ঢাকা ০৫:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরিদপুরে নকল ওষুধ কারখানায় অভিযান: বিপুল পণ্য জব্দ, কারখানা সিলগালা

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ১০:৪৬:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ জুলাই ২০২৫
  • / 713

ফরিদপুর শহরের পশ্চিম খাবাসপুরে একটি নকল ওষুধ ও প্রসাধনী সামগ্রী প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানায় যৌথবাহিনী অভিযান চালিয়েছে। রোববার (৬ জুলাই, ২০২৫) বিকেলে চালানো এই অভিযানে বিভিন্ন স্বনামধন্য কোম্পানির নামে প্যাকেটজাত করা বিপুল পরিমাণ নকল পণ্য জব্দ করা হয়। এসব পণ্যে নকল বিএসটিআই লোগো ব্যবহার করে বাজারে ছাড়া হচ্ছিল। এ সময় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে রিয়াজ শিকদার (২৬) নামে এক বিক্রয় প্রতিনিধিকে এক মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া পলাতক মালিকের বিরুদ্ধে ওষুধ ও প্রসাধনী সামগ্রী আইনে মামলা করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

অভিযান ও জব্দকৃত পণ্য

রবিবার বিকেলে শহরের পশ্চিম খাবাসপুর এলাকায় একটি তিনতলা ভবনের দ্বিতীয় তলায় এই অভিযান চালানো হয়। অভিযানে সেনাবাহিনী, কোতোয়ালি থানা পুলিশ এবং জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফজলে রাব্বি ও জেলা ড্রাগ সুপার মো. রোকনুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন।

কারখানাটিতে মানুষের ব্রনসহ চর্মজনিত সমস্যার ওষুধ তৈরি ও প্যাকেটজাত করা হতো। এছাড়াও শ্যাম্পু, ফেসওয়াশ, বডিওয়াশ, সাবান, শিশুদের ব্যবহৃত সাবান তৈরিসহ অসংখ্য প্রসাধনী পণ্য ও রাসায়নিক সামগ্রী পাওয়া গেছে। এখান থেকে কিটোজেল, পারনিক্স, পারকিট সহ অসংখ্য নামি-বেনামি কোম্পানির নকল প্যাকেটজাত পণ্য উদ্ধার করা হয়।

কারখানার মালিক ও কর্মীদের তথ্য

স্থানীয় ও অভিযান সূত্রে জানা গেছে, পশ্চিম খাবাসপুর মাওলানা আব্দুল আলিম সড়কের রহিমের মোড় এলাকায় জুয়েল নামে এক ব্যক্তির ভাড়াটিয়া মাহফুজুর রহমান শিপন (৩৫) নয় মাস আগে বাসাটি ভাড়া নিয়ে এই অবৈধ কার্যক্রম শুরু করেন। অভিযানের সময় তিনি পালিয়ে যান। শিপনের বাড়ি জেলার সদরপুর উপজেলার বেপারীডাঙ্গী এলাকায়।

জেলা ড্রাগ সুপার মো. রোকনুজ্জামান জানান, শিপন দুই ইউনিট ভাড়া বাসায় এই অবৈধ কারখানা গড়ে তুলেছিলেন। কারখানাটির কোনো লাইসেন্স বা ওষুধ উৎপাদনের বৈধতা ছিল না। তিনি বলেন, যেহেতু কোনো অনুমোদন ছাড়াই ওষুধসহ এসব উৎপাদন করা হচ্ছিল, সেক্ষেত্রে এগুলো নিম্নমানের হতে পারে এবং মানবদেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে। জব্দকৃত পণ্যের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পাঠিয়ে গুণগত মান পরীক্ষা করা হবে বলেও তিনি জানান।

আইনি পদক্ষেপ

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফজলে রাব্বি জানান, অবৈধভাবে পণ্য উৎপাদন করার অপরাধে আটক একজন কর্মচারীকে ভোক্তা অধিকার আইন ২০০৯ এর ৪৫ ধারা মোতাবেক এক মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, মালিক মাহফুজুর রহমান শিপনের বিরুদ্ধে ওষুধ ও কসমেটিকস আইন ২০২৩ এর ১৪(১) ধারা মোতাবেক মামলা করার জন্য ড্রাগ সুপারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, এই ঘটনার সাথে জড়িত সকলকেই আইনের আওতায় আনা হবে।

