ঢাকা ০৩:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মহিলা দল নেত্রীর অত্যাচারে অতিষ্ঠ বিএনপি’র নেতাসহ শত ভুক্তভোগী

দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ১২:৩৮:৩৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ নভেম্বর ২০২৫
  • / 462

গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলা মহিলা দলের এক নেত্রীর বিরুদ্ধে হয়রানি, মিথ্যা মামলায় জড়ানো এবং মামলার ভয় দেখিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত নেত্রীর অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে স্থানীয় বিএনপিসহ শতাধিক ভুক্তভোগী তাঁর বিরুদ্ধে জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন।

অভিযুক্ত ওই নেত্রী হলেন কাশিয়ানী উপজেলা মহিলা দলের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক লাইজু বেগম। তিনি ফুকরা গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য শওকত হোসেন সরদারের মেয়ে।

অভিযোগের ফিরিস্তি: দলীয় পদ ব্যবহার করে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া

লিখিত অভিযোগ এবং ভুক্তভোগীদের সূত্রে জানা গেছে, লাইজু বেগম দলীয় পদের প্রভাব খাটিয়ে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করেছেন।

একাধিক বিয়ে ও প্রতারণা: লাইজু বেগমের বিরুদ্ধে একাধিক বিয়ের তথ্য গোপন করে বিভিন্ন ব্যক্তিকে ফাঁদে ফেলে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

মিথ্যা মামলা: দলের নাম ভাঙিয়ে লোকজনকে মিথ্যা মামলায় জড়ানো এবং পরবর্তীতে আপস-মীমাংসার নামে অর্থ হাতিয়ে নেওয়াকে তিনি যেন পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন।

অতিষ্ঠ ইউনিয়নবাসী: তাঁর এই কর্মকাণ্ডে গোটা ফুকরা ইউনিয়নবাসী এমনকি স্থানীয় বিএনপি নেতা-কর্মীরাও অতিষ্ঠ।

ভুক্তভোগীদের জবানবন্দি

ভুক্তভোগীরা লাইজু বেগমের হয়রানির ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেছেন:

বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা: স্থানীয় বিএনপি নেতা বদরুল আলম বলেন, গত ১০ অক্টোবর লাইজু বেগম তাঁর সাবেক স্বামী আপেল মাহমুদকে মারধর করতে চাইলে তিনি বাধা দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে লাইজু তাঁর বিরুদ্ধে থানায় ছিনতাইয়ের অভিযোগ এবং পরবর্তীতে আদালতে তাঁর (বদরুল) সহ তিনজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। বদরুল আলম অভিযোগ করেন, লাইজু এভাবেই মিথ্যা মামলা-অভিযোগ করে টাকার বিনিময়ে আপস করেন।

ভ্যান চালকের হয়রানি: ভ্যান চালক চঞ্চল মোল্যা বলেন, ওয়ারড্রব বহন নিয়ে রাজি না হওয়ায় লাইজু তাঁর কাছে ৪ হাজার টাকা দাবি করেন এবং ‘গায়ে হাত দেওয়ার’ মিথ্যা অভিযোগ তুলে র‍্যাব-পুলিশের ভয় দেখান। মান-ইজ্জতের ভয়ে তিনি ২ হাজার টাকা দিয়ে রেহাই পান।

মোটরসাইকেল ও চাবি কেড়ে নেওয়া: ধলগ্রামের বাসিন্দা সাজ্জাদুল ইসলাম রানা বলেন, লাইজু তাঁকে বাজারে ডেকে নিয়ে তাঁর ওপর চড়াও হন এবং মোটরসাইকেলের চাবি কেড়ে নেন। মামলার ভয় দেখিয়ে টাকা-পয়সা হাতিয়ে নেওয়াই তাঁর উদ্দেশ্য।

মোটা অংকের টাকা দাবি: মিথ্যা ধর্ষণ মামলার শিকার লিটন সরদার নামে এক যুবক জানান, লাইজু এখন মামলা প্রত্যাহারের জন্য লোক মারফত মোটা অংকের টাকা দাবি করছেন।

ফুকরা বাজারের কম্পিউটার ব্যবসায়ী শাহ আলম অভিযোগ করেন, “লোকজনকে বিপদে ফেলে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া তার নেশায় পরিণত হয়েছে। তবে আমার ধারণা সে মানসিকভাবে অসুস্থ।”

সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস

এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত লাইজু বেগমের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ না করায় তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

কাশিয়ানী উপজেলা মহিলা দলের সভাপতি শিলা বেগম বলেন, “আমি একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে তাঁর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

