ঢাকা ০৪:৩০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শোক ও অশ্রু নিয়ে সমাহিত হলেন ফরিদপুরের জামাতের যুব বিভাগের পৌর সভাপতি

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ০৬:০৯:৪০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৫
  • / 598

মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ফরিদপুর জেলার এজিপি (অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি) ও ল রিপোর্টার্স ফোরামের সদস্য অ্যাডভোকেট মোসাদ্দেক আহমেদ বশিরের দাফন আজ সম্পন্ন হয়েছে। সোমবার (২৭ অক্টোবর) দুই দফা জানাজা শেষে তাঁকে শহরের আলীপুর কবরস্থানে সমাহিত করা হয়। এ সময় তাঁর সহকর্মী, বন্ধু-বান্ধব ও দলীয় নেতাসহ সর্বস্তরের মানুষ কান্নায় ভেঙে পড়েন।

গতকাল রোববার সন্ধ্যায় ফরিদপুর-খুলনা মহাসড়কের বদরপুর (মন্ত্রীর বাড়ির কাছে) এলাকায় কাভার্ডভ্যানের ধাক্কায় তিনি নিহত হন।

জানাজায় শোকার্ত মানুষের ঢল

নিহত এই আইনজীবীর প্রথম জানাজা সকাল সাড়ে ১০টায় ফরিদপুর জেলা আইনজীবী সমিতি প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়। আইনজীবীদের পাশাপাশি বশিরের বন্ধু-বান্ধব, দলীয় নেতাকর্মীসহ সহস্রাধিক মানুষ এতে অংশ নেন। তাঁর মরদেহ আসার পর জানাজায় অংশ নেওয়া মানুষ শোকে ও কান্নায় ভেঙে পড়েন।

জানাজার আগে বক্তব্য দেন ফরিদপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি, ফরিদপুরের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এবং ফরিদপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীরসহ অনেকে। তাঁরা প্রয়াত বশিরের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে উপস্থিত সবার কাছে দোয়া চান।

এরপর মমিনখার হাট বাজার জামে মসজিদ সংলগ্ন মাধবদীয়া ময়েজ উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তাঁর দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানেও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, আইনজীবীসহ সহস্রাধিক মানুষ অংশ নেন।

জনপ্রিয়তা ও কর্মজীবন

অ্যাডভোকেট বশির অল্প দিনেই ফরিদপুরে একজন জনপ্রিয় ও সজ্জন আইনজীবী হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। তাঁর জনপ্রিয়তার মূল কারণগুলো আইনজীবীরা তুলে ধরেন:

মানবিকতা: আইনজীবীরা জানান, বশির কখনও মামলার জন্য নির্দিষ্ট ফি চাইতেন না। ভুক্তভোগী যা দিতেন, তাই তিনি খুশি মনে গ্রহণ করতেন এবং যা আয় করতেন, তার অধিকাংশই অকাতরে গরিবদের জন্য খরচ করতেন।

সালিশে বিশ্বাসী: তিনি বেশিরভাগ সময় মামলা না করে উভয়পক্ষকে ডেকে সালিশের মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করতেন।

কর্মক্ষেত্র: তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করার সময় সাংবাদিকতায় যুক্ত হন এবং পরে ঢাকায় সাংবাদিকতা শুরু করেন। পরবর্তীতে ফরিদপুরে ফিরে তিনি আইনপেশায় যুক্ত হন এবং আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সরকারি আইন কর্মকর্তা (এজিপি) হিসেবে নিয়োগ পান।

দুর্ঘটনার বিবরণ ও পারিবারিক শোক

ঘটনার সময় মোসাদ্দেক বশির জামায়াতে ইসলামীর ফরিদপুর পৌরশাখার যুব বিভাগের সভাপতি হিসেবে কানাইপুরে একটি দলীয় অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তাঁর সহকারী আইনজীবী মজিবরকে সঙ্গে নিয়ে মোটরসাইকেলে শহরে ফিরছিলেন।

বশিরের সঙ্গে থাকা সহকারী আইনজীবী মজিবর জানান, তাঁরা রাস্তার বামপাশে ছিলেন। একটি কাভার্ডভ্যান হঠাৎ পাস কাটাতে গিয়ে পেছন থেকে ধাক্কা দিলে তাঁরা বাম দিকে ছিটকে পড়েন। মজিবরের হাতে-পায়ে আঘাত লাগলেও বশির স্যার মাথায় আঘাত পান এবং ঘটনাস্থলেই তাঁর নাক, কান ও মুখ দিয়ে রক্ত বেরিয়ে আসে। স্থানীয়রা তাঁদের উদ্ধার করে ফরিদপুরের ৫০০ শয্যা হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মোসাদ্দেক বশিরকে মৃত ঘোষণা করেন।

মৃত্যুকালে তিনি তাঁর স্ত্রী এবং তিনটি ছোট মেয়ে রেখে গেছেন। তাঁর বড় মেয়ের বয়স মাত্র সাড়ে ৬ বছর, মেঝো মেয়ের ২ বছর এবং ছোট মেয়ের বয়স ৬ মাস। তাঁর বাবা-মা, ভাই-বোনসহ পুরো পরিবারে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

