ঢাকা ০৪:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরিদপুর ছাত্রদল নেতার বহিষ্কারে তীব্র বিতর্ক, সিনিয়রদের দাবি: ‘পুনর্বিবেচনা হোক’

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ১১:৫৮:১৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ নভেম্বর ২০২৫
  • / 587

সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে ফরিদপুর জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক খাইরুল ইসলাম রোমানকে কেন্দ্রীয় কমিটি বহিষ্কার করার পর দলটির ভেতরে ও বাইরে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের পক্ষে-বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন সিনিয়র ও জুনিয়র নেতাকর্মীরা।

রোববার (১৬ নভেম্বর) সন্ধ্যায় ছাত্রদল নেতা রোমানের সহকর্মী ও সিনিয়ররা এই সিদ্ধান্তে দুঃখ প্রকাশ করে দলীয় সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জোর দাবি জানিয়েছেন।

বহিষ্কারাদেশ ও কারণ

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে খাইরুল ইসলাম রোমানের বহিষ্কারের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

অভিযোগ: রোমানের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে।

সিদ্ধান্ত: ছাত্রদল সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব এবং সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এই সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেন এবং নেতাকর্মীদের রোমানের সাথে সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশ দেন।

কারণ ফাঁস: জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আলী আশরাফ নান্নুর ফেসবুক পোস্ট থেকে জানা যায়, রোমান মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সম্পর্কে আপত্তিকর পোস্ট দিয়েছিলেন।

রোমানের মন্তব্য: এ বিষয়ে জানতে চাইলে খাইরুল ইসলাম রোমান কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

সিনিয়র নেতার আবেগঘন আবেদন

বহিষ্কারের সিদ্ধান্তে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আলী আশরাফ নান্নু ফেসবুকে আবেগঘন পোস্ট দিয়েছেন।

প্রশংসা: নান্নু লিখেছেন, “খাইরুল ইসলাম গর্ব করার মতন একজন সাহসী যোদ্ধা। নিঃসন্দেহে ছাত্রদল ওকে নিয়ে গর্ব করতে পারে। সে একজন মানবতাবাদী ছাত্রনেতা।”

ক্ষমার দাবি: তিনি কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন, “ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দ তো মহাসচিবের সন্তান সমতুল্য। সন্তানের এই ভুল পিতা তো অবশ্যই ক্ষমা করতে পারেন।” তিনি মহাসচিবের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি বিবেচনা করার জোর দাবি জানান।

সহযোদ্ধাদের সমর্থনে ঝড়: ‘ছাত্রদলে এদের দরকার আছে’

রোমানকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিয়ে তৃণমূলের অনেক নেতাকর্মী ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

স্বেচ্ছাসেবক ইমেজ: মধুখালী পৌর ছাত্রদলের সদস্য সচিব রেদোয়ান আবেদিন লিখেছেন, “অনেক নেতার নৈতিক স্খলন দেখেছি। কিন্তু রোমান ভাইকে সেই ছোট থেকে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে দেখে এসেছি… ছাত্রদলে এদের অবশ্যই, অবশ্যই এবং অবশ্যই দরকার আছে।”

গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন: মো: হানিফ শরীফ মন্তব্য করেছেন, “ছাত্রদল তাকে বহিষ্কারে যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তাতে সারা বাংলাদেশ ছাত্রদলের প্রতি মানুষের গ্রহণ যোগ্যতা কমবে।”

রোমানের ‘ত্যাগ ও সংগ্রামের গল্প’: ফেসবুক পোস্টে চ্যালেঞ্জ

বহিষ্কারের পরপরই খাইরুল ইসলাম রোমান “আমার দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা ও ত্যাগের গল্প” শিরোনামে ফেসবুকে একটি আবেগঘন পোস্ট দেন, যেখানে তিনি তাঁর রাজনৈতিক ক্যারিয়ার তুলে ধরেন এবং দলের প্রতি তাঁর আনুগত্যের চ্যালেঞ্জ জানান।

অসংখ্য মামলা ও কারাবরণ: তিনি ২০০৬ সালে রাজনৈতিক সূচনা থেকে শুরু করে ২০১২, ২০১৪, ২০১৮ এবং সর্বশেষ ২০২৩ সালে গ্রেফতার হওয়ার ঘটনা উল্লেখ করেন। তিনি জানান, পুলিশের লাঠিচার্জে তাঁর পায়ের লিগামেন্ট ছিঁড়ে যায় এবং রাইফেলের আঘাতে হাত ভেঙে যায়।

আনুগত্যের চ্যালেঞ্জ: রোমান দাবি করেন, তিনি কখনো ১% অসচ্চতা বা দলীয় ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নকারী কোনো কাজে নিজেকে সম্পৃক্ত করেননি। তিনি চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন: “৫ তারিখের পর পুলিশসহ দেশের কোনো গোয়েন্দা সংস্থা আমার নামে পাঁচ টাকারও অসচ্চতার প্রমাণ দেখাতে পারবে না।”

দৃঢ়তা: বহিষ্কারাদেশ সত্ত্বেও রোমান বলেন, “আমি বিন্দুমাত্র বিচলিত নই। দল আমাকে চিনবে, দল আমাকে খুঁজে নেবে—আমি এই বিশ্বাস রাখি।”

