ঢাকা ০১:৪০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরিদপুরে এ. কে. আজাদের বাড়িতে বিএনপি নেতাকর্মীদের উপস্থিতি: ‘গোপন সভার’ অভিযোগ

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ১২:৪১:৩৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৪ জুলাই ২০২৫
  • / 985

ফরিদপুর শহরের ঝিলটুলীতে অবস্থিত হা-মীম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ. কে. আজাদের বাড়িতে চড়াও হয়েছেন স্থানীয় বিএনপির একাংশের নেতাকর্মীরা। ‘আওয়ামী লীগের গোপন মিটিং’ হচ্ছে—এই অভিযোগ তুলে বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই, ২০২৫) বিকেলে এই ঘটনা ঘটানো হয়, যা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।

বাড়িতে যা ঘটেছিল

হা-মীম গ্রুপের ল্যান্ড অফিসার মো. রাফিজুল খান জানিয়েছেন, মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব গোলাম মোস্তফা মিরাজের নেতৃত্বে একদল নেতাকর্মী বাড়ির গেটে বারবার আঘাত করলে সিকিউরিটি গার্ড এগিয়ে যান। গেট খোলার পর গোলাম মোস্তফা মিরাজ, মহানগর যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক নাহিদুল ইসলাম নাহিদসহ কয়েকজন বাড়িতে ঢুকে পড়েন। তারা বাড়িতে ‘আওয়ামী লীগের গোপন সভা’ হচ্ছে কিনা—এই বলে ধমকাধমকি করেন। পরে তারা খালি বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। এ সময় বাড়িতে রাফিজুল খান ছাড়াও প্রজেক্ট ইঞ্জিনিয়ার মো. সোলাইমান হোসেন, সিকিউরিটি গার্ড মেহেদী হাসান ও ক্লিনার মো. হান্নান মিয়া উপস্থিত ছিলেন।

মিছিল ও সমাবেশ

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এ. কে. আজাদের বাসা থেকে বেরিয়ে মহানগর বিএনপির নেতাকর্মীরা পাশের ভূমি অফিসের সামনে জড়ো হন। সেখানে শতাধিক লোক জড়ো হওয়ার পর তারা একটি মিছিল বের করেন। মিছিলটি ভূমি অফিসের সামনে থেকে শুরু হয়ে অনাথের আচারের মোড় এলাকায় যায়।

মিছিলে নেতৃত্ব দেওয়া নেতাদের মধ্যে ছিলেন ফরিদপুর মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মিজানুর রহমান, মহানগর যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আলী রেজোয়ান বিশ্বাস, ফরিদপুর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব শাহরিয়ার হোসেন এবং মহানগর ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মুনিব হাসান।

বিএনপি নেতাদের বক্তব্য

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব গোলাম মোস্তফা মিরাজ বলেন, “আমরা জানতে পারি, ঝিলটুলীর ওই বাড়িতে আওয়ামী লীগ ও তার দোসররা দেশে অরাজকতা সৃষ্টি করার জন্য সভা করছে। সেজন্য আমরা ওই বাড়িতে গিয়েছিলাম।”

একজন রাজনৈতিক দলের নেতা হিসেবে শীর্ষ একজন ব্যবসায়ীর বাড়িতে এভাবে চড়াও হওয়া যায় কিনা—এমন প্রশ্নের জবাবে মিরাজ বলেন, “আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসিত করার চেষ্টা করছে পুলিশ।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, আগামী জাতীয় নির্বাচনে ফরিদপুর-৩ আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে সংসদ নির্বাচন করতে গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন সাবেক মন্ত্রী ও বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান প্রয়াত চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফের মেয়ে নায়াব ইউসুফ, এবং এ জন্য তারা কাজ করছেন।

নায়াব ইউসুফ ও জেলা বিএনপি’র অবস্থান

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে নায়াব ইউসুফ জানান, শহরে এ. কে. আজাদের অনেক বাড়ি। আজ বিএনপির একটি মিছিল হয়েছে; কিন্তু কোন বাড়িতে বিএনপির নেতাকর্মীরা চড়াও হয়েছে—এ খবর তার জানা নেই। তিনি দাবি করেন, এ. কে. আজাদ আগামী নির্বাচন সামনে রেখে এলাকার মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন। তবে তিনি নিজে হিংসার বা হামলার রাজনীতি করেন না এবং তার নেতাকর্মীদেরও সন্ত্রাস-বিশৃঙ্খলা করতে দেন না।

জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ মোদাররেছ আলী জানিয়েছেন, তিনি বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করছেন এবং এ. কে. আজাদের বাড়িতে কিছু ঘটেছে বলে তার জানা নেই।

পুলিশের বক্তব্য

ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদউজ্জামান বলেন, “বৃহস্পতিবার বিকেলে খবর পাই এ. কে. আজাদের বাড়িতে বিএনপির লোকজন গিয়েছে। পরে দ্রুত সেখানে পুলিশ পাঠানো হয়। তবে ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ কাউকে পায়নি।”

এই ঘটনা ফরিদপুরের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে চাঞ্চল্য ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

