ঢাকা ১২:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাজনীতির মাঠে বিজ্ঞানী: ফরিদপুর-১ আসনে ড. শাহাবুদ্দিনকে নিয়ে তোলপাড়

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ০৮:৪৭:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • / 907

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ফরিদপুর-১ (বোয়ালমারী-মধুখালী-আলফাডাঙ্গা) আসনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে মাঠে নেমেছেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বিজ্ঞানী ড. শাহাবুদ্দিন আহমেদ। জনগণের কাছে দলের ৩১ দফা কর্মসূচি তুলে ধরার পাশাপাশি তিনি নিজের একটি বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনাও ঘোষণা করেছেন।এপেক্ষিতে ফরিদপুর ১ আসনে ড. শাহাবুদ্দিনকে নিয়ে জনগণের ব্যাপক আগ্রহ উদ্দীপনা ও তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশের সঙ্গে এক আলাপচারিতায় তিনি বলেন, কেন জনগণ তাকে ভোট দেবে এবং নির্বাচিত হলে কী করবেন, তা পরিষ্কারভাবে জানিয়েছেন।

দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশী স্টাফ রিপোর্টার প্রশ্ন করেন, আপনাকে জনগণ কেন ভোট দেবে?

জবাবে ড. শাহাবুদ্দিন বলেন—
“এলাকার মানুষ বিএনপি’র পক্ষ থেকে একজন যোগ্য প্রার্থী চায়। আমার বিশ্বাস, সেই যোগ্যতার মাপকাঠি হওয়া উচিত তিনটি বিষয়ঃ
১) শিক্ষাগত যোগ্যতা
২) সততা ও জবাবদিহিতা
৩) দেশ, দল ও জনগণের প্রতি কমিটমেন্ট।

এই মানদণ্ডে আমি অন্যদের তুলনায় অনেক এগিয়ে আছি। ৫ আগস্টের পর মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে অনেকেই আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের পুনর্বাসন করেছে এবং তাদের অবৈধ অর্থে সমৃদ্ধ হয়েছে, যা দলের হাই কমান্ডের সুস্পষ্ট নির্দেশনার লঙ্ঘন। এমন প্রার্থী মনোনয়ন পেলে শহীদ জিয়াউর রহমানের স্বপ্নের বাংলাদেশ অধরাই থেকে যাবে।

আমি একজন শতভাগ স্বচ্ছ রাজনীতিবিদ হিসেবে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি—মনোনয়ন পেলে প্রথমবারের মতো এই আসনটি বিএনপিকে উপহার দেব। একইসঙ্গে দেশ ও জাতির ভাগ্য পরিবর্তনে জননেতা তারেক রহমানের নেতৃত্বে নিজের সততা, মেধা, দক্ষতা এবং দেশ-বিদেশের অভিজ্ঞতা দেশের জন্য কাজে লাগাব ইনশাআল্লাহ।

দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশী স্টাফ রিপোর্টার প্রশ্ন করেন, নির্বাচিত হলে, আপনি জনগণের জন্য কী করবেন?

ড. শাহাবুদ্দিন বলেন—
“জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে আমার মূল লক্ষ্য হবে জাতীয় পর্যায়ে ১০ দফা কর্মপরিকল্পনা এবং স্থানীয় পর্যায়ে ১০ দফা কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন। এর প্রধান দিকগুলো হলোঃ

জাতীয় পর্যায়ের প্রতিশ্রুতি

১. আইন প্রণয়ন: জাতীয় স্বার্থ ও জনগণের অধিকার সংরক্ষণে নতুন আইন প্রণয়ন ও বিদ্যমান আইন সংশোধন।
২. বাজেট অনুমোদন: সরকারি আয়-ব্যয় পরিকল্পনার স্বচ্ছতা নিশ্চিত ও সংশোধনের সুপারিশ।
৩. স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা: সরকারি কার্যক্রমে শতভাগ অপচয় ও দুর্নীতি রোধ।
৪. পররাষ্ট্রনীতি: স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ন্যায়ভিত্তিক আন্তর্জাতিক সম্পর্ক; আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধি; প্রবাসী শ্রমিকদের জন্য ব্যয় কমিয়ে দক্ষ মানবসম্পদ রপ্তানি।
৫. সংসদীয় স্থায়ী কমিটি: মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম, প্রকল্প ও বাজেট তদারকি করে জনগণের স্বার্থ নিশ্চিতকরণ।
৬. কর্মসংস্থান সৃষ্টি: শিল্প-কারখানা, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ, কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও বিদেশি বিনিয়োগের মাধ্যমে বেকারত্ব দূরীকরণ।
৭. শিক্ষা ও গবেষণা উন্নয়ন: বাজেট বৃদ্ধি, প্রাথমিক ও মাদ্রাসা শিক্ষার মানোন্নয়ন, কারিগরি শিক্ষা প্রসার, গবেষণা খাতে বিনিয়োগ এবং ব্রেইন ড্রেইন রোধ।
৮. কৃষির উন্নয়ন: আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, গুদাম ও কোল্ড স্টোরেজ স্থাপন, সহজ শর্তে ঋণ ও ভর্তুকি প্রদান।
৯. নারী ও শিশু অধিকার: নিরাপত্তা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পুষ্টি নিশ্চিত করা।
১০. পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা: বৃক্ষরোপণ, পরিবেশবান্ধব প্রকল্প ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় কার্যকর উদ্যোগ।