ফরিদপুর ছাত্রদল নেতার বহিষ্কারে তীব্র বিতর্ক, সিনিয়রদের দাবি: ‘পুনর্বিবেচনা হোক’

আপডেট সময় : ১১:৫৮:১৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ নভেম্বর ২০২৫

সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে ফরিদপুর জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক খাইরুল ইসলাম রোমানকে কেন্দ্রীয় কমিটি বহিষ্কার করার পর দলটির ভেতরে ও বাইরে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের পক্ষে-বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন সিনিয়র ও জুনিয়র নেতাকর্মীরা।

রোববার (১৬ নভেম্বর) সন্ধ্যায় ছাত্রদল নেতা রোমানের সহকর্মী ও সিনিয়ররা এই সিদ্ধান্তে দুঃখ প্রকাশ করে দলীয় সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জোর দাবি জানিয়েছেন।

বহিষ্কারাদেশ ও কারণ

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে খাইরুল ইসলাম রোমানের বহিষ্কারের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

অভিযোগ: রোমানের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে।

সিদ্ধান্ত: ছাত্রদল সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব এবং সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এই সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেন এবং নেতাকর্মীদের রোমানের সাথে সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশ দেন।

কারণ ফাঁস: জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আলী আশরাফ নান্নুর ফেসবুক পোস্ট থেকে জানা যায়, রোমান মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সম্পর্কে আপত্তিকর পোস্ট দিয়েছিলেন।

রোমানের মন্তব্য: এ বিষয়ে জানতে চাইলে খাইরুল ইসলাম রোমান কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

সিনিয়র নেতার আবেগঘন আবেদন

বহিষ্কারের সিদ্ধান্তে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আলী আশরাফ নান্নু ফেসবুকে আবেগঘন পোস্ট দিয়েছেন।

প্রশংসা: নান্নু লিখেছেন, “খাইরুল ইসলাম গর্ব করার মতন একজন সাহসী যোদ্ধা। নিঃসন্দেহে ছাত্রদল ওকে নিয়ে গর্ব করতে পারে। সে একজন মানবতাবাদী ছাত্রনেতা।”

ক্ষমার দাবি: তিনি কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন, “ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দ তো মহাসচিবের সন্তান সমতুল্য। সন্তানের এই ভুল পিতা তো অবশ্যই ক্ষমা করতে পারেন।” তিনি মহাসচিবের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি বিবেচনা করার জোর দাবি জানান।

সহযোদ্ধাদের সমর্থনে ঝড়: ‘ছাত্রদলে এদের দরকার আছে’

রোমানকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিয়ে তৃণমূলের অনেক নেতাকর্মী ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

স্বেচ্ছাসেবক ইমেজ: মধুখালী পৌর ছাত্রদলের সদস্য সচিব রেদোয়ান আবেদিন লিখেছেন, “অনেক নেতার নৈতিক স্খলন দেখেছি। কিন্তু রোমান ভাইকে সেই ছোট থেকে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে দেখে এসেছি… ছাত্রদলে এদের অবশ্যই, অবশ্যই এবং অবশ্যই দরকার আছে।”

গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন: মো: হানিফ শরীফ মন্তব্য করেছেন, “ছাত্রদল তাকে বহিষ্কারে যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তাতে সারা বাংলাদেশ ছাত্রদলের প্রতি মানুষের গ্রহণ যোগ্যতা কমবে।”

রোমানের ‘ত্যাগ ও সংগ্রামের গল্প’: ফেসবুক পোস্টে চ্যালেঞ্জ

বহিষ্কারের পরপরই খাইরুল ইসলাম রোমান “আমার দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা ও ত্যাগের গল্প” শিরোনামে ফেসবুকে একটি আবেগঘন পোস্ট দেন, যেখানে তিনি তাঁর রাজনৈতিক ক্যারিয়ার তুলে ধরেন এবং দলের প্রতি তাঁর আনুগত্যের চ্যালেঞ্জ জানান।

অসংখ্য মামলা ও কারাবরণ: তিনি ২০০৬ সালে রাজনৈতিক সূচনা থেকে শুরু করে ২০১২, ২০১৪, ২০১৮ এবং সর্বশেষ ২০২৩ সালে গ্রেফতার হওয়ার ঘটনা উল্লেখ করেন। তিনি জানান, পুলিশের লাঠিচার্জে তাঁর পায়ের লিগামেন্ট ছিঁড়ে যায় এবং রাইফেলের আঘাতে হাত ভেঙে যায়।

আনুগত্যের চ্যালেঞ্জ: রোমান দাবি করেন, তিনি কখনো ১% অসচ্চতা বা দলীয় ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নকারী কোনো কাজে নিজেকে সম্পৃক্ত করেননি। তিনি চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন: “৫ তারিখের পর পুলিশসহ দেশের কোনো গোয়েন্দা সংস্থা আমার নামে পাঁচ টাকারও অসচ্চতার প্রমাণ দেখাতে পারবে না।”

দৃঢ়তা: বহিষ্কারাদেশ সত্ত্বেও রোমান বলেন, “আমি বিন্দুমাত্র বিচলিত নই। দল আমাকে চিনবে, দল আমাকে খুঁজে নেবে—আমি এই বিশ্বাস রাখি।”