শোক ও অশ্রু নিয়ে সমাহিত হলেন ফরিদপুরের জামাতের যুব বিভাগের পৌর সভাপতি

আপডেট সময় : ০৬:০৯:৪০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৫

মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ফরিদপুর জেলার এজিপি (অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি) ও ল রিপোর্টার্স ফোরামের সদস্য অ্যাডভোকেট মোসাদ্দেক আহমেদ বশিরের দাফন আজ সম্পন্ন হয়েছে। সোমবার (২৭ অক্টোবর) দুই দফা জানাজা শেষে তাঁকে শহরের আলীপুর কবরস্থানে সমাহিত করা হয়। এ সময় তাঁর সহকর্মী, বন্ধু-বান্ধব ও দলীয় নেতাসহ সর্বস্তরের মানুষ কান্নায় ভেঙে পড়েন।

গতকাল রোববার সন্ধ্যায় ফরিদপুর-খুলনা মহাসড়কের বদরপুর (মন্ত্রীর বাড়ির কাছে) এলাকায় কাভার্ডভ্যানের ধাক্কায় তিনি নিহত হন।

জানাজায় শোকার্ত মানুষের ঢল

নিহত এই আইনজীবীর প্রথম জানাজা সকাল সাড়ে ১০টায় ফরিদপুর জেলা আইনজীবী সমিতি প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়। আইনজীবীদের পাশাপাশি বশিরের বন্ধু-বান্ধব, দলীয় নেতাকর্মীসহ সহস্রাধিক মানুষ এতে অংশ নেন। তাঁর মরদেহ আসার পর জানাজায় অংশ নেওয়া মানুষ শোকে ও কান্নায় ভেঙে পড়েন।

জানাজার আগে বক্তব্য দেন ফরিদপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি, ফরিদপুরের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এবং ফরিদপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীরসহ অনেকে। তাঁরা প্রয়াত বশিরের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে উপস্থিত সবার কাছে দোয়া চান।

এরপর মমিনখার হাট বাজার জামে মসজিদ সংলগ্ন মাধবদীয়া ময়েজ উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তাঁর দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানেও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, আইনজীবীসহ সহস্রাধিক মানুষ অংশ নেন।

জনপ্রিয়তা ও কর্মজীবন

অ্যাডভোকেট বশির অল্প দিনেই ফরিদপুরে একজন জনপ্রিয় ও সজ্জন আইনজীবী হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। তাঁর জনপ্রিয়তার মূল কারণগুলো আইনজীবীরা তুলে ধরেন:

মানবিকতা: আইনজীবীরা জানান, বশির কখনও মামলার জন্য নির্দিষ্ট ফি চাইতেন না। ভুক্তভোগী যা দিতেন, তাই তিনি খুশি মনে গ্রহণ করতেন এবং যা আয় করতেন, তার অধিকাংশই অকাতরে গরিবদের জন্য খরচ করতেন।

সালিশে বিশ্বাসী: তিনি বেশিরভাগ সময় মামলা না করে উভয়পক্ষকে ডেকে সালিশের মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করতেন।

কর্মক্ষেত্র: তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করার সময় সাংবাদিকতায় যুক্ত হন এবং পরে ঢাকায় সাংবাদিকতা শুরু করেন। পরবর্তীতে ফরিদপুরে ফিরে তিনি আইনপেশায় যুক্ত হন এবং আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সরকারি আইন কর্মকর্তা (এজিপি) হিসেবে নিয়োগ পান।

দুর্ঘটনার বিবরণ ও পারিবারিক শোক

ঘটনার সময় মোসাদ্দেক বশির জামায়াতে ইসলামীর ফরিদপুর পৌরশাখার যুব বিভাগের সভাপতি হিসেবে কানাইপুরে একটি দলীয় অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তাঁর সহকারী আইনজীবী মজিবরকে সঙ্গে নিয়ে মোটরসাইকেলে শহরে ফিরছিলেন।

বশিরের সঙ্গে থাকা সহকারী আইনজীবী মজিবর জানান, তাঁরা রাস্তার বামপাশে ছিলেন। একটি কাভার্ডভ্যান হঠাৎ পাস কাটাতে গিয়ে পেছন থেকে ধাক্কা দিলে তাঁরা বাম দিকে ছিটকে পড়েন। মজিবরের হাতে-পায়ে আঘাত লাগলেও বশির স্যার মাথায় আঘাত পান এবং ঘটনাস্থলেই তাঁর নাক, কান ও মুখ দিয়ে রক্ত বেরিয়ে আসে। স্থানীয়রা তাঁদের উদ্ধার করে ফরিদপুরের ৫০০ শয্যা হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মোসাদ্দেক বশিরকে মৃত ঘোষণা করেন।

মৃত্যুকালে তিনি তাঁর স্ত্রী এবং তিনটি ছোট মেয়ে রেখে গেছেন। তাঁর বড় মেয়ের বয়স মাত্র সাড়ে ৬ বছর, মেঝো মেয়ের ২ বছর এবং ছোট মেয়ের বয়স ৬ মাস। তাঁর বাবা-মা, ভাই-বোনসহ পুরো পরিবারে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।