স্থানীয় পর্যায়ের প্রতিশ্রুতি (ফরিদপুর-১ কেন্দ্রিক)

১. সাক্ষরতার হার শতভাগে উন্নীত করা।
২. স্কুল ড্রপআউট শূন্যে নামিয়ে আনা।
৩. প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে আরলি লার্নিং সেন্টার স্থাপন।
৪. তিন উপজেলায় আরও তিনটি কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন।
৫. যুগোপযোগী কওমি মাদ্রাসা সিলেবাস প্রণয়ন ও একটি ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন।
৬. প্রবাসী প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তোলা, যেখানে দুই লক্ষ টাকার মধ্যে বিদেশগামী শ্রমিকরা প্রশিক্ষিত হয়ে প্রবাসে যেতে পারবে।
৭. নারী শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ও বন্ধুত্বপূর্ণ শিক্ষা পরিবেশ নিশ্চিত করা।
৮. অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তি ও সুদমুক্ত ঋণ প্রদান।
৯. একটি ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা।
১০. প্রতিটি উপজেলায় একটি করে বিশ্বমানের লাইব্রেরি স্থাপন।

বিজ্ঞানী থেকে রাজনীতিবিদ

উল্লেখ্য, ড. শাহাবুদ্দিন আহমেদ বিগত চার বছর ধরে একজন শক্তি ও পরিবেশ বিজ্ঞানী হিসেবে বিশ্বের শীর্ষ ২% বিজ্ঞানীর তালিকায় রয়েছেন। তিনি অস্ট্রেলিয়া ও সিঙ্গাপুরের মতো বিখ্যাত দেশগুলোর স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে কাজ করেছেন। পাশাপাশি তিনি জাতীয়তাবাদী রাজনীতির সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত।

রাজনীতির মাঠে বিজ্ঞানী: ফরিদপুর-১ আসনে ড. শাহাবুদ্দিনকে নিয়ে তোলপাড়

আপডেট সময় : ০৮:৪৭:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ফরিদপুর-১ (বোয়ালমারী-মধুখালী-আলফাডাঙ্গা) আসনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে মাঠে নেমেছেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বিজ্ঞানী ড. শাহাবুদ্দিন আহমেদ। জনগণের কাছে দলের ৩১ দফা কর্মসূচি তুলে ধরার পাশাপাশি তিনি নিজের একটি বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনাও ঘোষণা করেছেন।এপেক্ষিতে ফরিদপুর ১ আসনে ড. শাহাবুদ্দিনকে নিয়ে জনগণের ব্যাপক আগ্রহ উদ্দীপনা ও তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশের সঙ্গে এক আলাপচারিতায় তিনি বলেন, কেন জনগণ তাকে ভোট দেবে এবং নির্বাচিত হলে কী করবেন, তা পরিষ্কারভাবে জানিয়েছেন।

দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশী স্টাফ রিপোর্টার প্রশ্ন করেন, আপনাকে জনগণ কেন ভোট দেবে?

জবাবে ড. শাহাবুদ্দিন বলেন—
“এলাকার মানুষ বিএনপি’র পক্ষ থেকে একজন যোগ্য প্রার্থী চায়। আমার বিশ্বাস, সেই যোগ্যতার মাপকাঠি হওয়া উচিত তিনটি বিষয়ঃ
১) শিক্ষাগত যোগ্যতা
২) সততা ও জবাবদিহিতা
৩) দেশ, দল ও জনগণের প্রতি কমিটমেন্ট।

এই মানদণ্ডে আমি অন্যদের তুলনায় অনেক এগিয়ে আছি। ৫ আগস্টের পর মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে অনেকেই আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের পুনর্বাসন করেছে এবং তাদের অবৈধ অর্থে সমৃদ্ধ হয়েছে, যা দলের হাই কমান্ডের সুস্পষ্ট নির্দেশনার লঙ্ঘন। এমন প্রার্থী মনোনয়ন পেলে শহীদ জিয়াউর রহমানের স্বপ্নের বাংলাদেশ অধরাই থেকে যাবে।

আমি একজন শতভাগ স্বচ্ছ রাজনীতিবিদ হিসেবে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি—মনোনয়ন পেলে প্রথমবারের মতো এই আসনটি বিএনপিকে উপহার দেব। একইসঙ্গে দেশ ও জাতির ভাগ্য পরিবর্তনে জননেতা তারেক রহমানের নেতৃত্বে নিজের সততা, মেধা, দক্ষতা এবং দেশ-বিদেশের অভিজ্ঞতা দেশের জন্য কাজে লাগাব ইনশাআল্লাহ।

দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশী স্টাফ রিপোর্টার প্রশ্ন করেন, নির্বাচিত হলে, আপনি জনগণের জন্য কী করবেন?