ফরিদপুরে এ. কে. আজাদের বাড়িতে বিএনপি নেতাকর্মীদের উপস্থিতি: ‘গোপন সভার’ অভিযোগ

আপডেট সময় : ১২:৪১:৩৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৪ জুলাই ২০২৫

ফরিদপুর শহরের ঝিলটুলীতে অবস্থিত হা-মীম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ. কে. আজাদের বাড়িতে চড়াও হয়েছেন স্থানীয় বিএনপির একাংশের নেতাকর্মীরা। ‘আওয়ামী লীগের গোপন মিটিং’ হচ্ছে—এই অভিযোগ তুলে বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই, ২০২৫) বিকেলে এই ঘটনা ঘটানো হয়, যা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।

বাড়িতে যা ঘটেছিল

হা-মীম গ্রুপের ল্যান্ড অফিসার মো. রাফিজুল খান জানিয়েছেন, মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব গোলাম মোস্তফা মিরাজের নেতৃত্বে একদল নেতাকর্মী বাড়ির গেটে বারবার আঘাত করলে সিকিউরিটি গার্ড এগিয়ে যান। গেট খোলার পর গোলাম মোস্তফা মিরাজ, মহানগর যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক নাহিদুল ইসলাম নাহিদসহ কয়েকজন বাড়িতে ঢুকে পড়েন। তারা বাড়িতে ‘আওয়ামী লীগের গোপন সভা’ হচ্ছে কিনা—এই বলে ধমকাধমকি করেন। পরে তারা খালি বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। এ সময় বাড়িতে রাফিজুল খান ছাড়াও প্রজেক্ট ইঞ্জিনিয়ার মো. সোলাইমান হোসেন, সিকিউরিটি গার্ড মেহেদী হাসান ও ক্লিনার মো. হান্নান মিয়া উপস্থিত ছিলেন।

মিছিল ও সমাবেশ

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এ. কে. আজাদের বাসা থেকে বেরিয়ে মহানগর বিএনপির নেতাকর্মীরা পাশের ভূমি অফিসের সামনে জড়ো হন। সেখানে শতাধিক লোক জড়ো হওয়ার পর তারা একটি মিছিল বের করেন। মিছিলটি ভূমি অফিসের সামনে থেকে শুরু হয়ে অনাথের আচারের মোড় এলাকায় যায়।

মিছিলে নেতৃত্ব দেওয়া নেতাদের মধ্যে ছিলেন ফরিদপুর মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মিজানুর রহমান, মহানগর যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আলী রেজোয়ান বিশ্বাস, ফরিদপুর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব শাহরিয়ার হোসেন এবং মহানগর ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মুনিব হাসান।

বিএনপি নেতাদের বক্তব্য

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব গোলাম মোস্তফা মিরাজ বলেন, “আমরা জানতে পারি, ঝিলটুলীর ওই বাড়িতে আওয়ামী লীগ ও তার দোসররা দেশে অরাজকতা সৃষ্টি করার জন্য সভা করছে। সেজন্য আমরা ওই বাড়িতে গিয়েছিলাম।”

একজন রাজনৈতিক দলের নেতা হিসেবে শীর্ষ একজন ব্যবসায়ীর বাড়িতে এভাবে চড়াও হওয়া যায় কিনা—এমন প্রশ্নের জবাবে মিরাজ বলেন, “আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসিত করার চেষ্টা করছে পুলিশ।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, আগামী জাতীয় নির্বাচনে ফরিদপুর-৩ আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে সংসদ নির্বাচন করতে গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন সাবেক মন্ত্রী ও বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান প্রয়াত চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফের মেয়ে নায়াব ইউসুফ, এবং এ জন্য তারা কাজ করছেন।

নায়াব ইউসুফ ও জেলা বিএনপি’র অবস্থান

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে নায়াব ইউসুফ জানান, শহরে এ. কে. আজাদের অনেক বাড়ি। আজ বিএনপির একটি মিছিল হয়েছে; কিন্তু কোন বাড়িতে বিএনপির নেতাকর্মীরা চড়াও হয়েছে—এ খবর তার জানা নেই। তিনি দাবি করেন, এ. কে. আজাদ আগামী নির্বাচন সামনে রেখে এলাকার মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন। তবে তিনি নিজে হিংসার বা হামলার রাজনীতি করেন না এবং তার নেতাকর্মীদেরও সন্ত্রাস-বিশৃঙ্খলা করতে দেন না।

জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ মোদাররেছ আলী জানিয়েছেন, তিনি বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করছেন এবং এ. কে. আজাদের বাড়িতে কিছু ঘটেছে বলে তার জানা নেই।

পুলিশের বক্তব্য

ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদউজ্জামান বলেন, “বৃহস্পতিবার বিকেলে খবর পাই এ. কে. আজাদের বাড়িতে বিএনপির লোকজন গিয়েছে। পরে দ্রুত সেখানে পুলিশ পাঠানো হয়। তবে ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ কাউকে পায়নি।”

এই ঘটনা ফরিদপুরের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে চাঞ্চল্য ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।