকার স্বর্ণালংকার হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগ অনুযায়ী, হারিচুর তাকে নিজের বাড়িতে আটকে রেখে মোবাইল ফোন কেড়ে নেন এবং বাইরের জগতের সঙ্গে তার সকল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরবর্তীতে, একটি সাজানো বিয়ের কাবিননামা তৈরি করা হয়, যেখানে বিয়ের তারিখ পিছিয়ে ২৪ মে দেখানো হয়, যদিও নিকাহ রেজিস্টারের স্বাক্ষর রয়েছে ২৫ জুন।

ভুক্তভোগী ও অভিযুক্তের বক্তব্য

ভুক্তভোগী নারী গণমাধ্যমকে বলেন, “আমার ছোট ছেলেকে অপহরণ করার ভয় দেখিয়ে এবং নানা প্রলোভনে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে হারিচ আমাকে বিয়ে করে। আমার নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকারও নিয়ে গেছে।”

তবে, অভিযুক্ত হারিচুর রহমান সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, “আমি তাকে বিয়ে করেছি, কোনো সমস্যা নেই। বাড়িতে আটকে রাখার অভিযোগ সঠিক নয়।”

প্রশাসন ও পুলিশের ভূমিকা

বোয়ালমারী থানার উপ-পরিদর্শক মাহমুদ হোসেন জানিয়েছেন, অভিযোগের পর হারিচুরকে একাধিকবার থানায় আসতে বলা হলেও তিনি তা এড়িয়ে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, “আদালতে মামলা করলে বিষয়টি আরও কার্যকরভাবে নিষ্পত্তি হবে।”

গুনবহা ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা সাধন কুমার রায় নিশ্চিত করেছেন যে হারিচুর বেশ কয়েকদিন ধরে অফিসে আসছেন না। বিষয়টি জানার পর এসিল্যান্ড তাকে নোটিশ দিয়েছেন।

বোয়ালমারী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুল্লাহ আল আমিন বলেন, তারা সরাসরি অভিযোগ না পেলেও বিষয়টি অবগত হয়েছেন এবং অভিযুক্তকে সতর্কীকরণ নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, অভিযোগ যাচাই করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এই ঘটনা স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে এবং এর সুষ্ঠু তদন্তের দাবি উঠেছে।

ফরিদপুরে ছোট ছেলেকে অপহরণের ভয় দেখিয়ে বিয়ে, ফেঁসেছেন সরকারি কর্মচারী

আপডেট সময় : ১১:৪৭:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ জুলাই ২০২৫

ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে এক প্রবাসীর স্ত্রীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে বিয়ে ও নগদ অর্থসহ স্বর্ণালংকার আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন ভূমি অফিসের এক কর্মচারীর বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত ওই কর্মচারীর নাম হারিচুর রহমান ওরফে হাফিজ, যিনি গুনবহা ইউনিয়ন ভূমি অফিসে অফিস সহায়ক পদে কর্মরত। বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই, ২০২৫) ভুক্তভোগী নারীর দুলাভাই সাহাবুদ্দিন সিকদার বোয়ালমারী থানায় এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগের বিস্তারিত

অভিযোগে বলা হয়েছে, ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ করতে গিয়ে ওই নারী হারিচুর রহমানের সঙ্গে পরিচিত হন। এরপর নানা অজুহাতে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। এক পর্যায়ে হারিচুর ওই নারীকে তার ছোট ছেলেকে অপহরণের ভয় দেখিয়ে গত ১০ জুন নিজের বাড়িতে নিয়ে যান। এসময় ভুক্তভোগী নারীর কাছ থেকে নগদ সাড়ে ৭ লাখ টাকা এবং প্রায় ৮ লাখ টাকার স্বর্ণালংকার হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগ অনুযায়ী, হারিচুর তাকে নিজের বাড়িতে আটকে রেখে মোবাইল ফোন কেড়ে নেন এবং বাইরের জগতের সঙ্গে তার সকল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরবর্তীতে, একটি সাজানো বিয়ের কাবিননামা তৈরি করা হয়, যেখানে বিয়ের তারিখ পিছিয়ে ২৪ মে দেখানো হয়, যদিও নিকাহ রেজিস্টারের স্বাক্ষর রয়েছে ২৫ জুন।

ভুক্তভোগী ও অভিযুক্তের বক্তব্য

ভুক্তভোগী নারী গণমাধ্যমকে বলেন, “আমার ছোট ছেলেকে অপহরণ করার ভয় দেখিয়ে এবং নানা প্রলোভনে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে হারিচ আমাকে বিয়ে করে। আমার নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকারও নিয়ে গেছে।”

তবে, অভিযুক্ত হারিচুর রহমান সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, “আমি তাকে বিয়ে করেছি, কোনো সমস্যা নেই। বাড়িতে আটকে রাখার অভিযোগ সঠিক নয়।”

প্রশাসন ও পুলিশের ভূমিকা

বোয়ালমারী থানার উপ-পরিদর্শক মাহমুদ হোসেন জানিয়েছেন, অভিযোগের পর হারিচুরকে একাধিকবার থানায় আসতে বলা হলেও তিনি তা এড়িয়ে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, “আদালতে মামলা করলে বিষয়টি আরও কার্যকরভাবে নিষ্পত্তি হবে।”

গুনবহা ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা সাধন কুমার রায় নিশ্চিত করেছেন যে হারিচুর বেশ কয়েকদিন ধরে অফিসে আসছেন না। বিষয়টি জানার পর এসিল্যান্ড তাকে নোটিশ দিয়েছেন।

বোয়ালমারী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুল্লাহ আল আমিন বলেন, তারা সরাসরি অভিযোগ না পেলেও বিষয়টি অবগত হয়েছেন এবং অভিযুক্তকে সতর্কীকরণ নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, অভিযোগ যাচাই করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এই ঘটনা স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে এবং এর সুষ্ঠু তদন্তের দাবি উঠেছে।