মহিলা দল নেত্রীর অত্যাচারে অতিষ্ঠ বিএনপি’র নেতাসহ শত ভুক্তভোগী

আপডেট সময় : ১২:৩৮:৩৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ নভেম্বর ২০২৫

গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলা মহিলা দলের এক নেত্রীর বিরুদ্ধে হয়রানি, মিথ্যা মামলায় জড়ানো এবং মামলার ভয় দেখিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত নেত্রীর অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে স্থানীয় বিএনপিসহ শতাধিক ভুক্তভোগী তাঁর বিরুদ্ধে জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন।

অভিযুক্ত ওই নেত্রী হলেন কাশিয়ানী উপজেলা মহিলা দলের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক লাইজু বেগম। তিনি ফুকরা গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য শওকত হোসেন সরদারের মেয়ে।

অভিযোগের ফিরিস্তি: দলীয় পদ ব্যবহার করে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া

লিখিত অভিযোগ এবং ভুক্তভোগীদের সূত্রে জানা গেছে, লাইজু বেগম দলীয় পদের প্রভাব খাটিয়ে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করেছেন।

একাধিক বিয়ে ও প্রতারণা: লাইজু বেগমের বিরুদ্ধে একাধিক বিয়ের তথ্য গোপন করে বিভিন্ন ব্যক্তিকে ফাঁদে ফেলে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

মিথ্যা মামলা: দলের নাম ভাঙিয়ে লোকজনকে মিথ্যা মামলায় জড়ানো এবং পরবর্তীতে আপস-মীমাংসার নামে অর্থ হাতিয়ে নেওয়াকে তিনি যেন পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন।

অতিষ্ঠ ইউনিয়নবাসী: তাঁর এই কর্মকাণ্ডে গোটা ফুকরা ইউনিয়নবাসী এমনকি স্থানীয় বিএনপি নেতা-কর্মীরাও অতিষ্ঠ।

ভুক্তভোগীদের জবানবন্দি

ভুক্তভোগীরা লাইজু বেগমের হয়রানির ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেছেন:

বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা: স্থানীয় বিএনপি নেতা বদরুল আলম বলেন, গত ১০ অক্টোবর লাইজু বেগম তাঁর সাবেক স্বামী আপেল মাহমুদকে মারধর করতে চাইলে তিনি বাধা দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে লাইজু তাঁর বিরুদ্ধে থানায় ছিনতাইয়ের অভিযোগ এবং পরবর্তীতে আদালতে তাঁর (বদরুল) সহ তিনজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। বদরুল আলম অভিযোগ করেন, লাইজু এভাবেই মিথ্যা মামলা-অভিযোগ করে টাকার বিনিময়ে আপস করেন।

ভ্যান চালকের হয়রানি: ভ্যান চালক চঞ্চল মোল্যা বলেন, ওয়ারড্রব বহন নিয়ে রাজি না হওয়ায় লাইজু তাঁর কাছে ৪ হাজার টাকা দাবি করেন এবং ‘গায়ে হাত দেওয়ার’ মিথ্যা অভিযোগ তুলে র‍্যাব-পুলিশের ভয় দেখান। মান-ইজ্জতের ভয়ে তিনি ২ হাজার টাকা দিয়ে রেহাই পান।

মোটরসাইকেল ও চাবি কেড়ে নেওয়া: ধলগ্রামের বাসিন্দা সাজ্জাদুল ইসলাম রানা বলেন, লাইজু তাঁকে বাজারে ডেকে নিয়ে তাঁর ওপর চড়াও হন এবং মোটরসাইকেলের চাবি কেড়ে নেন। মামলার ভয় দেখিয়ে টাকা-পয়সা হাতিয়ে নেওয়াই তাঁর উদ্দেশ্য।

মোটা অংকের টাকা দাবি: মিথ্যা ধর্ষণ মামলার শিকার লিটন সরদার নামে এক যুবক জানান, লাইজু এখন মামলা প্রত্যাহারের জন্য লোক মারফত মোটা অংকের টাকা দাবি করছেন।

ফুকরা বাজারের কম্পিউটার ব্যবসায়ী শাহ আলম অভিযোগ করেন, “লোকজনকে বিপদে ফেলে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া তার নেশায় পরিণত হয়েছে। তবে আমার ধারণা সে মানসিকভাবে অসুস্থ।”

সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস

এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত লাইজু বেগমের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ না করায় তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

কাশিয়ানী উপজেলা মহিলা দলের সভাপতি শিলা বেগম বলেন, “আমি একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে তাঁর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”