ফরিদপুরে কুমার নদী দখল করে ভবন নির্মাণের মহোৎসব
- আপডেট সময় : ০৭:১৪:৩২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫
- / 574
ফরিদপুরের এক সময়ের প্রমত্তা কুমার নদী এখন অস্তিত্ব সংকটে। জেলার বিভিন্ন উপজেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত এই নদীটি দখল ও ভরাটের কবলে পড়ে ক্রমেই সরু খালে পরিণত হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় জেলার সালথা উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের বড়দিয়া এলাকায় খোদ নদীর বুক দখল করে পাকা ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে।
সরেজমিন চিত্র:
বুধবার (৩১ ডিসেম্বর ২০২৫) দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, বড়দিয়া গ্রামের স্বরূপদিয়া-বড়দিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ঠিক সামনেই কুমার নদীর জায়গা দখল করে স্থায়ী পাকা স্থাপনা নির্মাণ করছেন স্থানীয় ধলা ফকিরের ছেলে জিয়া ফকির। সেখানে ১০-১২ জন শ্রমিককে নদীর বুকে বালু-সিমেন্ট ও ইট দিয়ে ভবনের ভিত্তি (Foundation) নির্মাণ করতে দেখা যায়।
জনস্বার্থে হুমকি:
স্থানীয় বাসিন্দারা উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, নদীটি এক সময় এই অঞ্চলের কৃষিকাজ ও জীববৈচিত্র্যের প্রধান উৎস ছিল। অবৈধভাবে দখল ও স্থাপনা নির্মাণের ফলে নদীর স্বাভাবিক গতিপথ রুদ্ধ হচ্ছে। এর ফলে বর্ষায় জলাবদ্ধতা এবং শুষ্ক মৌসুমে ভয়াবহ পানি সংকটের আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রশাসন এখনই কঠোর না হলে একজন দখলদারকে দেখে ভবিষ্যতে আরও অনেকেই নদী দখলে উৎসাহিত হবে।
অদ্ভুত দাবি ও প্রশাসনের বক্তব্য:
অভিযুক্ত জিয়া ফকির নদী দখলের কথা স্বীকার করে এক অদ্ভুত দাবি করেছেন। তিনি জানান, তহশিলদার কাজ বন্ধ করতে বললেও পরে স্কুলের এক শিক্ষকের মৌখিক আশ্বাসে তিনি ফের কাজ শুরু করেন। তবে উপজেলা প্রশাসন এই অভিযোগ কঠোরভাবে নাকচ করে দিয়েছে।
সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, “এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না এবং কাউকে কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি। মাত্র বিষয়টি জানতে পারলাম। দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য এসিল্যান্ডকে জানানো হচ্ছে।”
অন্যদিকে, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মামুন সরকার স্পষ্ট জানিয়েছেন, নদীর জায়গায় ভবন নির্মাণের কোনো আইনগত সুযোগ নেই। বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদসহ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।





















