ফরিদপুরে পাখিদের খাবার নিয়ে ফের জেলা পরিষদ চত্বরে গেলেন আজাদ
- আপডেট সময় : ০৭:৩৯:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৫
- / 465
ফরিদপুর জেলা পরিষদের খোলা চত্বরে পাখিদের খাবার দেওয়া নিয়ে তৈরি হওয়া একটি ভুল বোঝাবুঝির অবসান হয়েছে। একজন সমাজসেবীকে পাখিদের খাবার দিতে নিষেধ করা হয়েছে, এমন অভিযোগ ওঠার পর অনলাইন জগতে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। তবে পরে জানা যায়, এটি একটি ভুল বোঝাবুঝি ছিল এবং জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে তাকে আবারও তার ভালো কাজটি চালিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।
পাখিপ্রীতি থেকে ভুল বোঝাবুঝি
দীর্ঘদিন ধরে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করে আসা আলীম আল রাজি আজাদ নামের এক যুবক ফরিদপুর জেলা পরিষদের চত্বরে নিয়মিতভাবে পাখিদের খাবার দিতেন। বিকেলের দিকে পুরি, সিঙ্গারা, বিস্কুটের গুঁড়ো, চানাচুরসহ বিভিন্ন ধরনের খাবার পেয়ে কাক ও শালিকের দল মনের আনন্দে ভিড় জমাতো।
গত মঙ্গলবার আজাদ যখন পাখিদের খাবার দিচ্ছিলেন, তখন জেলা পরিষদের একজন স্টাফ তাকে সেখানে এভাবে খাবার দিতে নিষেধ করেন। কারণ জানতে চাইলে তিনি জানান, “সচিব স্যার নিষেধ করেছেন।” এতে মর্মাহত হয়ে আজাদ পাখিদের জন্য সেখানে আর খাবার নিয়ে যাননি এবং বিষয়টি নিয়ে ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন। তার এই পোস্টে নেটিজেনদের মাঝে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।
প্রশাসনের ব্যাখ্যা ও সমাধান
বিষয়টি জানার পর জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো: বাকাইদ হোসেন ভুল বোঝাবুঝির বিষয়টি স্পষ্ট করেন। তিনি বলেন, পাখিদের খাবার দিতে নিষেধ করা হয়নি, বরং প্রসেসিং করা খাবার যেমন চানাচুর না দেওয়ার জন্য পিয়নকে বলতে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু পিয়ন হয়তো বার্তাটি সঠিকভাবে বোঝাতে পারেননি, ফলে এই ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়েছে।
আরেক সমাজকর্মী আবরার নাদিম ইতু একটি ফেসবুক পোস্টে বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান যে, আজাদ ভাই আবারও পাখিদের খাওয়ানো শুরু করেছেন। তিনি প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনার একটি ছবিও শেয়ার করেন। প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, “আমি নিজেও পাখিদের খাবার দিতে পছন্দ করি। আমরা তাকে প্রতিদিনের মতোই পাখিগুলোকে খাবার দেওয়ার কার্যক্রম চালু রাখার অনুরোধ জানিয়েছি। ভুল বোঝাবুঝির কারণে যেনো এমন কোনো ভালো কাজ থেমে না যায়।”
সমাজকর্মী আজাদকে নিয়ে যত কথা
আলীম আল রাজি আজাদ কেবল পাখিদের খাবার দিয়েই পরিচিত নন। তিনি নিজস্ব ভেসপা মোটরযান নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে শহরের দুঃস্থদের মাঝে খাবার বিতরণ করছেন। করোনাকালে গৃহবন্দী মানুষের কাছে চাল, ডাল, তেল পৌঁছে দিয়ে তিনি বিশেষ নজির স্থাপন করেন। শহরের বিভিন্ন স্থানের ভিক্ষুক ও পাগলদের জন্য নিয়মিত রান্না করা খাবার বিতরণসহ তার নানান মানবিক কর্মকাণ্ডের জন্য তিনি পত্রপত্রিকায় অনেক প্রশংসিত হয়েছেন।





















