ঢাকা ১১:০৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরিদপুর: আ.লীগ দুর্গে হঠাৎ জামায়াতের উত্থান

মোঃ তারিকুল ইসলাম ফরিদপুর:
  • আপডেট সময় : ১০:২৬:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ নভেম্বর ২০২৫
  • / 590

দীর্ঘ বছর ধরে আওয়ামী লীগের শক্ত ভোটের গড় হিসেবে পরিচিত ফরিদপুর-১ আসনে (আলফাডাঙ্গা, বোয়ালমারী ও মধুখালি) রাজনৈতিক পরিস্থিতি দ্রুত বদলাচ্ছে। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর ক্ষমতাচ্যুত দলের কার্যক্রমে শূন্যতা তৈরি হওয়ায় এবার নিজেদের অবস্থান জোরালোভাবে জানান দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামি।

শনিবার (২২ নভেম্বর) সকালে আলফাডাঙ্গা উপজেলার কামারগ্রাম কাঞ্চন একাডেমির মাঠে জামায়াত মনোনীত এমপি প্রার্থী অধ্যাপক ড. ইলিয়াস মোল্যার নেতৃত্বে এক হাজারেরও বেশি মোটরসাইকেলের এক বর্ণাঢ্য শোডাউন শুরু হয়, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘Ride for Justice’ (ন্যায়বিচারের রাইড)।

শোডাউনের উদ্দেশ্য ও বার্তা

সকাল থেকেই মোটরসাইকেলের দীর্ঘ মিছিল দেখে স্থানীয় এলাকাবাসী উৎসুক হয়ে ওঠে। শোডাউনটি আলফাডাঙ্গা সদর বাজার হয়ে বোয়ালমারী পেরিয়ে মধুখালীর কামারখালীতে গিয়ে শেষ হবে।

এমপি প্রার্থীর ঘোষণা: উদ্বোধনী বক্তব্যে জামায়াত মনোনীত এমপি প্রার্থী অধ্যাপক ড. ইলিয়াস মোল্যা বলেন, “২০২৪ সালের বিপ্লবের পর দেশে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি হয়েছে। আমরা ক্ষমতায় এলে মাদক আমদানি বন্ধ করব, মাদকাসক্ত যুবকদের সরকারি খরচে চিকিৎসা দিয়ে সুস্থ সমাজে ফিরিয়ে আনব। ন্যায় ও শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ে তোলা আমাদের মূল লক্ষ্য।”

প্রচারণার কৌশল: জামায়াত নেতারা জানান, পথে বিভিন্ন স্থানে সংক্ষিপ্ত পথসভা আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।

পরিবর্তিত রাজনৈতিক দৃশ্যপট

ফরিদপুর-১ আসন ঐতিহ্যগতভাবে আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। ব্যতিক্রম ছিল কেবল ১৯৯৬ সালের নির্বাচন, যখন আওয়ামী লীগ অংশগ্রহণ না করায় বিএনপির প্রার্থী খন্দকার নাসিরুল ইসলাম মাত্র ৩,৯০০ ভোটে নির্বাচিত হন।

আ.লীগের শূন্যতা: গণঅভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগের কার্যক্রম সীমিত হওয়ায় মাঠে তৈরি হয়েছে এক ধরনের শূন্যতা।

জামায়াতের প্রথম একক লড়াই: এই আসনে এবারই প্রথম জামায়াতে ইসলামি এককভাবে প্রার্থী দিয়েছে এবং ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে সামনে রেখে মাঠে জোরালো কার্যক্রম চালাচ্ছে।

বিএনপির দ্বিধা: অন্যদিকে, বিএনপি একাধিক সম্ভাব্য প্রার্থী নিয়ে থাকলেও আনুষ্ঠানিক মনোনয়ন এখনও চূড়ান্ত করেনি।

 

জামায়াতের টার্গেট: নতুন ভোটার ও বিকল্পের সন্ধান

জামায়াতের স্থানীয় নেতারা মনে করছেন, অতীতে রাজনৈতিক হয়রানি ও দমনের শিকার হয়ে অনেক আওয়ামী লীগ সমর্থক এখন নতুন বিকল্প খুঁজছেন। সেই ভোটারদের টার্গেট করেই জামায়াত সক্রিয় প্রচারণায় নেমেছে।

নেতার প্রতিশ্রুতি: এক স্থানীয় নেতা বলেন, “সাধারণ মানুষ চাই নিরাপদ জীবন। আমরা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি—রাজনৈতিক হয়রানি ও দমন-নিপীড়ন বন্ধে কাজ করবো। এবার ভোটাররা নতুনভাবে বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে।”

ফরিদপুর: আ.লীগ দুর্গে হঠাৎ জামায়াতের উত্থান

আপডেট সময় : ১০:২৬:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ নভেম্বর ২০২৫

দীর্ঘ বছর ধরে আওয়ামী লীগের শক্ত ভোটের গড় হিসেবে পরিচিত ফরিদপুর-১ আসনে (আলফাডাঙ্গা, বোয়ালমারী ও মধুখালি) রাজনৈতিক পরিস্থিতি দ্রুত বদলাচ্ছে। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর ক্ষমতাচ্যুত দলের কার্যক্রমে শূন্যতা তৈরি হওয়ায় এবার নিজেদের অবস্থান জোরালোভাবে জানান দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামি।

শনিবার (২২ নভেম্বর) সকালে আলফাডাঙ্গা উপজেলার কামারগ্রাম কাঞ্চন একাডেমির মাঠে জামায়াত মনোনীত এমপি প্রার্থী অধ্যাপক ড. ইলিয়াস মোল্যার নেতৃত্বে এক হাজারেরও বেশি মোটরসাইকেলের এক বর্ণাঢ্য শোডাউন শুরু হয়, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘Ride for Justice’ (ন্যায়বিচারের রাইড)।

শোডাউনের উদ্দেশ্য ও বার্তা

সকাল থেকেই মোটরসাইকেলের দীর্ঘ মিছিল দেখে স্থানীয় এলাকাবাসী উৎসুক হয়ে ওঠে। শোডাউনটি আলফাডাঙ্গা সদর বাজার হয়ে বোয়ালমারী পেরিয়ে মধুখালীর কামারখালীতে গিয়ে শেষ হবে।

এমপি প্রার্থীর ঘোষণা: উদ্বোধনী বক্তব্যে জামায়াত মনোনীত এমপি প্রার্থী অধ্যাপক ড. ইলিয়াস মোল্যা বলেন, “২০২৪ সালের বিপ্লবের পর দেশে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি হয়েছে। আমরা ক্ষমতায় এলে মাদক আমদানি বন্ধ করব, মাদকাসক্ত যুবকদের সরকারি খরচে চিকিৎসা দিয়ে সুস্থ সমাজে ফিরিয়ে আনব। ন্যায় ও শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ে তোলা আমাদের মূল লক্ষ্য।”

প্রচারণার কৌশল: জামায়াত নেতারা জানান, পথে বিভিন্ন স্থানে সংক্ষিপ্ত পথসভা আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।

পরিবর্তিত রাজনৈতিক দৃশ্যপট

ফরিদপুর-১ আসন ঐতিহ্যগতভাবে আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। ব্যতিক্রম ছিল কেবল ১৯৯৬ সালের নির্বাচন, যখন আওয়ামী লীগ অংশগ্রহণ না করায় বিএনপির প্রার্থী খন্দকার নাসিরুল ইসলাম মাত্র ৩,৯০০ ভোটে নির্বাচিত হন।

আ.লীগের শূন্যতা: গণঅভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগের কার্যক্রম সীমিত হওয়ায় মাঠে তৈরি হয়েছে এক ধরনের শূন্যতা।

জামায়াতের প্রথম একক লড়াই: এই আসনে এবারই প্রথম জামায়াতে ইসলামি এককভাবে প্রার্থী দিয়েছে এবং ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে সামনে রেখে মাঠে জোরালো কার্যক্রম চালাচ্ছে।

বিএনপির দ্বিধা: অন্যদিকে, বিএনপি একাধিক সম্ভাব্য প্রার্থী নিয়ে থাকলেও আনুষ্ঠানিক মনোনয়ন এখনও চূড়ান্ত করেনি।

 

জামায়াতের টার্গেট: নতুন ভোটার ও বিকল্পের সন্ধান

জামায়াতের স্থানীয় নেতারা মনে করছেন, অতীতে রাজনৈতিক হয়রানি ও দমনের শিকার হয়ে অনেক আওয়ামী লীগ সমর্থক এখন নতুন বিকল্প খুঁজছেন। সেই ভোটারদের টার্গেট করেই জামায়াত সক্রিয় প্রচারণায় নেমেছে।

নেতার প্রতিশ্রুতি: এক স্থানীয় নেতা বলেন, “সাধারণ মানুষ চাই নিরাপদ জীবন। আমরা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি—রাজনৈতিক হয়রানি ও দমন-নিপীড়ন বন্ধে কাজ করবো। এবার ভোটাররা নতুনভাবে বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে।”