ঢাকা ০১:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গোপালগঞ্জে চরম উত্তেজনা: জারি ১৪৪ ধারা

দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৪:১৭:১৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ জুলাই ২০২৫
  • / 294

গোপালগঞ্জ, ১৬ জুলাই, ২০২৫ – জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচি আজ গোপালগঞ্জকে এক চরম রণক্ষেত্রে পরিণত করেছে। বুধবার (১৬ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে সমাবেশ শেষ হওয়ার পরপরই এনসিপি’র পদযাত্রায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা সশস্ত্র হামলা চালায়। এই হামলায় এনসিপি’র কেন্দ্রীয় নেতারা অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রশাসন গোপালগঞ্জে ১৪৪ ধারা জারি করতে বাধ্য হয়েছে।

সমাবেশ শেষে ভয়াবহ হামলা ও অবরোধ

এনসিপি’র সমাবেশ শেষ হওয়ার সাথে সাথেই একদল সশস্ত্র ব্যক্তি এনসিপি’র নেতাকর্মীদের ঘিরে ধরে হামলা শুরু করে। তারা চারদিক থেকে নেতাকর্মী ও পুলিশের গাড়ি আটকে দেয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা সাউন্ড গ্রেনেড ও ফাঁকা গুলি ছুড়েছেন। এই আকস্মিক হামলায় এনসিপি’র নেতাকর্মীরা অন্য দিক দিয়ে গাড়ি ঘুরিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করতে বাধ্য হন।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা যখন রওনা দিয়েছি, তখন গ্রাম থেকে যত আওয়ামী লীগ-যুবলীগ, সারা দেশ থেকে আওয়ামী লীগের লোকজন এসে আমাদের ওপর হামলা করেছে। আমরা এখন একটি জায়গায় অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছি।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি শান্ত বলা হলেও, পুলিশ ও সেনাবাহিনী পুরোপুরি নিষ্ক্রিয় অবস্থায় ছিল।

দিনব্যাপী সহিংসতা ও পূর্বের ঘটনাপ্রবাহ

দিনের শুরু থেকেই গোপালগঞ্জে এনসিপি’র পদযাত্রা ঘিরে ব্যাপক উত্তেজনা ও সহিংসতা বিরাজ করছিল:

সমাবেশ মঞ্চে হামলা: দুপুর দেড়টার দিকে গোপালগঞ্জ শহরের পৌরপার্ক এলাকায় এনসিপি’র সমাবেশ মঞ্চে হামলা ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এ হামলার জন্য নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগকেই দায়ী করেছে এনসিপি। অভিযোগ উঠেছে, ছাত্রলীগ মঞ্চে থাকা সাউন্ড বক্স, মাইক ও চেয়ার ভাঙচুর করেছে। গোপালগঞ্জ সদর থানার ওসি মির মো. সাজেদুর রহমান এই হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ইউএনও ও পুলিশের গাড়িতে হামলা: সকালে এনসিপি’র ‘মার্চ টু গোপালগঞ্জ’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ইউএনও’র গাড়িবহরে হামলা, পুলিশের গাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় পুলিশের তিন সদস্য আহত হয়েছেন।

সড়ক অবরোধ ও সেনাবাহিনী মোতায়েন: গোপালগঞ্জ কোটালীপাড়া সড়ক, গোপালগঞ্জ টেকেরহাট সড়ক ও টুঙ্গিপাড়ায় সেনা সদস্যদের এপিসি (আর্মড পার্সোনেল ক্যারিয়ার) মোতায়েন করা হয়েছে। সকালে সদর উপজেলার গান্ধীয়াশুর এলাকায় ঘোনাপাড়া-টেকেরহাট আঞ্চলিক সড়ক গাছ কেটে অবরোধ করেছিল আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

গ্রেফতার ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ

গোপালগঞ্জে এনসিপি’র জুলাই পদযাত্রাকে কেন্দ্র করে জেলার বিভিন্ন স্থানে নাশকতা ও পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় এখন পর্যন্ত সাতজনকে আটক করেছে সেনাবাহিনী। তাৎক্ষণিকভাবে তাদের পরিচয় জানা যায়নি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য ঘটনাস্থলে সেনাবাহিনী কাজ করছে। গোপালগঞ্জ সদর থানার ওসি মির মো. সাজেদুর রহমান জানিয়েছেন, এনসিপি’র কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পুলিশের ওপর হামলা ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।

সব মিলিয়ে গোপালগঞ্জের পরিস্থিতি বর্তমানে অত্যন্ত থমথমে এবং আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নজরদারিতে রয়েছে। ১৪৪ ধারা জারির ফলে যেকোনো ধরনের সমাবেশ ও জনসমাগম নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