ড. শাহাবুদ্দিন বলেন—
“জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে আমার মূল লক্ষ্য হবে জাতীয় পর্যায়ে ১০ দফা কর্মপরিকল্পনা এবং স্থানীয় পর্যায়ে ১০ দফা কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন। এর প্রধান দিকগুলো হলোঃ

জাতীয় পর্যায়ের প্রতিশ্রুতি

১. আইন প্রণয়ন: জাতীয় স্বার্থ ও জনগণের অধিকার সংরক্ষণে নতুন আইন প্রণয়ন ও বিদ্যমান আইন সংশোধন।
২. বাজেট অনুমোদন: সরকারি আয়-ব্যয় পরিকল্পনার স্বচ্ছতা নিশ্চিত ও সংশোধনের সুপারিশ।
৩. স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা: সরকারি কার্যক্রমে শতভাগ অপচয় ও দুর্নীতি রোধ।
৪. পররাষ্ট্রনীতি: স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ন্যায়ভিত্তিক আন্তর্জাতিক সম্পর্ক; আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধি; প্রবাসী শ্রমিকদের জন্য ব্যয় কমিয়ে দক্ষ মানবসম্পদ রপ্তানি।
৫. সংসদীয় স্থায়ী কমিটি: মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম, প্রকল্প ও বাজেট তদারকি করে জনগণের স্বার্থ নিশ্চিতকরণ।
৬. কর্মসংস্থান সৃষ্টি: শিল্প-কারখানা, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ, কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও বিদেশি বিনিয়োগের মাধ্যমে বেকারত্ব দূরীকরণ।
৭. শিক্ষা ও গবেষণা উন্নয়ন: বাজেট বৃদ্ধি, প্রাথমিক ও মাদ্রাসা শিক্ষার মানোন্নয়ন, কারিগরি শিক্ষা প্রসার, গবেষণা খাতে বিনিয়োগ এবং ব্রেইন ড্রেইন রোধ।
৮. কৃষির উন্নয়ন: আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, গুদাম ও কোল্ড স্টোরেজ স্থাপন, সহজ শর্তে ঋণ ও ভর্তুকি প্রদান।
৯. নারী ও শিশু অধিকার: নিরাপত্তা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পুষ্টি নিশ্চিত করা।
১০. পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা: বৃক্ষরোপণ, পরিবেশবান্ধব প্রকল্প ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় কার্যকর উদ্যোগ।

স্থানীয় পর্যায়ের প্রতিশ্রুতি (ফরিদপুর-১ কেন্দ্রিক)

১. সাক্ষরতার হার শতভাগে উন্নীত করা।
২. স্কুল ড্রপআউট শূন্যে নামিয়ে আনা।
৩. প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে আরলি লার্নিং সেন্টার স্থাপন।
৪. তিন উপজেলায় আরও তিনটি কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন।
৫. যুগোপযোগী কওমি মাদ্রাসা সিলেবাস প্রণয়ন ও একটি ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন।
৬. প্রবাসী প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তোলা, যেখানে দুই লক্ষ টাকার মধ্যে বিদেশগামী শ্রমিকরা প্রশিক্ষিত হয়ে প্রবাসে যেতে পারবে।
৭. নারী শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ও বন্ধুত্বপূর্ণ শিক্ষা পরিবেশ নিশ্চিত করা।
৮. অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তি ও সুদমুক্ত ঋণ প্রদান।
৯. একটি ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা।
১০. প্রতিটি উপজেলায় একটি করে বিশ্বমানের লাইব্রেরি স্থাপন।

বিজ্ঞানী থেকে রাজনীতিবিদ

উল্লেখ্য, ড. শাহাবুদ্দিন আহমেদ বিগত চার বছর ধরে একজন শক্তি ও পরিবেশ বিজ্ঞানী হিসেবে বিশ্বের শীর্ষ ২% বিজ্ঞানীর তালিকায় রয়েছেন। তিনি অস্ট্রেলিয়া ও সিঙ্গাপুরের মতো বিখ্যাত দেশগুলোর স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে কাজ করেছেন। পাশাপাশি তিনি জাতীয়তাবাদী রাজনীতির সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত।