ফরিদপুর: ছাত্রলীগ নেতার স্ত্রীর আত্মহত্যা, নাকি হত্যা? রাতের আঁধারে দাফন
- আপডেট সময় : ০৮:১০:২৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ নভেম্বর ২০২৫
- / 1800
নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ নেতার পরকীয়ার জেরে তাঁর স্ত্রী আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি ধামাচাপা দিতে শ্বশুরবাড়ী ফরিদপুরের মধুখালীতে গভীর রাতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মৃতদেহের দাফন সম্পন্ন করা হয়। তবে এই ঘটনা আত্মহত্যা নাকি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড—তা নিয়ে এলাকায় চরম ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতার নাম মো. সুজন মোল্যা, যিনি ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার ঘোষপুর ইউনিয়নের আলগাপাড়া গ্রামের হারুণ অর রশিদের ছেলে এবং ঢাকা মহানগর (উত্তর) ছাত্রলীগের স্কুল ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন।
পরকীয়ার অভিযোগ ও আত্মহত্যার ঘটনা
ঢাকা ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সুজন মোল্যা স্ত্রী খাসনুর জাহান রিনথীকে নিয়ে দীর্ঘদিন ঢাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। সম্প্রতি এক আলোচিত ছাত্রলীগ নেত্রীর সঙ্গে স্বামীর পরকীয়ার কথা জানতে পারেন রিনথী।
পরকীয়ার শিকার: খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নিষিদ্ধ সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় যুব বিষয়ক সম্পাদক ও বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুননেছা হল ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি বেনজীর হোসেন নিশির সাথে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন সুজন মোল্যা। একই প্রতিষ্ঠানে নিশি চেয়ারম্যান ও সুজন মোল্যা এমডি পদে দায়িত্ব পালন করেছেন।
সন্দেহ ও কলহ: ৫ আগস্টের পর বিভিন্ন মামলায় পলাতক আসামি নিশিকে প্রায় ৯ মাস আগে সাতক্ষীরা জেলা পুলিশ গ্রেফতার করে। সুজন মোল্যা নিশিকে জামিনে ছাড়াতে উঠেপড়ে লাগলে স্ত্রী রিনথীর সন্দেহ হয় এবং তিনি পরকীয়ার বিষয়টি জানতে পারেন। এ নিয়ে দাম্পত্য কলহের সৃষ্টি হয়।
মৃত্যু: দাম্পত্য কলহের একপর্যায়ে গত বৃহস্পতিবার (২৬ নভেম্বর) রিনথী ঢাকার ভাড়া বাসায় ১৩ মাসের একটি দুগ্ধপোষ্য কন্যা শিশু রেখে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, রিনথীকে হত্যা করে আত্মহত্যা বলে চালানো হচ্ছে।
তড়িঘড়ি দাফন ও এলাকাবাসীর ক্ষোভ
স্থানীয় সূত্র জানায়, রিনথী ছিলেন সুজন মোল্যার মামাতো বোন। পরকীয়ার বিষয়টি নিয়ে উভয় পরিবার একাধিকবার সুজনকে সতর্ক করলেও তিনি সংশোধন হননি।
ময়নাতদন্ত ছাড়া দাফন: অভিযোগ উঠেছে, চতুর সুজন মোল্যা রিনথীর পরিবারকে ভুল বুঝিয়ে এবং অর্থনৈতিক সুবিধা দিয়ে তাদের কাছ থেকে অনাপত্তিপত্র সংগ্রহ করেন। এরপর ময়নাতদন্ত ছাড়াই রাতের আঁধারে তড়িঘড়ি করে মধুখালীর শ্বশুরালয়ে রিনথীর মৃতদেহ দাফন সম্পন্ন করে ঢাকায় ফিরে যান।
এলাকাবাসীর দাবি: এলাকাবাসী রিনথীর মৃত্যুর সঠিক কারণ উদ্ঘাটনসহ নানা অপকর্মের হোতা নিষিদ্ধ ঘোষিত এ ছাত্রলীগ নেতাকে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন।
অভিযুক্ত সুজন মোল্যার বক্তব্য
এ বিষয়ে মোবাইল ফোনে সুজন মোল্যার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করেন।
“আমার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। আমার ১৩ মাসের একটি সন্তান রয়েছে। স্ত্রীর আত্মহত্যার কারণে আমি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। তুচ্ছ ঘটনায় অভিমান করে আমার স্ত্রী শোবার ঘরের দরজা বন্ধ করে গলায় ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যা করে। আমার শ্বশুর বাড়ির কারও কোনো অভিযোগ না থাকায় মৃতদেহ পরিবারের ইচ্ছায় শ্বশুরবাড়িতে দাফন করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে লেখালেখি না করলে খুশি হবো।”
উল্লেখ্য, ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে আত্মগোপনে থেকে সুজন মোল্যা জুলাই বিপ্লব ও অন্তর্বর্তী সরকারের নানা কর্মকাণ্ডকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।





