গোপালগঞ্জে চরম উত্তেজনা: জারি ১৪৪ ধারা

আপডেট সময় : ০৪:১৭:১৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ জুলাই ২০২৫

গোপালগঞ্জ, ১৬ জুলাই, ২০২৫ – জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচি আজ গোপালগঞ্জকে এক চরম রণক্ষেত্রে পরিণত করেছে। বুধবার (১৬ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে সমাবেশ শেষ হওয়ার পরপরই এনসিপি’র পদযাত্রায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা সশস্ত্র হামলা চালায়। এই হামলায় এনসিপি’র কেন্দ্রীয় নেতারা অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রশাসন গোপালগঞ্জে ১৪৪ ধারা জারি করতে বাধ্য হয়েছে।

সমাবেশ শেষে ভয়াবহ হামলা ও অবরোধ

এনসিপি’র সমাবেশ শেষ হওয়ার সাথে সাথেই একদল সশস্ত্র ব্যক্তি এনসিপি’র নেতাকর্মীদের ঘিরে ধরে হামলা শুরু করে। তারা চারদিক থেকে নেতাকর্মী ও পুলিশের গাড়ি আটকে দেয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা সাউন্ড গ্রেনেড ও ফাঁকা গুলি ছুড়েছেন। এই আকস্মিক হামলায় এনসিপি’র নেতাকর্মীরা অন্য দিক দিয়ে গাড়ি ঘুরিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করতে বাধ্য হন।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা যখন রওনা দিয়েছি, তখন গ্রাম থেকে যত আওয়ামী লীগ-যুবলীগ, সারা দেশ থেকে আওয়ামী লীগের লোকজন এসে আমাদের ওপর হামলা করেছে। আমরা এখন একটি জায়গায় অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছি।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি শান্ত বলা হলেও, পুলিশ ও সেনাবাহিনী পুরোপুরি নিষ্ক্রিয় অবস্থায় ছিল।

দিনব্যাপী সহিংসতা ও পূর্বের ঘটনাপ্রবাহ

দিনের শুরু থেকেই গোপালগঞ্জে এনসিপি’র পদযাত্রা ঘিরে ব্যাপক উত্তেজনা ও সহিংসতা বিরাজ করছিল:

সমাবেশ মঞ্চে হামলা: দুপুর দেড়টার দিকে গোপালগঞ্জ শহরের পৌরপার্ক এলাকায় এনসিপি’র সমাবেশ মঞ্চে হামলা ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এ হামলার জন্য নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগকেই দায়ী করেছে এনসিপি। অভিযোগ উঠেছে, ছাত্রলীগ মঞ্চে থাকা সাউন্ড বক্স, মাইক ও চেয়ার ভাঙচুর করেছে। গোপালগঞ্জ সদর থানার ওসি মির মো. সাজেদুর রহমান এই হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ইউএনও ও পুলিশের গাড়িতে হামলা: সকালে এনসিপি’র ‘মার্চ টু গোপালগঞ্জ’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ইউএনও’র গাড়িবহরে হামলা, পুলিশের গাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় পুলিশের তিন সদস্য আহত হয়েছেন।

সড়ক অবরোধ ও সেনাবাহিনী মোতায়েন: গোপালগঞ্জ কোটালীপাড়া সড়ক, গোপালগঞ্জ টেকেরহাট সড়ক ও টুঙ্গিপাড়ায় সেনা সদস্যদের এপিসি (আর্মড পার্সোনেল ক্যারিয়ার) মোতায়েন করা হয়েছে। সকালে সদর উপজেলার গান্ধীয়াশুর এলাকায় ঘোনাপাড়া-টেকেরহাট আঞ্চলিক সড়ক গাছ কেটে অবরোধ করেছিল আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

গ্রেফতার ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ

গোপালগঞ্জে এনসিপি’র জুলাই পদযাত্রাকে কেন্দ্র করে জেলার বিভিন্ন স্থানে নাশকতা ও পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় এখন পর্যন্ত সাতজনকে আটক করেছে সেনাবাহিনী। তাৎক্ষণিকভাবে তাদের পরিচয় জানা যায়নি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য ঘটনাস্থলে সেনাবাহিনী কাজ করছে। গোপালগঞ্জ সদর থানার ওসি মির মো. সাজেদুর রহমান জানিয়েছেন, এনসিপি’র কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পুলিশের ওপর হামলা ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।

সব মিলিয়ে গোপালগঞ্জের পরিস্থিতি বর্তমানে অত্যন্ত থমথমে এবং আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নজরদারিতে রয়েছে। ১৪৪ ধারা জারির ফলে যেকোনো ধরনের সমাবেশ ও জনসমাগম নিষিদ্ধ করা হয়েছে।