ফরিদপুরে নকল ওষুধ কারখানায় অভিযান: বিপুল পণ্য জব্দ, কারখানা সিলগালা

আপডেট সময় : ১০:৪৬:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ জুলাই ২০২৫

ফরিদপুর শহরের পশ্চিম খাবাসপুরে একটি নকল ওষুধ ও প্রসাধনী সামগ্রী প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানায় যৌথবাহিনী অভিযান চালিয়েছে। রোববার (৬ জুলাই, ২০২৫) বিকেলে চালানো এই অভিযানে বিভিন্ন স্বনামধন্য কোম্পানির নামে প্যাকেটজাত করা বিপুল পরিমাণ নকল পণ্য জব্দ করা হয়। এসব পণ্যে নকল বিএসটিআই লোগো ব্যবহার করে বাজারে ছাড়া হচ্ছিল। এ সময় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে রিয়াজ শিকদার (২৬) নামে এক বিক্রয় প্রতিনিধিকে এক মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া পলাতক মালিকের বিরুদ্ধে ওষুধ ও প্রসাধনী সামগ্রী আইনে মামলা করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

অভিযান ও জব্দকৃত পণ্য

রবিবার বিকেলে শহরের পশ্চিম খাবাসপুর এলাকায় একটি তিনতলা ভবনের দ্বিতীয় তলায় এই অভিযান চালানো হয়। অভিযানে সেনাবাহিনী, কোতোয়ালি থানা পুলিশ এবং জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফজলে রাব্বি ও জেলা ড্রাগ সুপার মো. রোকনুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন।

কারখানাটিতে মানুষের ব্রনসহ চর্মজনিত সমস্যার ওষুধ তৈরি ও প্যাকেটজাত করা হতো। এছাড়াও শ্যাম্পু, ফেসওয়াশ, বডিওয়াশ, সাবান, শিশুদের ব্যবহৃত সাবান তৈরিসহ অসংখ্য প্রসাধনী পণ্য ও রাসায়নিক সামগ্রী পাওয়া গেছে। এখান থেকে কিটোজেল, পারনিক্স, পারকিট সহ অসংখ্য নামি-বেনামি কোম্পানির নকল প্যাকেটজাত পণ্য উদ্ধার করা হয়।

কারখানার মালিক ও কর্মীদের তথ্য

স্থানীয় ও অভিযান সূত্রে জানা গেছে, পশ্চিম খাবাসপুর মাওলানা আব্দুল আলিম সড়কের রহিমের মোড় এলাকায় জুয়েল নামে এক ব্যক্তির ভাড়াটিয়া মাহফুজুর রহমান শিপন (৩৫) নয় মাস আগে বাসাটি ভাড়া নিয়ে এই অবৈধ কার্যক্রম শুরু করেন। অভিযানের সময় তিনি পালিয়ে যান। শিপনের বাড়ি জেলার সদরপুর উপজেলার বেপারীডাঙ্গী এলাকায়।

জেলা ড্রাগ সুপার মো. রোকনুজ্জামান জানান, শিপন দুই ইউনিট ভাড়া বাসায় এই অবৈধ কারখানা গড়ে তুলেছিলেন। কারখানাটির কোনো লাইসেন্স বা ওষুধ উৎপাদনের বৈধতা ছিল না। তিনি বলেন, যেহেতু কোনো অনুমোদন ছাড়াই ওষুধসহ এসব উৎপাদন করা হচ্ছিল, সেক্ষেত্রে এগুলো নিম্নমানের হতে পারে এবং মানবদেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে। জব্দকৃত পণ্যের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পাঠিয়ে গুণগত মান পরীক্ষা করা হবে বলেও তিনি জানান।

আইনি পদক্ষেপ

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফজলে রাব্বি জানান, অবৈধভাবে পণ্য উৎপাদন করার অপরাধে আটক একজন কর্মচারীকে ভোক্তা অধিকার আইন ২০০৯ এর ৪৫ ধারা মোতাবেক এক মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, মালিক মাহফুজুর রহমান শিপনের বিরুদ্ধে ওষুধ ও কসমেটিকস আইন ২০২৩ এর ১৪(১) ধারা মোতাবেক মামলা করার জন্য ড্রাগ সুপারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, এই ঘটনার সাথে জড়িত সকলকেই আইনের আওতায় আনা হবে।